Published : 11 Jan 2024, 01:51 PM
আইফোন বিক্রি কমে আসায় সম্প্রতি ধস নেমেছে অ্যাপলের শেয়ারমূল্যে। আর এতে করে অস্তিত্বের মুখে পড়েছে অ্যাপলের বিশ্বের সবচেয়ে দামী কোম্পানির তকমা। সিলিকন ভ্যালি’র এই হেভিওয়েট কোম্পানিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে আরেক প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট।
আইফোনের চাহিদা কমে আসায় এ বছর এখন পর্যন্ত অ্যাপলের শেয়ারমূল্য কমেছে চার শতাংশ। আর ২০২৩ সালে কোম্পানিটির শেয়ারমূল্য বেড়েছিল ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে মাইক্রোসফটের শেয়ারমূল্য বেড়েছে দুই শতাংশ। এ ছাড়া, গত বছরও নিজেদের শেয়ারমূল্য ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে দেখেছে সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানিটি।
গেল বুধবার অ্যাপলের শেয়ারমূল্য শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমেছে, অপর দিকে মাইক্রোসফটের বেড়েছে এক দশমিক ছয় শতাংশ। ফলে, কোম্পানি দুটির বাজারমূল্যের ব্যবধানও কমে এসেছে।
বর্তমানে অ্যাপলের বাজারমূল্য দুই লাখ ৮৬ হাজার ছয়শ কোটি ডলার। আর দুই লাখ ৮৩ হাজার সাতশ কোটি ডলার বাজারমূল্য নিয়ে আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে মাইক্রোসফট।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর তিন লাখ আট হাজার একশ কোটি ডলার বাজারমূল্য নিয়ে নিজস্ব বাজারমূল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল অ্যাপল। মাইক্রোসফটের বেলায় তা ঘটেছিল ২৮ নভেম্বর, যখন কোম্পানির বাজারমূল্য গিয়ে পৌঁছায় দুই লাখ ৮৪ হাজার চারশ কোটি ডলারে।
এ সপ্তাহে বিনিয়োগ কোম্পানি জেফ্রিস-এর বিশ্লেষণে উঠে আসে, ২০২৪ সালের প্রথম সপ্তাহে চীনে আইফোন বিক্রি কমেছে ৩০ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হুয়াওয়ের মতো স্থানীয় কোম্পানির দিক থেকে চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এমনটি ঘটেছে আইফোনের কপালে।
এদিকে, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মিক্সড রিয়ালিটি হেডসেট ‘ভিশন প্রো’ বিক্রি শুরু করছে অ্যাপল, যেটিকে ২০০৭ সালে আইফোন উন্মোচনের পর থেকে অ্যাপলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য উন্মোচন হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। তবে, সোমবার জুরিখের বিনিয়োগ কোম্পানি ইউবিএস-এর প্রকাশিত অনুমান বলছে, এ বছর ভিশন প্রো বিক্রির ‘তেমন প্রভাব’ থাকবে না অ্যাপলের শেয়ারমূল্যে।
২০১৮ সালের পর থেকে বেশ কয়েকবার অ্যাপলের কাছ থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দামী কোম্পানির খেতাব কেড়ে নিতে দেখা গেছে মাইক্রোসফটকে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ছিল ২০২১ সালে, যখন কোভিড মহামারীর কারণে আইফোনের সরবরাহ চেইনে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। আর এর প্রভাব পড়েছিল অ্যাপলের শেয়ারমূল্যে।
উভয় কোম্পানির প্রত্যাশিত আয়ের চেয়ে শেয়ারমূল্য বেশি। ‘পাব্লিকলি লিস্টেড কোম্পানি’ বা ‘পিএলসি’ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা শেয়ারবাজারে ‘প্রাইস-টু-আর্নিং রেশিও’ বা ‘পিই’ নামে পরিচিত।
লন্ডনভিত্তিক বিনিয়োগ কোম্পানি ‘এলএসইজি’র তথ্য অনুসারে, বর্তমানে অ্যাপলের পিই রেশিও ২৮, যেখানে গত ১০ বছরে কোম্পানির গড় পিই রেশিও ছিল ১৯-এর কিছু বেশি। অন্যদিকে, বর্তমানে মাইক্রোসফটের পিই রেশিও প্রায় ৩১, যেখানে গত দশ বছরে গড় পিই রেশিও ছিল ২৪।
গেল নভেম্বরে অ্যাপলের সবচেয়ে সাম্প্রতিক হিসাবে উঠে আসে, বছরের শেষ প্রান্তিকে কোম্পানি পণ্য বিক্রি নিয়ে যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, তা ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, যার উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছে কোম্পানির আইপ্যাড ও পরিধানযোগ্য পণ্যের চাহিদায় ভাটা।
এলএসইজি’র বিশ্লেষকদের মতে, ডিসেম্বরের প্রান্তিকে অ্যাপলের আয় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ বেড়ে গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ১১ হাজার সাতশ কোটি ডলারে। এর আগের চার বছরের একই প্রান্তিকের হিসাবে কোম্পানির আয়বৃদ্ধির প্রথম ঘটনা এটি। আসন্ন পয়লা ফেব্রুয়ারি নিজেদের প্রান্তিকের হিসাব প্রকাশ করবে আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি।
বিশ্লেষকদের অনুমান বলছে, গেল প্রান্তিকে মাইক্রোসফটের আয় ১৬ শতাংশ বেড়ে গিয়ে ঠেকতে পারে ছয় হাজার ১১০ কোটি ডলারে, যেখানে পেছন থেকে ভূমিকা রেখেছে কোম্পানির ক্লাউড ব্যবসার অগ্রগতি। রয়টার্স বলছে, আসন্ন সপ্তাহগুলোয় কোম্পানিটির আর্থিক আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।