Published : 23 May 2026, 02:44 PM
নির্ধারিত সময়ের ৯ মাস দেরির পর অবশেষে বাজারে আসতে চলেছে বহুল আলোচিত ‘ট্রাম্প ফোন’।
তবে ৪৯৯ ডলারের এ সোনালি রঙের ফোনটি হাতে পাওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকার দাগ ভুল করাসহ এতে বড় ধরনের ত্রুটি ও অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
গেল বছরের জুলাইয়ে মোবাইল ফোনের দুনিয়ায় পা রাখার ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল ‘ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’, যার নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প।
চীন, ভিয়েতনাম ও ভারতে তৈরি গুগল, অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের বিকল্প হিসেবে ফোনটিকে ‘খাঁটি আমেরিকান’ হিসেবে তুলে ধরেছিল কোম্পানিটি।
তবে সামাজিক মাধ্যম ও বিনোদনমূলক সাইট ল্যাডবাইবেল প্রতিবেদনে লিখেছে, ৪৯৯ ডলারের এ ফোনটি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে এমন দাবি অবাস্তব প্রমাণিত হয়েছে।
আকর্ষণীয় দেশাত্মবোধক প্যাকেজের আওতায় ‘টি-ওয়ান মোবাইল’ নেটওয়ার্কসহ ফোনটি প্রথমে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাজারে আনার কথা ছিল। তবে নানা কারণে তা পিছিয়ে ২০২৬ সালে এসে পৌঁছায়।
অবশেষে ২০২৬ সালের মে মাসে এসে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ফোনটি নিয়ে নতুন কিছু তথ্য দিয়েছেন। আর, ঝলমলে সোনালি রঙের এ ফোনটি সম্পর্কে তাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া মোটেও ইতিবাচক নয়।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, শতভাগ দেশপ্রেম ফুটিয়ে তোলার এ উদ্যোগে ট্রাম্প মোবাইল বড় ধরনের ভুল করে বসেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকায় ১৩টি দাগের পরিবর্তে ভুল করে ১১টি দাগ ব্যবহার করেছে।
ফলে তাদের আগের সেই ‘মেড ইন ইউএসএ’ বা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বিজ্ঞাপনের কথাটি এখন আর কোথাও দেখা যাচ্ছে না। বদলে কোম্পানিটি এখন ‘আমেরিকান মূল্যবোধ মাথায় রেখে ডিজাইন করা’ এমন এক অস্পষ্ট স্লোগান ব্যবহার করছে, যা শুনতে আগের মতো আকর্ষণীয় না হলেও, বেশ বাস্তবসম্মত।
স্লোগানের এ পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প মোবাইলের প্রধান নির্বাহী প্যাট ও’ব্রায়েন। তিনি বলেছেন, এসব ফোন আসলে আমেরিকায় উৎপাদিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে তৈরি।
এদিকে, একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ট্রাম্প ফোনটি দেখতে অনেকটা তাইওয়ানে তৈরি ‘এইচটিসি ইউ-২৪ প্রো’ স্মার্টফোনের মতো, যা দুই বছর আগেই বাজারে এসেছে।
প্রযুক্তিপণ্য সারাই কোম্পানি ‘আইফিক্সইট’-এর প্রকৌশলী শাহরাম মোখতারি বলেছেন, “ফোনটি দেখতে হুবহু একরকম এবং এ পর্যন্ত আমরা যা তথ্য পেয়েছি, তাও মিলে যায়।”
এ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের তীব্র সমালোচনা করেছে প্রযুক্তি সাইট ‘টেক অ্যাডভাইজার’। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে ‘এইচটিসি ইউ-২৪ প্রো’ ফোনটি একদম নতুন অবস্থায় বিদেশ থেকে আমদানি করতে যা খরচ হত ট্রাম্প মোবাইল ফোনটি বর্তমানে প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া ফোনের বিবরণী থেকে জানা গেছে, ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ও স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের মাধ্যমে চলবে।
কবে নাগাদ ক্রেতারা ট্রাম্প ফোন কিনতে পারবেন?
নানা নতুন তথ্য সামনে এলেও ক্রেতারা ঠিক কবে থেকে ট্রাম্প ফোনটি কিনতে পারবেন সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
ট্রাম্পের ওয়েবসাইটে গিয়ে ক্রেতারা ১০০ ডলার জমা দিয়ে ফোনটির জন্য প্রি-অর্ডার বা অগ্রিম বুকিং করতে পারবেন। পাশাপাশি ‘রিফারবিশড’ বা মেরামত করা পুরানো আইফোন বা স্যামসাং মডেল কিনতে পারছেন।
এ মাসের শুরুতে কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ‘এ সপ্তাহ’ থেকেই ফোনের শিপিং বা গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে পাঠানো শুরু হবে।
অন্যদিকে, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী প্যাট ও’ব্রায়েন বলেছেন, আগামী ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে’ অর্ডারগুলো সরবরাহ করা হবে।
তবে ফোনটি আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ফরচুন ম্যাগাজিন।
তারা প্রতিবেদনে লিখেছে, প্রি-অর্ডারের শর্তাবলীতে একটি নতুন লাইন জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “প্রি-অর্ডারের জন্য অগ্রিম অর্থ জমা দেওয়া মানে কেবল সাময়িকভাবে একটি সুযোগ পাওয়া; যদি পরবর্তীতে ট্রাম্প মোবাইল তাদের নিজস্ব একক সিদ্ধান্তে ডিভাইসটি বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় তবেই ক্রেতারা তা কিনতে পারবেন।”