Published : 25 May 2026, 03:28 PM
স্মার্টফোন বাজারে আসার আগেই বড় ধরনের কেলেঙ্কারির মুখে পড়েছে ট্রাম্প মোবাইল। এবার কোম্পানিটির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে।
প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চ প্রতিবেদনে লিখেছে, কোম্পানিটি নিজেই স্বীকার করেছে, তাদের গ্রাহকদের ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা ও ইমেইলসহ সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে ফাঁস হয়েছে। তারা এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
৪৯৯ ডলার মূল্যের এ ফোনটি কিনে যারা এরইমধ্যে প্রতারণার শিকার বোধ করছিলেন নতুন এ তথ্য ফাঁসের ঘটনা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ নামের স্মার্টফোনটি থেকে ইন্টারনেটে ফাঁস হওয়া গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে রয়েছে গ্রাহকদের ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা, ইমেইল আইডিসহ আরও অনেক কিছু।
ট্রাম্প মোবাইলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য নেই, যা কিছুটা স্বস্তির।
তবে সাধারণ গ্রাহকরা যখন নিজেরাই ইন্টারনেটে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য খুঁজে পেতে শুরু করেন তখনই কেবল এ সত্য স্বীকার করেছে কোম্পানিটি। ফলে সতর্কতা হিসেবে এখনই এ ফোনের গ্রাহকদের তাদের ব্যাংকের বিভিন্ন পাসওয়ার্ড বদলে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ট্রাম্প মোবাইল তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করলেও কোম্পানিটি এখনও সরাসরি তাদের গ্রাহকদের এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি। ৫০০ ডলার খরচ করে যারা ফোনটি কিনেছেন তারা একটি সতর্কবার্তা বা নোটিফিকেশন ইমেইল পাওয়ার যোগ্য কি না সে প্রশ্নটিই তুলেছে এনগ্যাজেট।
কোম্পানির মুখপাত্র ক্রিস ওয়াকার এ তথ্য ফাঁসের জন্য এক থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্ম সরবরাহকারীকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, প্লাটফর্মটি নাকি ‘ট্রাম্প মোবাইলের কিছু কার্যক্রম’ পরিচালনা করে। তবে সেই সরবরাহকারী কোম্পানির নামও প্রকাশ করেনি তারা।
ফলে আসলেই তেমন কোনো কোম্পানির অস্তিত্ব আছে কি না তা বলা মুশকিল! আর, ট্রাম্প মোবাইল প্রথম থেকে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্যতার পরিচয়ও দেয়নি।
ট্রাম্প ফোন প্রথমে ২০২৫ সালের অগাস্টে বাজারে আসার কথা ছিল। এরপর তা পিছিয়ে অক্টোবরে নেওয়া হয় এবং তারপর আবারও দেরি হয়। অবশেষে এ সপ্তাহে গ্রাহকেরা এসব ফোন হাতে পেতেও পারেন, আবার নাও পারেন।
ফোনগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তৈরির কথা ছিল, যা কোম্পানিটির আরেকটি প্রতারণা। আজকাল তাদের বিজ্ঞাপনে লেখা হচ্ছে, এসব ফোন ‘আমেরিকান মূল্যবোধের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে’।
সেই খাঁটি আমেরিকান মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলতে সোনালী রঙের এসব স্মার্টফোনের পেছনে আমেরিকার একটি পতাকাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানেও একটা বড় গোলমাল করেছে কোম্পানিটি।
এ বিশেষ পতাকাটিতে দাগ বা স্ট্রাইপ রয়েছে মাত্র ১১টি, অথচ আসল আমেরিকান পতাকায় থাকে ১৩টি স্ট্রাইপ। এতে বোঝায় যাচ্ছে, তাদের ‘আমেরিকান মূল্যবোধ’-এর মধ্যে ডিজাইনটি চূড়ান্ত করার আগে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নেওয়ার মতো কোনো নিয়ম ছিল না!
শুরুর দিকের বিজ্ঞাপনে এমনভাবে প্রচার করা হয়েছিল যেন ফোনটি একদম নতুনভাবে, গোড়া থেকে ডিজাইন ও তৈরি হয়েছে। তবে এটাও কোম্পানিটির বানানো গল্প বলেই মনে হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে, ‘ট্রাম্প টি১’ ফোনটি অন্য কোনো ফোনের সাশ্রয়ী এক রূপান্তর, যা হয়ত তাইওয়ানে তৈরি ‘এইচটিসি ইউ-২৪ প্রো’ বা চীনের উইংটেক কোম্পানির তৈরি ‘রেভল ৭ প্রো ৫জি’ ফোনের নতুন রূপ হতে পারে। বাজারে ‘রেভল ৭ প্রো ৫জি’ ফোন কেবল ১২৫ ডলারেই কিনতে পাওয়া যায়!
‘ট্রম্প মোবাইল’ খুব একটা লাভজনক ব্যবসা হতে পারেনি। গেল বছরের জুলাইয়ে মোবাইল ফোনের দুনিয়ায় পা রাখার ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল ‘ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’, যার নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প।
এক সময় নিজের সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ বড়াই করে ট্রাম্প বলেছিলেন, তারা প্রায় ৬ লাখ ফোনের প্রি-অর্ডার পেয়েছেন। তবে তথ্য ফাঁসের এ ঘটনা থেকে জানা গেছে, মাত্র ৩০ হাজার মানুষ শেষ পর্যন্ত ফোনটি অর্ডার করেছেন।
আরও পড়ুন…
বাজারে আসার লগ্নেই বিতর্কে ৪৯৯ ডলারের ‘ট্রাম্প ফোন’