Published : 12 Dec 2025, 11:14 AM
২০২৫ জুড়ে প্রযুক্তির নানা দিক থেকে যে কয়টি নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল, সেগুলোর প্রভাব বিশ্বের নানা প্রান্তেই পড়েছে। গেইমিং, এআই, স্মার্টফোন, চার্জিং প্রযুক্তি থেকে শুরু করে ম্যাগনেটিক এক্সেসরিজ, সব জায়গায়ই ছিল নতুন চমক।
এ নিয়ে এক প্রতিবেদনে বিবিসি বলছে, বছরের শেষ দিকে এসব উদ্ভাবন আর কোম্পানিগুলোর সাফল্য ঘিরে আগ্রহ আরও বেড়েছে।
নিনটেনডো সুইচ ২: পুরোনো ভালোবাসা এবার আরও প্রবল
নিনটেনডো এবার সুইচ ২ দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, ছোট ছোট উন্নতি কত বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। নতুন কনসোলে বড় ১০৮০পি এইচডিআর স্ক্রিন, বেশি স্টোরেজ, আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্স, আর ম্যাগনেটিক জয়-কন ব্যবহারকারীদের কাজ সহজ করেছে। আগের প্রায় সব গেইমই এতে চলে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভিজুয়াল উন্নয়নও দেখা যায়। ডনকি কং বোনানজা আর মেট্রয়েড প্রাইম ৪ এর মতো নতুন ফার্স্ট-পার্টি টাইটেলও খেলোয়াড়দের টানছে। কোম্পানির আশা, চলতি অর্থবছরেই তারা প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ ইউনিট কনসোল বিক্রি করবে।

এনভিডিয়া: এআই ঢেউয়ের সবচেয়ে বড় সার্ফার
এনভিডিয়া এখন শুধু গেইমিং জিপিইউ কোম্পানি নয়, এআই শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার নির্মাতা। সার্ভার জিপিইউ থেকে ঘরোয়া ব্যবহারের জিওফোর্স কার্ড — সবখানেই তাদের দাপট। পাঁচ বছরে কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ২৩৫ শতাংশ। প্রতিবেদন বলছে, এআই ট্রেইনিং আর ইনফারেন্সিংয়ের চাহিদা কোম্পানিটিকে নতুন উচ্চতায় তুলেছে, যদিও গুগল আর মাইক্রোসফটের নিজস্ব এআই চিপ কাজটি ভবিষ্যতে কঠিন করে দিতে পারে।
টেক বিলিয়নেয়ারদের রাজনৈতিক প্রভাব
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিবেশ বদলে যাওয়ার পর প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক কয়েকজন ধনী ব্যক্তির বাড়তি সুবিধা স্পষ্ট হয়েছে। অক্সফামের হিসাবে, দেশটির শীর্ষ ১০ ধনীর মোট সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি ডলার। বিবিসি’র তথ্য বলছে, তাদের রাজনৈতিক প্রভাব, কর সংক্রান্ত সুবিধা আর ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বেড়েছে।

এআই ভিডিও: বাস্তব আর ভুয়া একাকার
২০২৫ সালে অনলাইন বিশ্ব ভেসে গেছে এআই ভিডিও দিয়ে। মেটা, গুগল, ওপেনএআইয়ের নতুন টুলগুলো ভিডিও বানানোকে এত সহজ করে দিয়েছে যে মানুষ আর বাস্তব ও কৃত্রিম কন্টেন্টের পার্থক্য বুঝতে পারছে না। এক জরিপে অর্ধেকের বেশি মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, তারা মানব নির্মিত আর এআই ভিডিও আলাদা করতে পারছেন না। আর সেই বিভ্রান্তির সুযোগে এআই ভিডিও আরও জায়গা দখল করছে।

স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭: ভাঁজ করা ফোনের নতুন মান
স্যামসাংয়ের সপ্তম প্রজন্মের ফোল্ডএবল ফোন এবার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ফোনটি এখন সাধারণ স্মার্টফোনের আকারেই ব্যবহার করা যায়। মাত্র ২১৫ গ্রাম ওজন, ৭২.৮ মিলিমিটার চওড়া আর প্রায় ৯ মিলিমিটার পুরুত্বের সাথে রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, আইপিএক্স৮ রেটিং আর পাঁচ হাজার মিলিঅ্যাম্প-আওয়ার ব্যাটারি। আকার, ওজন কমায় ব্যবহারকারীর আগ্রহ হয়েছে দ্বিগুণ। ফোল্ডএবল বাজারেও রেকর্ড শিপমেন্ট দেখা গেছে।

স্মার্ট গ্লাস: ব্যর্থতা ভুলে নতুন উত্থান
গুগল গ্লাসের পর দীর্ঘদিন স্মার্ট গ্লাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে তেমন কেউ আশা করেননি। কিন্তু মেটা রে-ব্যান ডিসপ্লে আর এক্সরিয়াল প্রজেক্ট অরার মতো নতুন ডিভাইস ব্যবহারকারীদের আগ্রহ ফিরিয়ে এনেছে। হালকা ব্যাটারি, উন্নত লেন্স আর এআইভিত্তিক হ্যান্ডসফ্রি নিয়ন্ত্রণ মিলিয়ে এই গ্যাজেট আবার জনপ্রিয় হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, ভবিষ্যতের মূল টেক গিয়ারের জায়গায় স্মার্ট গ্লাস জায়গা করে নিতে শুরু করেছে।
ফাস্ট চার্জিং: সময় বাঁচানোর নতুন প্রতিযোগিতা
ট্যাবলেট, ঘড়ি, আইপ্যাড প্রো এম৫ থেকে শুরু করে গুগল পিক্সেল ওয়াচ ৪, দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তি ২০২৫ সালে ব্যবহারকারীদের বাস্তব সুবিধা দিয়েছে। মাত্র দশ মিনিটে স্মার্টওয়াচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যবহারযোগ্য চার্জ পাওয়া যাচ্ছে। বৈদ্যুতিক গাড়িতেও বদল এসেছে। ফর্মুলা ই এবার ফাস্ট-চার্জিং পিটস্টপ চালু করেছে। চীনের বিওয়াইডি হাজার কিলোওয়াট গতিতে ইভি চার্জিং প্রযুক্তি দেখিয়েছে, যা চার্জিংয়ের সময় প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারে।

চুম্বক: দৈনন্দিন ব্যবহারে নতুন আরাম
গুগলের পিক্সেল ১০ সিরিজে কিউআই ২–এর ম্যাগনেটিক সাপোর্ট যুক্ত হওয়া, অ্যাপলের আইফোন ১৭ ক্রসবডি স্ট্র্যাপে চৌম্বকীয় লক ব্যবস্থার উন্নতি — এসব ছোট জিনিস ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আনে। কেউ পিক্সেল রিং স্ট্যান্ড নিয়ে উৎসাহিত, কেউ আবার আইফোন স্ট্র্যাপের সুবিধা দেখে অবাক হয়েছেন। ম্যাগনেট ব্যবহার করে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ আর অ্যাক্সেসরিজ বদলানো সহজ হয়ে গেছে।
২০২৫ সালের এই তালিকায় প্রযুক্তির নানা দিক উঠে এসেছে। কারও জয় এসেছে উদ্ভাবনে, কারও বাজারদখলে, আর কারও সুবিধা এসেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায়।
সব মিলিয়ে বছরটি প্রযুক্তি দুনিয়ার জন্য ছিল ঘটনাবহুল।