Published : 16 Jun 2025, 01:53 AM
ইসরায়েলে আবার হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি জানিয়েছে, ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব, হাইফা ও অন্যান্য নগরীতে আঘাত হেনেছে একের পর এক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন।
ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর ভেদ করে গেছে বলে খবরে দাবি করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
ইরানের এই হামলার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ইরানে শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে।
রোববার ইরানের হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের পুলিশ জানায়, জরুরি সেবা বিভাগ তেল আবিবের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর নগরী হাইফার একটি বসতিতে অস্ত্র আঘাত হানার খবর পেয়েছে।
এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে সম্পত্তির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
হাইফা থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে রাতের আকাশে ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স হাইফায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়া এবং বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী ইরান থেকে নতুন করে আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার পর ইসরায়েলি নাগরিকদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানায়। হামলায় আহত দুইজনকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।
ওদিকে, ইসরায়েলের হামলাও থেমে নেই। ইরানের বিভিন্ন নিশানায় লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলও।
দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন,“ইসরায়েলের অস্তিত্বে হুমকি দূর করতে তার সরকার প্রয়োজনীয় সব কিছুই করবে।”
ইরানে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর অভিযান দেশটির শাসনক্ষমতা পরিবর্তনেরই চেষ্টা কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “শাসক পরিবর্তন অবশ্যই এই অভিযানের ফল হতে পারে। কারণ ইরানের শাসনব্যবস্থা এখন অত্যন্ত দুর্বল।”
ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীতে লোকজন তেমন নেই এবং দেশটির জনগণের ৮০ শতাংশই সরকারকে উৎখাত করতে চায় বলেও নেতানিয়াহু দাবি করেন।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এর আগে বলেছিল, ইরানে তাদের অভিযানের লক্ষ্য শাসন পরিবর্তন করা নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নির্মূল করা।
তবে ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট’ প্রোগ্রামে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা দুটি লক্ষ্য হাসিল করতে যা কিছু করা প্রয়োজন তা করতে প্রস্তুত। আর তা হল: অস্তিত্বে হুমকি দূর করা এবং পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি দূর করা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নিজেদেরকে বাঁচাতে অভিযান শুরু করেছি। কিন্তু আমি মনে করি কেবল আমাদের নিজেদেরকেই বাঁচানো নয়, বরং বিশ্বকে এই অগ্নিগর্ভ শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে সুরক্ষিত রাখার পদক্ষেপ নিয়েছি।
“আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক শাসকগোষ্ঠীর হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র থাকতে দিতে পারি না,” বলেন নোতানিয়াহু।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আগেই জানিয়েছিলেন, তাদের সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। তিনি একইসঙ্গে ইরানি জনগণকেও দেশটির ‘ইসলামি শাসকদের’ বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।