১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘জটিল অভিযানে’ গাজার টানেল থেকে জিম্মি উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলি বাহিনীর

গত বছরের অক্টোবরে হামাসের আক্রমণের সময় ইসরায়েলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে কাইদ ফারহান আলকাদিকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

‘জটিল অভিযানে’ গাজার টানেল থেকে জিম্মি উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলি বাহিনীর
হাসপাতালে উদ্ধার পাওয়া ইসরায়েলি জিম্মি কাইদ ফারহান আলকাদি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Aug 2024, 10:39 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:16 PM

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের স্পেশাল ফোর্সেস গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ‘জটিল এক উদ্ধার অভিযান’ চালিয়ে একটি টানেল থেকে একজন ইসরায়েলি জিম্মিকে উদ্ধার করেছে। 

গত বছরের অক্টোবরে হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তাকে ধরে এনে ১০ মাসেরও বেশি সময় জিম্মি করে রেখেছিল বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

রয়টার্স জানায়, কাইদ ফারহান আলকাদি (৫২) ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের এক বেদুঈন সম্প্রদায়ের সদস্য। তিনি গাজা সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি এক কিব্বুতজে নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। 

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি জানিয়েছেন, আলকাদিকে ভূগর্ভস্থ একটি টানেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

কিন্তু গাজায় রয়ে যাওয়া অপরাপর জিম্মি ও ইসরায়েরি বাহিনীর ‘নিরাপত্তার’ কথা উল্লেখ করে হাগারি অভিযান নিয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানাননি। 

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, আলকাদিকে যেখানে পাওয়া গেছে সেনারা সেখানে হামাস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিল। তারা একটি জটিল ভূগর্ভস্থ টানেলে ঢুকে খোঁজাখুঁজি করছিলেন। টানেল সিস্টেমটিতে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ও বিস্ফোরক থাকতে পারে এবং পাশাপাশি জিম্মিদের আটকে রাখা হতে পারে বলে সন্দেহ করছিলেন তারা। 

এই কর্মকর্তা বলেন, “সেনারা আলকাদিকে যখন পায় তখন সে একাই ছিল। তারা টানেল থেকে তাকে উদ্ধার করে। আগের ঘটনাগুলো থেকে এবং উদ্ধার পাওয়া জিম্মিদের দেওয়া তথ্য থেকে যা জানাবুঝা গেছে তা এই অভিযানের প্রস্তুতির অংশ ছিল।” 

ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোকে আলকাদি বলেছেন, তিনি প্রায় আট মাস ধরে সূর্যের আলো দেখেননি আর তার সঙ্গে দুই মাস ধরে আরেক যে জিম্মি ছিল তিনি তার ‘পাশেই মারা যান’। 

উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করার পর ইসরায়েলের টেলিভিশন স্টেশনগুলো এক হাসপাতালে একটি সামরিক হেলিকপ্টার নামছে এমনটি দেখায়, সেখানে হাসপাতালটির কর্মীরা ও অ্যাম্বুলেন্স অপেক্ষা করে ছিল।  

চ্যানেল ১২ টেলিভিশনকে আলকাদির ভাই হাতেম আলকাদি বলেন, “সে ভালো অবস্থায় আছে। এখন তাকে বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।” 

তিনি জানান, তার ভাই বন্দি অবস্থায় অনেক ওজন হারিয়েছেন।  

হাসপাতালে এক স্বজনের সঙ্গে কথা বলছেন কাইদ ফারহান আলকাদি। ছবি: রয়টার্স 

হাসপাতালে এক স্বজনের সঙ্গে কথা বলছেন কাইদ ফারহান আলকাদি

“প্রথম কথা হচ্ছে, আমরা তাকে দেখে ও জীবিত পেয়ে খুব খুশী। তিনি তার সন্তানদের ও মা’কে দেখতে চেয়েছেন,” বলেছেন তিনি। 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি আলকাদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। 

যেসব সেনারা তাকে উদ্ধার করেছে নেতানিয়াহু তাদের প্রশংসা করেছেন। বাকি জিম্মিদের ছাড়িয়ে আনতে ইসরায়েল ‘অক্লান্তভাবে’ কাজ করে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একদিকে আলোচনা ও অপরদিকে উদ্ধার অভিযান, এই দুই পথে ইসরায়েল এই কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।  

গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজা সংলগ্ন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে নজিরবিহীন আক্রমণ চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। তাদের আক্রমণে প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত হয়। এ সময় তারা ২৫০ জনেরও বেশি মানুষকে ইসরায়েল থেকে ধরে গাজায় নিয়ে জিম্মি করে রাখে। 

হামাসের ওই আক্রমণের সময় কিব্বুতজ মেগান থেকে আলকাদিকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।