Published : 20 Jun 2026, 10:11 AM
হঠাৎ করেই খেলা থামিয়ে মনিটর দেখতে ছুটলেন রেফারি। কোনো ফাউলের ঘটনা ছিল না বলে বোঝা যাচ্ছিল না ঠিক কি ঘটেছে। মনিটরে দেখে এসে তিনি প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরনকে বললেন, হাত দিয়ে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের একজনকে কিছু বলেছেন তিনি। এর শাস্তি লাল কার্ড।
একরাশ হতাশা নিয়ে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে মাঠ ছাড়লেন আলমিরন।
কিছু দিন আগে ফিফা নিয়ম করে, মাঠে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের কাউকে কিছু বললে শাস্তি হবে লাল কার্ড। বিশ্বকাপে এই শাস্তি প্রথম পেলেন আলমিরন।
গত ফেব্রুয়ারিতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনফিকা ও রেয়াল মাদ্রিদের ম্যাচে একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে মূলত এই আইনটি করা হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভিনিসিউস গোল করার একটু পরই ঘটনার সূত্রপাত। রেফারির কাছে ছুটে গিয়ে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। রেফারি তখন খেলা বন্ধ করে দেন। মাঠ ছেড়ে যান রেয়ালের খেলোয়াড়রা। খেলা বন্ধ থাকে ১১ মিনিট।
ভিনিসিউস ও তার সতীর্থদের অভিযোগ ছিল বেনফিকার জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে। ঘটনার সময়ের টিভি ফুটেজে দেখা যায়, জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কিছু একটা বলছেন আর্জেন্টাইন উইঙ্গার। সেই কথা শুনেই তেতে ওঠেন ভিনিসিউস ও আশেপাশে থাকা তার সতীর্থরা। ম্যাচের পর কিলিয়ান এমবাপের অভিযোগ করেন, জার্সিতে মুখ ঢেকে ভিনিসিউসকে পাঁচবার বানর বলেছেন প্রেস্তিয়ান্নি।
ওই ঘটনায় তুমুল তোলপাড় পড়ে যায়। প্রেস্তিয়ান্নিকে প্রাথমিকভাবে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। তিনি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তদন্তের পর তাকে ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলেও তাকে রাখা হয়নি।
ওই ঘটনার প্রেক্ষিতেই ফিফা আইন করে, মুখ ঢেকে রেখে কিছু বলা যাবে না। 'প্রেস্তিয়ান্নি আইন' নামেই এখন তা পরিচিত পেয়ে গেছে।
বিশ্বকাপের 'ডি' গ্রুপের ম্যাচটিতে প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাঝমাঠে জটলার মধ্যে তুরস্কের মেয়ার্ত মুলদুরকে কিছু একটা বলেন আলমিরন। কথা বলার আগে তিনি হাত দিয়ে মুখ আড়াল করে নেন। সেটা করতে দেখেই রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মুলদুর।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়া প্যারাগুয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে।