Published : 23 Jan 2026, 04:11 PM
টিকটকের মূল মালিক, চীনা কোম্পানি বাইটড্যান্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ব্যবসা চালাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন মালিকানাধীন একটি যৌথ কোম্পানি গঠনের বিষয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে তারা।
এর মধ্য দিয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের টিকে থাকা নিশ্চিত হচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ কোটির বেশি মানুষ টিকটক ব্যবহার করে। বাইটড্যান্স বৃহস্পতিবার বলেছে, যৌথ মালিকানাধীন এই কোম্পানিই মার্কিন ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
রয়টার্স লিখেছে, এই চুক্তিকে টিকটকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২০ সালের অগাস্টে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা তুলে টিকটক নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার পর দীর্ঘ আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক টানাপড়নের ধারাবাহিকতায় এ সমঝোতা হল।
ট্রাম্পের পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে একটি আইন পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক বন্ধের উপক্রম হয়। বাইডেনের পর ফের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়ে ট্রাম্প এখন ওই আইন কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ওই আইনে বলা হয়েছিল, বাইটড্যান্সকে তাদের আমেরিকান ব্যবসা ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে বিক্রি করে দিতে হবে। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপটি নিষিদ্ধ হবে। সুপ্রিম কোর্টও ওই আইন বহাল রেখেছিল।
বাইটড্যান্স বলেছে, নতুন কোম্পানির নাম হবে ‘টিকটক ইউএসডিএস জয়েন্ট ভেঞ্চার এলএলসি’। আমেরিকান ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, অ্যাপ ও অ্যালগরিদম সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব থাকবে এ কোম্পানির ওপর।
চুক্তির প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, টিকটক এখন থেকে ‘একদল মহান আমেরিকান দেশপ্রেমিক ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় যাচ্ছে।”
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ধন্যবাদ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সঙ্গে কাজ করায় এবং শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে অনুমোদন দেওয়ায় তাকে ধন্যবাদ। তিনি চাইলে অন্য সিদ্ধান্তও নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। এ সিদ্ধান্তের জন্য আমি তাকে আন্তরিক সাধুবাদ জানাই।”
চুক্তি অনুসারে, এ যৌথ ব্যবসায় আমেরিকান ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকবে ৮০ দশমিক ১ শতাংশ মালিকানা এবং বাইটড্যান্সের কাছে থাকবে কেবল ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
তবে কীভাবে টিকটকের ব্যবসা নতুন কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
টিকটকের এ নতুন কোম্পানির প্রধান তিন বিনিয়োগকারী হচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং জায়ান্ট ওরাকল, প্রাইভেট একুইটি গ্রুপ ‘সিলভার লেইক’ ও আবুধাবিভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘এমজিএক্স’। তাদের প্রত্যেকের হাতে ১৫ শতাংশ করে শেয়ার থাকবে।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আমেরিকা ও চীন উভয় দেশের সরকারই এ চুক্তিতে রাজি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস।
গত বছর ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তিটি ২০২৪ সালের আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা হস্তান্তরের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করেছে। সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউস বলেছিল, এ নতুন যৌথ কোম্পানিই আমেরিকায় টিকটকের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তবে নতুন কোম্পানির সঙ্গে বাইটড্যান্সের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ঠিক কেমন হবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষই এখনও বিস্তারিত কিছু বলেনি।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত টিকটক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে এবং দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পেছনে অ্যাপটির বড় ভূমিকার কথা বারবারই স্বীকার করেছেন তিনি।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা গেছে, গত ২২ ডিসেম্বর ট্রাম্পকে একটি নথি পাঠিয়েছিল টিকটক, যেখানে উঠে এসেছে, এ অ্যাপে কতটা জনপ্রিয় তিনি। গত অগাস্টে হোয়াইট হাউসও অফিসিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্ট চালু করেছে ।
টিকটক বলেছে, নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেলের বিনিয়োগ কোম্পানি ‘ডেল ফ্যামিলি অফিস’ রয়েছে।
এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে ‘ভাস্টমেয়ার স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টমেন্টস’, ‘আলফা ওয়েভ পার্টনার্স’, ‘রেভোলিউশন’, ‘মেরিট ওয়ে’, ‘ভায়া নোভা’, ‘ভারগো এলআই’ ও ‘এনজেজে ক্যাপিটাল’-এর মত কোম্পানি।
টিকটকের নতুন কোম্পানির সিইও অ্যাডাম প্রেসার এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন উইল ফারেল।
এ নতুন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন টিকটকের গ্লোবাল সিইও শাও চিউ। বিশ্বজুড়ে টিকটকের ব্যবসা ও কৌশলগত বিভিন্ন দিক দেখাশোনা করেন তিনি।
টিকটক বলেছে, আমেরিকান ব্যবহারকারীদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তাদের কনটেন্ট রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদমটিকে নতুন করে প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা করবে তারা। এ পুরো অ্যালগরিদমটি ওরাকলের মার্কিন ক্লাউড সার্ভারে সুরক্ষিত থাকবে।