Published : 14 Dec 2025, 03:03 PM
অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দেশটির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মামলা করেছে একটি অনলাইন কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম।
রয়টার্স প্রতিবেদনে লিখেছে, অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার আইন বাতিল করতে দেশটির হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে রেডিট।
এ আইন অস্ট্রেলিয়ার সংবিধানের পরিপন্থী বলে বর্ণনা করে রেডিট বলেছে, স্বাধীন রাজনৈতিক আলোচনায় হস্তক্ষেপ করছে এ আইন। তাদের যুক্তি, আইনের সংজ্ঞা অনুসারে রেডিট আসলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়। ফলে তাদের এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা উচিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেডিটের শক্তিশালী আর্থিক সামর্থ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় প্লাটফর্মটির জনপ্রিয়তার কারণে এই মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে।
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করেছে অস্ট্রেলিয়া।
এ আইনের আওতায় রেডিটসহ মোট ১০টি প্ল্যাটফর্মকে ১৬ বছরের নিচের ব্যবহারকারীদের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। তা না করলে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে তাদের।
ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে প্ল্যাটফর্মগুলো বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। যার মধ্যে ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যকলাপ দেখে বয়স অনুমান ও সেলফির মাধ্যমে বয়স নির্ধারণ করার মতো বিষয় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট।
মামলার নথিতে রেডিট বলেছে, এই আইন ব্যবহারকারীদের জন্য ‘প্রাইভেসি ও রাজনৈতিক মত প্রকাশ বিষয়ে কিছু গুরুতর সমস্যা তৈরি করছে’।
“১৬ বছরের নিচে থাকা অস্ট্রেলীয় নাগরিকরা কয়েক বছরের মধ্যে বা হয়ত কয়েক মাসের মধ্যেই ভোটার হয়ে উঠবেন। তারা যেসব সিদ্ধান্ত নেবেন সেগুলো অনেকটাই নির্ভর করবে ১৮ বছরের আগে তারা যেসব রাজনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগে অংশ নিয়েছেন তার ওপর।”
তবে অস্ট্রেলিয়ার সরকার প্লাটফর্মটির এই যুক্তির সঙ্গে একমত হয়নি। তাদের বক্তব্য, শিশুদের মত প্রকাশের অধিকার রক্ষার জন্য নয়, বরং নিজেদের লাভ নিশ্চিত করতেই এই মামলা করেছে রেডিট।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী মার্ক বাটলার বলেছেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে বড় বিভিন্ন তামাক কোম্পানি যেভাবে বারবার মামলা করেছিল আমরা ঠিক একই ধরনের আচরণ এখন কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বড় প্রযুক্তি কোম্পানির কাছ থেকে দেখছি।”
৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বাজারমূল্যের কোম্পানি রেডিটের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে এই আইনি লড়াই চালানো সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া, এই লড়াইয়ে তাদের বড় স্বার্থও রয়েছে। কানাডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পর অস্ট্রেলিয়াই রেডিটের চতুর্থ বৃহত্তম বাজার।