Published : 24 Jun 2025, 01:53 PM
বিশ্বের প্রথম শহর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রাস্তায় চলছে টেসলা’র চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি। মার্কিন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিটি এজন্য বেছে নিয়েছে অস্টিন শহরকে।
রোববার সকালে চালকবিহীন টেসলা মডেলের ওয়াইএস গাড়িকে টেক্সাসের অস্টিন শহরের রাস্তায় চলতে দেখা গিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
এরপরই টেসলা’র সিইও ইলন মাস্ক নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, রোববার বিকালেই হবে টেসলার ‘রোবোট্যাক্সি উদ্বোধন’ এবং এতে প্রতিবার যাতায়াতে খরচ হবে ৪ ডলার ২০ সেন্ট।
একইদিন সকালে টেক্সাসের রাজধানী অস্টিনের জনপ্রিয় এলাকা সাউথ কংগ্রেসে কয়েকটি টেসলা রোবোট্যাক্সিকে চলতে দেখে গিয়েছে, যেগুলোর ড্রাইভারের আসনে কেউ না থাকলেও যাত্রী আসনে একজন করে মানুষ রয়েছেন।
টেসলার পরিকল্পনা অনুসারে, সামনে বসা যাত্রীরা ‘নিরাপত্তা মনিটর বা পর্যবেক্ষক’ হিসেবে কাজ করবেন। তবে গাড়ির ওপর তারা কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।
চালকবিহীন টেসলা গাড়ির কিছু ভিডিও এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব গাড়িতে কোনো যাত্রী ছিল কি না তা জানা যায়নি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
পরিকল্পিত এ রোবোট্যাক্সি চালুর তারিখ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটিতে চালকবিহীন গাড়ির ওপর নিয়ম-কানুন তৈরিতে পদক্ষেপ নেন টেক্সাসের আইন প্রণেতারা।
টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট শুক্রবার এমন এক আইনে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে বলা হয়েছে, চালকবিহীন গাড়ি চালাতে হলে রাজ্যের অনুমতি নিতে হবে।
রয়টার্স লিখেছে, এ আইন ১ সেপ্টেম্বরের আগে কার্যকর না হলেও গভর্নর শুক্রবার এতে স্বাক্ষর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের দুই দলের নেতারাই চান চালকবিহীন গাড়ির বিষয়টি সাবধানে পরিচালিত হোক।
এর আগে, এ সপ্তাহের শুরুতে ডেমোক্র্যাট দলের কিছু আইনপ্রণেতা টেসলাকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন তারা এ আইনের কারণে নতুন রোবোট্যাক্সি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর বিষয়টি কিছুদিনের জন্য পিছিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি টেসলা। টেক্সাস গভর্নরের অফিসও কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।
আগে টেক্সাসের আইন ছিল চালকবিহীন গাড়ির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ বা নিয়ম-কানুন করার বিরুদ্ধে। কারণ, ২০১৭ সালের এক আইনে টেক্সাসের বিভিন্ন শহরকে চালকবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে নিষেধ করেছিল। তবে নতুন আইন সেই কঠোর নিষেধ একটু কমিয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
গত কয়েক দিনে কিছু নির্দিষ্ট অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে টেসলা, যারা মূলত টেসলা সম্পর্কে অনলাইনে অনেক কথা বলেন বা ভিডিও বানান। তাদেরকে পরীক্ষামূলকভাবে ছোট পরিসরে রোবোট্যাক্সি চালানোর জন্য ডেকেছে কোম্পানিটি।
টেসলা বলেছে, পরীক্ষায় ১০ থেকে ২০টি রোবোট্যক্সি নিয়ে অস্টিন শহরের ছোট অংশে গাড়ি চলবে। আর এ পুরো বিষয়টিই খুবই মনোযোগ দিয়ে দেখভাল করবেন তারা।
টেক্সাসের নতুন আইনে রয়েছে, চালকবিহীন গাড়ি চালাতে হলে টেক্সাসের মোটর ভেহিকেল বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। কোনও গাড়ি যদি ‘জনগণের জন্য বিপদ তৈরি করে’ তবে ওই কোম্পানির অনুমতি সরকার বাতিল করতে পারবে। পাশাপাশি এসব কোম্পানিকে জানাতে হবে, গুরুতর পরিস্থিতিতে পুলিশ ও জরুরি সেবাদাতারা কীভাবে তাদের চালকবিহীন গাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ করবে।
আইন অনুসারে, চালকবিহীন গাড়ি চালানোর জন্য রাজ্যের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি কঠিন নয়। তবে কোম্পানিকে অবশ্যই বলতে হবে, আইন মেনে নিরাপদে গাড়ি চালাবে তারা।
মাস্কের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চালকবিহীন টেসলা গাড়ি বাজারে সরবরাহের জন্য মাস্কের অমীমাংসিত প্রতিশ্রুতির পর এ রোবোট্যাক্সি চালু হল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
মাস্ক বলেছেন, অস্টিনে রোবোট্যাক্সির নিরাপত্তা নিয়ে খুবই সতর্ক থাকবে টেসলা এবং এসব গাড়ি কেবল শহটির নির্দিষ্ট জায়গায়তেই চলবে।
টেসলা বলেছে, অস্টিনে রোবোট্যাক্সি চালুর এ পরিষেবাতে বিধিনিষেধও রয়েছে, বিশেষ করে খারাপ আবহাওয়া ও শহরটির জটিল রাস্তা এড়িয়ে চলবে এ রোবোট্যাক্সি এবং ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে বহন করবে না এটি।
চালকবিহীন গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে চালানো ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। ‘জেনারেল মোটর্স-এর ‘ক্রুজ’ সার্ভিস বড় এক দুর্ঘটনার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই বিবেচনায় টেসলা ও কোম্পানিটির প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েইমো ও অ্যামাজনের ‘জুক্স’-এর ওপর নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।
চালকবিহীন গাড়ির ক্ষেত্রে অন্যান্য কোম্পানির মতো বিভিন্ন প্রযুক্তি, যেমন– লাইডার ও রেডার ব্যবহার করছে না টেসলা। বদলে, টেসলা শুধু ক্যামেরা ব্যবহার করছে। মাস্ক বলছেন, এটি নিরাপদ ও অন্যদের ব্যবহৃত প্রযুক্তির তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী।