Published : 07 May 2026, 02:37 PM
চিকিৎসা কর্মী ও হামাসের কর্মকর্তাদের জানানো তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি আকাশ হামলায় গাজাজুড়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে।
বুধবারের এসব হামলার একটিতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের শীর্ষ এক আলোচকের ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে। তার অবস্থা সংকটজনক বলে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে হামাসের সূত্রগুলো।
তারা জানান, গাজার নির্বাসিত হামাস প্রধান ও ইসরায়েলের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় নেতৃত্বদানকারী খলিল আল-হায়ার ছেলে আজম আল-হায়া গাজা সিটিতে ইসরায়েলি এক হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে। এ হামলায় আরেকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
ইসরায়েল এ পর্যন্ত তিনবার খলিল আল-হায়াকে হত্যার চেষ্টা করেছে। এসব হামলায় হায়া ইতোমধ্যে তার তিন ছেলেকে হারিয়েছেন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে গাজায় চালানো হামলায় দুই ছেলেকে হারান। আর গত বছর কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েল হামাসের পুরো নেতৃবৃন্দকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, এই হামলায় হায়ার তৃতীয় সন্তান নিহত হন।
হামাস কর্মকর্তা ও হায়ার সহযোগী তাহের আল-ননো এক ফেইসবুক পোস্টে বলেছেন, “আজম খলিল আল-হায়াকে লক্ষ্য করে করা গোলাবর্ষণ নৈতিক ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের চরম পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করে। এসব গোলাবর্ষণ ও হত্যা শুধু ওই আলোচনাকারীকে তার জনগণের অধিকার ও স্বাধীন ইচ্ছার সমর্থনে তার অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে তুলবে।”
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
একইদিন এর আগে ইসরায়েলের আরও দুটি আকাশ হামলায় আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়। তাদের মধ্যে হামাস পরিচালিত পুলিশ বাহিনীর একজন কর্নেল আছেন বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
চিকিৎসা কর্মীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের আকাশ হামলায় খান ইউনিসের মাদকবিরোধী বাহিনীর প্রধান নাসিম আল-কালাজানি নিহত হন। নগরীর পশ্চিম পাশের আল-মাওয়াসি এলাকায় কালাজানির গাড়ি লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। এতে আরও ১৭ জন আহত হয়।
রয়টার্স এর আগে জানিয়েছিল, গাজার হামাস পরিচালিত পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল।
বার্তা সংস্থাটি লিখেছে, গাজা ভূখণ্ডের যে এলাকাগুলো হামাসের নিয়ন্ত্রণে আছে সেখানে অবস্থান জোরদার করার জন্য ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি নিজেদের পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, তারা আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি আক্রমণ পরিচালনা করেছে। এ হামলায় হামাসের এক সশস্ত্র কর্মীকে লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। তবে অন্য হামলাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি তারা।