Published : 20 Jul 2026, 02:16 PM
প্রবাসীদের জন্য প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর সরকারি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ার দেশ বাহরাইনে বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আগামী অগাস্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের এই পদক্ষেপকে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছেন বাহরাইনের বিভিন্ন খাতে কর্মরত বাংলাদেশিরা।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ‘প্রবাসী ডেবিট কার্ড’ দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা ডুয়াল কারেন্সি সুবিধা, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন বুথ ও লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
সরকারি এই ঘোষণা আসার পর পারস্য উপসাগরের তীরের দেশ বাহরাইনের মানামা ও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মরত প্রবাসীরা তাদের প্রত্যাশা ও সন্তুষ্টির কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম রাউজানের উরথির চর এলাকার বাসিন্দা এবং বাহরাইনের একটি কার ওয়াশ কোম্পানিতে কর্মরত প্রবাসী মোহাম্মদ কামাল হোসেন এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, “এটি শুধু একটি কার্ড নয়, বরং প্রবাসীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মানের প্রতীক। বহু বছর ধরে আমরা এমন একটি উদ্যোগের অপেক্ষায় ছিলাম।”
একইভাবে চট্টগ্রাম সন্দীপের বাসিন্দা ও একটি রেন্ট-এ-কারে কর্মরত প্রবাসী আব্দুল কাদের বিগত সময়গুলোর তুলনা টেনে জানান, “স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় এলেও প্রবাসীদের জন্য এমন সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্তে আমরা আনন্দিত এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই।”
এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও সেবা প্রাপ্তি সহজতর হবে বলে মনে করছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও। কুমিল্লা চান্দিনার বাসিন্দা সোলাইমান, যিনি মানামা সেন্ট্রাল মার্কেট থেকে সবজি সংগ্রহ করে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করেন, তিনি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “বর্তমান সরকার আমাদের মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব প্রবাসীদের সঠিক মূল্যায়ন করেছে।”
সরকারি তথ্যমতে, কার্ডধারী প্রবাসীরা সরকারি হাসপাতালে বিশেষ বুথ ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় ছাড় পাবেন। এছাড়া বিমানে যাতায়াত ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ডিসকাউন্টসহ বিমা সুবিধা এবং কার্ডধারীর অকাল মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় লাশ পরিবহনের মতো সুবিধাও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এই কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
প্রবাসীরা রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্টের মাধ্যমে ক্রেডিট স্কোরিং ও সহজ শর্তে ঋণের সুবিধাও পাবেন। এছাড়া জমি রেজিস্ট্রেশন, এনআইডি ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবায় কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বাহরাইনে বসবাসকারী মোট প্রবাসী বা অভিবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী প্রায় ১ দশমিক ৩ লাখ। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শ্রমিক এবং তারা দেশটির বেসরকারি খাতে কর্মরত। প্রবাসীদের প্রত্যাশা, এই কার্ড কেবল একটি পরিচয়পত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও হয়রানি বন্ধে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।