০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

‘ঝড় তুলেছে’ বিটিএস, কোথায়?

সান্তিয়াগোতে সাময়িকভাবে একটি সড়কের নাম রাখা হয় ‘অ্যাভেনিদা বিটিএস’।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Nov 2026, 02:18 PM

Updated : 06 Nov 2026, 02:18 PM

জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস তাদের দক্ষিণ আমেরিকা সফর শেষ করেছে। ‘অ্যারিরাং’ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের অংশ হিসেবে পাঁচটি শহরে ১৪টি কনসার্ট করেছে জিন, সুগা, জে-হোপরা।

দ্য কোরিয় টাইমস জানিয়েছে, এসব কনসার্টে দর্শক ছিলেন ৮ লাখ ৫৩ হাজার। গত ২৮, ৩০ ও ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলের সাও পাওলোর মোরুম্বি স্টেডিয়ামে তিনটি কনসার্টের মধ্য দিয়ে এই সফর শেষ করে বিটিএস।

সবকটি কনসার্টের টিকেট বিক্রি হয়েছিল আগেই।

দক্ষিণ আমেরিকায় বিটিএস তাদে সফর শুরু করে গেল গত ২ অক্টোবর কলম্বিয়ার বোগোতা থেকে। এরপর দলটি পেরুর লিমা, চিলির সান্তিয়াগো ও আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস ঘুরে ব্রাজিলে পৌঁছায়।

কনসার্টে বিটিএসের পঞ্চম অ্যালবাম ‘অ্যারিরাং’-এর গানগুলোর পাশাপাশি ‘ফেক লাভ’, ‘নট টুডে’, ‘মাইক ড্রপ’, ‘ফায়ার’, ‘আইডল’, ‘বাটার’ ও ‘ডাইনামাইট’ গানগুলোও পরিবেশন করেছেন।

এবারের ট্যুরে তাদের পোশাকেও ছিল বিশেষ চমক। ব্রাজিলের ফুটবল জার্সি পরে মঞ্চে ওঠেন সদস্যরা। জিন ও আরএমের মাথায় ব্রাজিলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পালকের মুকুট দেখা যায়।

সাও পাওলোর শেষ কনসার্টে দক্ষিণ আমেরিকার দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে জে-হোপ।

এই তরুণ তারকা গায়ক কললেন, দক্ষিণ আমেরিকা তাদের কাছে সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সফরগুলোর একটি ছিল।

“কারণ, এখানে আপনাদের সঙ্গে আমাদের খুব বেশি দেখা হয় না। আসার আগেই এখানে পারফর্ম করার জন্য আমরা ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিলাম। অনেক প্রত্যাশাও ছিল। আপনারা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভালোবাসা দিয়েছেন।”

ভবিষ্যতে আবার দক্ষিণ আমেরিকায় ফেরার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন সদস্যরা।

আরেক সদস্য জিমিন বলেন, “এত দিন আমাদের জন্য অপেক্ষা করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমরা সবাই খুব আনন্দিত ছিলাম। দক্ষিণ আমেরিকার এই সফর আমাদের কাছে দারুণ এক স্মৃতি হয়ে থাকবে।”

জিমিনের কথায়, পৃথিবীর অন্য প্রান্তের এত মানুষের ভালোবাসায় তারা বিস্মিত।

“এই স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নেব এবং আবার ফিরব।”

বিটিএসের জন্য এবারের সফর ছিল বিশেষ। কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনায় গ্রুপটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ কনসার্ট এটি। এ ছাড়া চিলিতে ৯ বছর এবং ব্রাজিলে ৭ বছর পর কনসার্ট করেছে বিটিএস।

গ্রুপটির সফর ঘিরে শহরগুলোতেও ছিল নানা আয়োজন। সাংস্কৃতিক প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে বোগোতা ও বুয়েনস এইরেসে বিটিএসকে সম্মানিত অতিথি ঘোষণা করা হয়। সান্তিয়াগোতে সাময়িকভাবে একটি সড়কের নাম রাখা হয় ‘অ্যাভেনিদা বিটিএস’।

এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আলোকিত করা হয় গ্রুপটির প্রতীকী রং বেগুনিতে।

দক্ষিণ আমেরিকা সফর শেষে এবার এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় কনসার্ট করার কথা রয়েছে বিটিএসের। ১৯ নভেম্বর তাইওয়ানের কাওশিয়ুংয়ে শুরু হবে এই পর্ব।

এরপর ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় কনসার্ট করবে গ্রুপটি। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও সিডনিতে পারফর্ম করার কথা রয়েছে তাদের।

গেল এপ্রিল থেকে গান নিয়ে বিশ্ব সফরে বের হয়েছে বিটিএসের সাত সদস্য আর এম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জাংকুক।

সফর চলবে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত। এই সফরের নাম ‘আরিরাং’। কথা ছিল বিশ্বের ৩৪টি শহরে মোট ৭৯টি কনসার্ট করবে বিটিএস। পরে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৮টি। বিটিএসের ইউরোপ পর্বের শেষ আয়োজন ছিল প্যারিসের এই কনসার্ট।

কেবল বিশ্ব সফর নয় চলতি বছরে গানের নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করেছে বিটিএস। ২০২২ সালে লাস ভেগাসে বিটিএস এর শেষ শো ছিল ‘বিটিএস পারমিশন টু ড্যান্স অন স্টেজ’। এরপর আর কোনো ট্যুরে পাওয়া যায়নি দলটিকে।

অ্যালবাম ও ট্যুর নিয়ে দীর্ঘ বিরতির কারণ হল, এই চার বছরে আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জাংকুককে যেতে হয়েছিল সামরিক প্রশিক্ষণে। যা দেশটির তরুণদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক।

এই চারবছরে তারা যে একেবারে আড়ালে ছিলেন তা নয়। কেউ কেউ একক গান প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বিটিএসের দলগত উপস্থিতি ছিল না। গেল বছর প্রশিক্ষণ শেষে দলের সব সদস্য দলে ফেরেন। আর নতুন অ্যালবাম ও বিশ্ব সফরের কথা জানিয়ে দেন।