Published : 04 Jun 2026, 12:26 AM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির ঠিক এক মাসের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙন ধরল দলটিতে। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা দল তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে ঋতব্রত নেতা হিসেবে বিধানসভায় নিয়ে গেছেন ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ককে, যারা এখন নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে।
বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার পর সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। আর সেখানেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাদের পরামর্শদাতা হিসেবে চান।
ঋতব্রত বলেন, “আমরা মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমাদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি থাকুন আমাদের পরামর্শদাতা হিসেবে। তার পরামর্শ পেলে আমরা গঠনমূলকভাবে বিরোধীদলের ভূমিকা খুব ভালোভাবে পালন করতে পারব। এ নিয়ে কোনও সংশয় নেই।”
তৃণমূল বিধায়কদের ‘সই-জালিয়াতি’র কথা স্পিকারকে লিখিত ভাবে জানানোর অপরাধে সোমবারেই ঋতব্রতসহ দলের আরেক বিদ্রোহী সন্দীপনকে বহিষ্কার করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। ৪৮ ঘণ্টা পরে দেখা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনই রয়েছে ঋতব্রত এবং সন্দীপনদের দিকে।
ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। ঋতব্রত এবং সন্দীপন ছাড়া এই চিঠিতে ৫৮ জন বিধায়কের সই আছে।
চিঠিতে কেবল বিরোধী দলনেতা নন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কারা তৃণমূলের উপদলনেতা হবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠিতে নিজেদের সভানেত্রী বলে উল্লেখ করেন বিদ্রোহীরা।
চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হন বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত। পরে অন্য বিধায়কেরাও পৌঁছোন। বিদ্রোহী বিধায়করা বিধানসভার কাউন্সিল চেম্বারে বৈঠক করেন। এরপর তারা স্পিকারের কাছে যান।
ঋতব্রত এবং তার বিদ্রোহী শিবিরের তৃণমূল বিধায়কদের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে স্পিকার নতুন বিরোধী দলনেতা এবং অন্য পদাধিকারীদের স্বীকৃতি দেন। বিরোধী দলনেতার জন্য বিধানসভার ঘর খুলে দেওয়া হয়। সেখানেই সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়করা।
নতুন বিরোধী দলনেতা হওয়ার পরে ঋতব্রত জানান, তৃণমূলের টিকিটে জয় পাওয়া দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিধানসভায় শাসক ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে লড়াই করবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পাশাপাশি, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হওয়ার আর্জি জানান ঋতব্রত। তবে মমতার ভতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাদের দূর-দূরান্তের সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি সরকারের ‘ভাল কাজ’ কে সমর্থন জানানোরও ঘোষণা দিয়েছেন ঋতব্রত।