লন্ডনে অ্যাপলের মিউজিক হল চালু, থাকছে ‘স্পেইশল অডিও’ রেকর্ডিং
প্রত্যাশিতভাবেই এটা বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ভেন্যু, যেখানে রয়েছে ৪৮টি স্পিকার, ১৬টি ক্যামেরা পয়েন্ট ও ‘স্পেইশল অডিও’ লাইভ-রেকর্ডিংয়ের সুব্যবস্থা।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নিজস্ব কার্যালয়ে স্পেইশল অডিও ও মাল্টি-ক্যামেরা রেকর্ডিং সুবিধাসহ সম্পূর্ণ নতুন এক লাইভ কনসার্ট ভেন্যু চালু করেছে আইফোন নির্মাতা কোম্পানি অ্যাপল।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত নিজেদের প্রধান কার্যালয় ব্যাটারসি পাওয়ার স্টেশনে নতুন ‘অ্যাপল মিউজিক হল’ নামের লাইভ কনসার্ট ভেন্যুটি চালু করেছে অ্যাপল, যা কনসার্ট ও রেকর্ডিংয়ের উপযোগী করে বিশেষভাবে তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
অ্যাপল বলেছে, ‘অ্যাপল মিউজিক হল’কে ‘ঘরোয়া ও খোলামেলা কনসার্ট হল’ হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে দাঁড়িয়ে বা বসে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৬০০ জন দর্শক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।
প্রত্যাশিতভাবেই এটা বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ভেন্যু, যেখানে রয়েছে ৪৮টি স্পিকার, ১৬টি ক্যামেরা পয়েন্ট ও ‘স্পেইশল অডিও’ লাইভ-রেকর্ডিংয়ের সুব্যবস্থা।
অ্যাপলের অ্যাপল মিউজিক ও ইন্টারন্যাশনাল কনটেন্টের ভিপি অলিভার শুসার বলেছেন, “আজ অ্যাপল মিউজিক হল উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা শিল্প ও শিল্পীদের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিতে আবারও এক বিস্ময়কর পদক্ষেপ নিলাম। অ্যাপল যেভাবে পারে সেভাবেই লাইভ মিউজিককে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছি আমরা।”
অ্যাপল বলেছে, নতুন ভেন্যুটির অভ্যন্তরীন নকশায় ব্যাটারসি পাওয়ার স্টেশনের প্রচলিত স্থাপত্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর ভেতরে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ইটের কাজ, খাঁজকাটা আর্চ ও ব্রোঞ্জের তৈরি ব্যালকনি, যা চমৎকার কাঁচের দেওয়ালের সঙ্গে সংযুক্ত।
ভেন্যুর মূল ও ব্যালকনির আসনগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে দর্শকরা শিল্পীদের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ অনুভব করতে পারেন।
এ ছাড়া, ৩৮ ফুট চওড়া মঞ্চটিকে সামনের দিকে সেট করার পাশাপাশি চারপাশ থেকে উপভোগ করার মতো ‘ইন-দ্য-রাউন্ড’ অভিজ্ঞতার জন্যও যে কোনো সময় পরিবর্তন করা সম্ভব।
যারা সরাসরি লাইভ শোতে উপস্থিত হতে পারেন না তাদের কথা মাথায় রেখেও ভেন্যুটির নকশা করেছে অ্যাপল।
‘ডলবি অ্যাটমস’ প্রযুক্তিসম্পন্ন ৪৮টি স্পিকারের স্পেইশল অডিও সাউন্ড সিস্টেম, ১৬টি ক্যামেরা মাউন্টিং পয়েন্ট ও পূর্ণাঙ্গ এক লাইভ স্ট্রিমিং সুবিধার সুবাদে এ হল থেকে বিশ্বজুড়ে উচ্চমানের লাইভ মিউজিক ও ভিডিও সম্প্রচার করা সম্ভব।
অ্যাপল বলেছে, ভেন্যুটিতে দুটি ডেডিকেটেড রেকর্ডিং ও মিক্স স্টুডিও রয়েছে, যার মাধ্যমে পরিবেশন সরাসরি বা পরে ‘মাল্টিট্র্যাক রেকর্ডিং’-এর মাধ্যমে স্পেইশল অডিওতে মিক্স করা যাবে।
ভিডিওর জন্য রয়েছে বিশেষ এক উদ্দেশ্যে তৈরি ব্রডকাস্ট কন্ট্রোল রুম, যাতে ‘আইফোন ভিডিও ক্যাপচার’ ও ধারণা করা যায় যে অন্যান্য উচ্চমানের ক্যামেরা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো রয়েছে।
ব্যান্ড ও কলাকুশলীদের জন্য ব্যাটারসি পাওয়ার স্টেশনের শপিং ও ডাইনিং সুবিধার দৃশ্যওয়ালা হাই-এন্ড ড্রেসিং রুম থাকায় তা সংগীতশিল্পীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
এ নতুন ভেন্যু থেকে অ্যাপল নিজেই সবচেয়ে বেশি লাভবান হলেও উদীয়মান বা নবাগত শিল্পীরাও সমানভাবে উপকৃত হবেন।
অলিভার শুসার বলেছেন, “ছোট শিল্পীদের সাহায্য করা ও তাদের এমন এক জায়গা দেওয়া আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে ও যা পুরোপুরি প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে সুবিধার।
“আপনি এখানে এসে সাক্ষাৎকার দিতে, ছবি ও সামাজিক মাধ্যমে কাজ শেষ করতে, শো করতে, বিশ্বজুড়ে তা সম্প্রচার এবং এর থেকে উচ্চমানের এক স্পেইশল অডিও রেকর্ডিং পাবেন। শিল্পীদের দুর্দান্ত কাজ করার জন্য এটা চমৎকার সেটআপ।”
