Published : 15 Sep 2025, 07:50 PM
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, শর্ট ভিডিও অ্যাপ টিকটক নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে মাদ্রিদে দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনা শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
বেসেন্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যদি টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র অংশ বিক্রির বিষয়ে কোনো চুক্তি না-ও হয় তারপরও তা দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে বেসেন্ট সাংবাদিকদের বলেছেন, “দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে সম্পর্ক এখনও খুব ভালো। গ্রিয়ার ও আমি আমাদের সব ধরনের প্রতিপক্ষের প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল।”
গত চার মাসে চতুর্থবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সর্বশেষ এ আলোচনাটি স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঐতিহাসিক ভবন পালাসিও দে সান্তা ক্রুজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রোববার প্রথম দিনের আলোচনা প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলেছে। তবে আলোচনা থেকে এখনও কোনো বড় সাফল্য বা অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
বেসেন্ট বলেছেন, দুই পক্ষই প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে ভালো অগ্রগতি করেছে। তবে অন্যান্য বিষয় নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হবে।
“আমাদের চীনা প্রতিপক্ষরা খুব বেশি দাবি নিয়ে এসেছে। আমরা এখন দেখব, সেই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব কি না। কোনো সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপের জন্য আমরা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা বিসর্জন দিতে প্রস্তুত নই।”
মার্কিন একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনা মূলত টিকটক, শুল্ক ও অর্থনীতিকে ঘিরে হয়েছে, তবে তিনি আর কিছু বলেননি।
বেসেন্ট বলেছেন, টিকটক থেকে চীনা মালিকানা প্রত্যাহারের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি সোমবারের আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে, গ্রিয়ার বলেছেন, টিকটক সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধান হলেও তা অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি হওয়ার ওপর নির্ভর করতে পারে।
“চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে টিকটক নিয়ে যে চুক্তি হতে পারে তার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িয়ে দেখছে তারা। কেবল টিকটকই নয়, বরং শুল্ক ও গত কয়েক বছরে নেওয়া অন্যান্য পদক্ষেপও এই আলোচনার অংশ হিসেবে ধরছে দেশটি।
তিনি আরও বলেছেন, টিকটক বা অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এমন অবস্থায় নেই যে, তারা এখন পর্যন্ত যেসব নিয়ম বা ব্যবস্থা নিয়েছে সেগুলো সব একবারে বাতিল করে দিতে পারে।
“আমাদের এখনও আলোচনা ও পরস্পরের বোঝাপড়া গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যেতে হবে, এবং আমার মনে হয় এখনই সেই সব বিষয় একবারে বাতিলের সময় নয়।”
বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেং-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি মে মাস থেকে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে দ্বিপক্ষীয় মতবিরোধ সমাধানের জন্য বৈঠক করেছে।
তবে মাদ্রিদে এ দুই দেশের বৈঠকে বড় কোনো সাফল্যের আশা করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, টিকটকের চীনা মালিক কোম্পানি বাইটড্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ব্যবসা বিক্রির সময়সীমা ১৭ সেপ্টেম্বরের পরও আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যথায় দেশটিতে বন্ধ হবে টিকটক।
এদিকে, মাদ্রিদে সাংবাদিকদের চীনের দূতাবাস বলেছেন, সোমবার বিকালে এক সমাপনী সংবাদ সম্মেলনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা থেকে ইঙ্গিত মেলে, দুই দেশের মধ্যে এসব আলোচনা দ্রুত শেষ হতে পারে।
আরও পড়ুন -
তৃতীয়বারের মতো টিকটকের সময়সীমা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প
টিকটক নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন ট্রাম্প