Published : 16 May 2026, 12:49 PM
যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর পরিচালিত এক অভিযানে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার রাতে ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আজ রাতে, আমার নির্দেশনায়, সাহসী আমেরিকান সেনা ও নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীকে নির্মূলে খুব যত্নসহকারে পরিকল্পিত ও খুবই জটিল এক অভিযান নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছে।
“আইএসআইএসের বৈশ্বিক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি ভেবেছিলেন তিনি আফ্রিকায় লুকিয়ে থাকতে পারবেন, কিন্তু তিনি জানতেনই না যে আমাদের সূত্ররা তিনি কী করছেন সে বিষয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত খবর দিয়ে গেছে।”
মিনুকিকে হত্যার খবর দিলেও কোথায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে সে বিষয়ে ট্রাম্প তার পোস্টে কিছু লেখেননি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, নাইজেরিয়ার নাগরিক আল-মিনুকিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২০২৩ সালে ‘বিশেষ তালিকাভুক্ত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ তকমা দিয়েছিল।
নাইজেরিয়ার উত্তরপশ্চিমে ইসলামপন্থি জঙ্গিদের হামলা থেকে খ্রিষ্টানদের রক্ষায় আফ্রিকার দেশটি ব্যর্থ বলে ট্রাম্প এর আগে অভিযোগ করেছিলেন। শুক্রবার অবশ্য তিনি মিনুকিকে হত্যায় পরিচালিত অভিযানে অংশ নেওয়ায় নাইজেরিয়ার সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।
নাইজেরিয়া বলছে, তারা কোনো ধর্মকেই আলাদা চোখে দেখে না এবং তাদের নিরাপত্তা বাহিনী খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের ওপর হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিশানা করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে নাইজেরিয়ায় আইএস-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছিল। পরে তারা নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীকে গোয়েন্দা সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দিতে দেশটিতে ড্রোন ও ২০০ সেনাও মোতায়েন করে।
এ মার্কিন সেনারা কেবল সহায়তা করছে, কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না বলে এ বছরের শুরুতে জানিয়েছিলেন আফ্রিকার দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা।
পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে আইএস এবং আরেক জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়েদা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী বেশ সক্রিয়, তারা দেশগুলোর সরকার উৎখাত করে সেখানে শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা চালু করতে চায়। এদের বিরুদ্ধে লড়তে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক পশ্চিমা সরকার ও রাশিয়া বিভিন্ন দেশকে সহায়তা করছে।