Published : 22 May 2026, 10:05 AM
নাগরিকদের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।
অনলাইনে জনপ্রিয় লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘টুইচ’-এ ‘টক উইথ দ্য পিপল’ নামে এক বিশেষ লাইভ শো শুরু করছেন তিনি।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, এর মাধ্যমে চিরাচরিত রেডিও বা টেলিভিশনের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেবেন আধুনিক ও প্রযুক্তি-সচেতন এই মেয়র।
প্রযুক্তি ও বিনোদন সাইট ‘পলিগন’ বলেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ চটপটে ও আধুনিক এ রাজনীতিবিদের নতুন লাইভ সিরিজটি ‘nyc_mayor’ নামের তার অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত হবে।
নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে শুরু হতে যাওয়া এ অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানি সরাসরি চ্যাট বক্সে আসা স্থানীয় নানা সমস্যার বিষয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেবেন।
এ অনুষ্ঠানের নামটির পেছনেও ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে নিউ ইয়র্কের তৎকালীন মেয়র ফিওরেলো লা গার্ডিয়া ‘ডব্লিউএনওয়াইসি’ রেডিওতে একটি অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যার নামও ছিল ‘টক উইথ দ্য পিপল’।
স্বাভাবিকভাবেই, ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর তাগিদে অনুষ্ঠানটি ইউটিউব ও ফেইসবুক’সহ বর্তমানের প্রায় সব বড় বড় প্ল্যাটফর্মেই একযোগে লাইভ স্ট্রিম বা সম্প্রচার হবে।
কৌশল হিসেবে বিষয়টিকে বেশ বুদ্ধিদীপ্ত বলেই বর্ণনা করেছে এনগ্যাজেট। কারণ, আগে সাধারণ মানুষ পাবলিক রেডিও বা টেলিভিশনের সামনে একসঙ্গে জড়ো হতেন, এখনকার দর্শকরা নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছেন।
তবে রেডিও বা টিভির মতো মাধ্যমগুলোতে সাধারণ মানুষ ও মেয়রের মাঝে ‘সম্পাদকীয় ফিল্টার’ বা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা থাকত, যার ভালো-মন্দ দুই দিকই ছিল।
তবে এ লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত বা যে যার মতো মন্তব্য করার মুক্তমঞ্চে রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে ‘টুইচ’ প্ল্যাটফর্মের সংস্কৃতি পুরোদস্তুর ইন্টারনেট-ঘেঁষা বা কিছুটা খামখেয়ালি ধাঁচের হলেও মেয়র মামদানি নিজেই এ জগতের রীতিনীতির সঙ্গে বেশ ভালোভাবে অভ্যস্ত।
ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স ও ব্লুস্কাই-এর মতো জনপ্রিয় সব মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে। তবে মামদানি নিজের শোটির মূল কেন্দ্র বা হোম বেইস হিসেবে ‘টুইচ’কে বেছে নিয়েছেন, যা বেশ কৌতূহল উদ্দীপক।
কারণ, এ স্ট্রিমিং সেবাটির মালিকানা স্বত্ব ‘অ্যামাজন’-এর হাতে। আর অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মামদানি বরাবরই প্রকাশ্যে তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।
সম্প্রতি ‘নিউ রিপাবলিক’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জেফ বেজোস তার নিজের মালিকানাধীন পত্রিকা ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তারা মেয়রের নেতৃত্বকে খাটো করে সংবাদ প্রকাশ করে।
এ ঘটনা সত্যি হলে বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে যে, ঠিক এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য ইন্টারনেটের বুকে আসলেই কোনো স্বাধীন ও সাধারণ জনগণের নিজস্ব বিকল্প প্ল্যাটফর্ম থাকা কতটা জরুরি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/জেডএফ/এইচবি/২২ মে/২৬