Published : 26 Aug 2025, 03:37 PM
প্লেনে বসে মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এখনও বেশ ধীর গতির ও অসুবিধাজনক। তবে সে ধারণা বদলে যেতে পারে। কারণ, এখন অনেক সম্ভাব্য সমাধান হিসাবে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
নতুন যেসব কোম্পানি স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে ‘আলাস্কা এয়ার গ্রুপ’। কোম্পানিটি ঘোষণা করেছে, আগামী বছর থেকে ইনফ্লাইট স্টারলিংক ওয়াইফাই চালু করবে তারা এবং ২০২৭ সালের মধ্যে নিজেদের পুরো বিমানবহরেই এ ইন্টারনেট সেবা থাকবে।
এক বিবৃতিতে ‘আলাস্কা এয়ার গ্রুপ’-এর প্রধান নির্বাহী বেন মিনিকুচি বলেছেন, “এরইমধ্যে আমাদের সহযোগী কোম্পানি হাওয়াইয়ান এয়ারলাইন্স-এ চালু আছে স্টারলিংক। আমরা গর্বিত যে, শিগগিরই দুই এয়ারলাইনের প্রায় সব উড়োজাহাজে টেক-অফ থেকে শুরু করে ল্যান্ডিং পর্যন্ত অবিরত ইন্টারনেট সংযোগ দিতে পারব।”
আলাদা এক ঘোষণায় ‘আলাস্কা এয়ার গ্রুপ’ বলেছে, ‘অ্যাটমস রিওয়ার্ডস’ নামে তাদের নতুন লয়্যালটি প্রোগ্রামের সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে এ সুবিধা দেবে তারা।
আলাস্কা এয়ার গ্রুপের অংশীদার ‘টি-মোবাইল’ও এ সেবায় যুক্ত রয়েছে। তারা বলেছে, প্লেনে স্টারলিংক ব্যবহারের সময় যাত্রীরা ‘সহজে ও বিজ্ঞাপন ছাড়াই ওয়াইফাইতে সংযুক্ত হতে পারবেন’। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য এ বছরের শেষ দিকে পাওয়া যাবে।
আলাস্কা এয়ার দাবি করেছে, স্টারলিংকের ইন্টারনেটের ‘গতি অত্যন্ত দ্রুত, যা আজকের বেশিরভাগ প্লেনে ব্যবহৃত ভূ-স্যাটেলাইট রিসিভার নির্ভর সংযোগের প্রায় সাত গুণ’।
আরও অনেক এয়ারলাইনও দ্রুতই স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে। মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদন লিখেছে, প্রায় নিশ্চিতভাবেই স্টারলিংকের সঙ্গে একটি চুক্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজও। এ ছাড়া স্পেসএক্সের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক শীর্ষ এয়ারলাইন এমিরেটস-এরও আলোচনা চলছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও এমিরেটস দুটি কোম্পানিই নিজ নিজ দেশের প্রধান বা ‘ফ্ল্যাগশিপ এয়ারলাইন। ফলে ভিয়াস্যাট ও ইকোস্টার’-এর মতো পুরানো প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে দুই দেশের দুটি কোম্পানিকে গ্রাহক হিসেবে পাওয়ার বিষয়টি স্টারলিংকের জন্য বড় এক সাফল্য।
তবে স্টারলিংকের সেবা খুব একটা সাশ্রয়ী নয়। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, ‘বোয়িং ৭৩৭’ প্লেনে স্টারলিংক সিস্টেম বসাতে প্রায় তিন লাখ ডলার খরচ হয়। আর একটি বড় ‘৭৮৭ ড্রিমলাইনার’ প্লেনে স্টারংলিংক বসাতে প্রায় পাঁচ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
এর ওপর আবার বিভিন্ন এয়ারলাইনকে প্রতি সিটের জন্য মাসে প্রায় একশ ২০ ডলার দিতে হয়। প্লেনে লাইভ টিভি সুবিধা চাইলে আরও একশ ২০ ডলার যোগ হয় সিটপ্রতি।
ব্লুমবার্গ লিখেছে, এসব তথ্য বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেলেও এখনও কোনো এয়ারলাইন আনুষ্ঠানিকভাবে এসব খরচের বিষয় নিশ্চিতভাবে জানায়নি।
এ খরচের পরিমাণ বেশি হলেও এয়ারলাইনগুলো মনে করছে, প্লেনে বসে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে যাত্রীরা আকাশে বসেই কাজ করতে, বার্তা পাঠাতে, ভিডিও স্ট্রিম করতে বা লাইভ টিভি দেখতে পারবেন। আর এমনটি যদি সহজে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে করা যায় তবে প্লেনে থাকা ভারী ও ব্যয়বহুল বিনোদন সিস্টেম যেমন স্ক্রিন বা সার্ভার বাদ দেওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
এনগ্যাজেট লিখেছে, এ প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় নেতিবাচক দিক হতে পারে এর মালিক ইলন মাস্ক। অনেক সম্ভাব্য গ্রাহক মনে করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের টালমাটাল সম্পর্ক বড় এক ঝুঁকির বিষয়।
আবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের একাংশ তার রাজনৈতিক মতাদর্শ বা অবস্থান নিয়েও বিরক্ত, যা সম্প্রতি মাস্কের ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভি নির্মাতা টেসলার বিক্রিতেও প্রভাব ফেলেছে।