Published : 13 Jun 2026, 11:58 AM
‘মেইড ইন আমেরিকা’ বা আমেরিকায় তৈরি বলে প্রচার করা বহুল আলোচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মোবাইল কোম্পানির তৈরি ফোনটি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় ৫০০ ডলার মূল্যের ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ নামের ফোনটি আসলে নতুন কিছু নয়, বরং হুবহু ‘এইচটিসি ইউ২৪ প্রো’ মডেলের ফোনেরই ভিন্ন চেহারা।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, বাহ্যিক কিছু জমকালো পরিবর্তন ছাড়া দুটি ফোনের মূল চিপসেট ও ভেতরের সব প্রযুক্তি একই। ফোনটির সিংহভাগ যন্ত্রাংশই চীন থেকে আনা ও সেখানেই এর নকশা করা হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।
এনবিসি নিউজের সংগ্রহ করা ফোনটি নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে গ্যাজেট সারাইকারী এক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘আইফিক্সইট’।
তাদের সিদ্ধান্ত, ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ ও ‘এইচটিসি ইউ২৪ প্রো’ ফোনের মধ্যে আসল পার্থক্য কেবল দুটি জায়গায়। ট্রাম্প ফোনের ব্যাটারির সক্ষমতা কিছুটা বেশি, ৬০ ওয়াটের বদলে ৩০ ওয়াট চার্জিং সাপোর্ট এবং এর বাইরের দিকটায় রয়েছে জমকালো সোনালী রঙের প্রলেপ।
এসব ছাড়া বাকি ফোন দুটির পরিবর্তন খুবই সামান্য ও বাহ্যিক। যেমন, পেছনের ক্যামেরাগুলো একটু ভিন্নভাবে বসানো হয়েছে ও স্পিকারের ছিদ্রগুলোর নকশায় কিছুটা বদল এসেছে।
ফোনের ভেতরের প্রধান চিপসেট, যেমন স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৩ প্রসেসর, ১২ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ সম্পূর্ণ এক। তবে ট্রাম্প ফোনে ব্যবহৃত মেমোরি বোর্ডটি তৈরি করেছে ‘মাইক্রন’ কোম্পানি, যেখানে এইচটিসি ইউ২৪ প্রো ফোনে ব্যবহৃত হয়েছে ‘এসকে হাইনিক্স’ কোম্পানির মেমোরি বোর্ড।
শুরুর দিকে ‘ট্রাম্প মোবাইল’ দাবি করেছিল, তাদের এ ফোনটি ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’। তবে এখন তারা জোর দিয়ে বলছে, ডিভাইসটিতে রয়েছে ‘আমেরিকানদের জন্য গর্বের নকশা’। তবে এ কথার আসল মানে আসলে কী তা স্পষ্ট নয়।
কোম্পানিটির দাবি, টি১ ফোনটি ‘আমেরিকান উদ্ভাবনের আদলে গড়া’ এবং তা তৈরির সময় ‘আমেরিকান মূল্যবোধের কথা মাথায় রাখা হয়েছে’। তবে কাগজে-কলমে যতই ‘গর্বিত আমেরিকান’ বলে প্রচার করা হোক না কেন ফোনটি নিশ্চিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নয় তা স্পষ্ট।
বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, একটি ফোনের সব যন্ত্রপাতি বা যন্ত্রাংশ সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে তৈরির মতো কোনো উৎপাদন ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। ফলে ট্রাম্প মোবাইল এখন সুর বদলে বলছে, তাদের তৈরি ফোন ‘গর্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সংযোজন করা হয়েছে’।
তাদের এমন বক্তব্য থেকে আভাস মেলে, দেশের ভেতরের একটি দল কেবল বাইরে থেকে আনা আনুমানিক ১০টির মতো যন্ত্রাংশ একসঙ্গে জোড়া দেওয়ার কাজটি করেছে।
৪৯৯ ডলার মূল্যের এ ট্রাম্প ফোনের ব্যাটারিটি ফিলিপিন্সে তৈরি হলেও এর বেশিরভাগ যন্ত্রাংশই এসেছে চীন থেকে।
সব ধরনের প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আইফিক্সইট বলেছে, “নতুন ব্র্যান্ডটি বাজারে আসার পর যে অল্প সময় পেয়েছে তাতে এত কম সংখ্যায় ও ঠিক এইচটিসি ইউ২৪ প্রো-এর সমান দামে টি১ ফোনটি তৈরি করা অন্য কোথাও অসম্ভব ছিল।”
এমনটা কেবল তখনই সম্ভব যখন ফোনটি এমন কোনো কারখানায় তৈরি হয়, যেখানে আগে থেকেই এ মডেলের উপযোগী সব ধরনের যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে।
সবদিক বিবেচনা করে আইফিক্সইট এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ট্রাম্প টি১ আসলে ‘চীনে নকশা করা এবং সেখানেই তৈরি, যার প্রায় প্রতিটি যন্ত্রাংশই চীন থেকে জোগাড় করা হয়েছে’।
আরও পড়ুন…
বাজারে আসার লগ্নেই বিতর্কে ৪৯৯ ডলারের 'ট্রাম্প ফোন'
গ্রাহক তথ্য ফাঁসের পরও চুপচাপ বসে ছিল ট্রাম্পের মোবাইল কোম্পানি