১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কনটেন্ট সরানোর আদেশ ঠেকাতে ভারতে উইকি’র আপিল

উইকিমিডিয়া পেইজে এএনআইকে এমন এক বার্তা সংস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, যার ফলে দেশটির ‘সরকারি প্রচারণার হাতিয়ার’ বলে সমালোচনার মুখে পড়েছে তারা।

কনটেন্ট সরানোর আদেশ ঠেকাতে ভারতে উইকি’র আপিল
ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Apr 2025, 06:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:27 PM

কনটেন্ট সরানোর জন্য ভারতীয় আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে উইকিপিডিয়া অপারেটর উইকিমিডিয়া।

সোমবার বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র বলছে, অনলাইন এনসাইক্লোপিডিয়া বা বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার অপারেটর নয়াদিল্লির আদালতের এমন এক আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যেখানে আদালত বলেছে, ভারতের এক দেশীয় নিউজ ওয়েবসাইটের মানহানি করেছে উইকিমিডিয়া।

গত বছর ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ‘এএনআই’ এ মার্কিন প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার পর গত সপ্তাহে দিল্লি হাইকোর্ট এই রায় দেয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স। 

এএনআই তাদের মামলায় বলেছে, উইকিমিডিয়া পেইজে তাদেরকে এমন এক বার্তা সংস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, যার ফলে দেশটির সরকারের ‘প্রচারের হাতিয়ার’ বলে সমালোচনার মুখে পড়েছে তারা এবং এ ধরনের বিবৃতি মুছে ফেলার দাবি জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি।

গত সপ্তাহে হাইকোর্ট এ মামলার আদেশে বলেছে, “উইকিপিডিয়ার উল্লেখিত এসব বিবৃতি আপত্তিকর ও মানহানিকর এবং এতে এএনআইয়ের পেশাদার সুনাম নষ্ট হয়েছে”। তাই এসব বিবৃতি প্লাটফর্মটি থেকে মুছে ফেলা উচিত।

রয়টার্স লিখেছে, এ মামলায় উইকিমিডিয়ার কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি দুই কোটি রুপি বা ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণও চেয়েছে ভারতের বার্তা সংস্থাটি। আদালতে এই মামলার শুনানি চলবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্র বলেছে, গত সপ্তাহের আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে এখন একই আদালতের বিচারকদের বড় প্যানেলের কাছে আপিলের আবেদন করেছে উইকিমিডিয়া। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তারা।

নয়াদিল্লির হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, উইকিমিডিয়া একটি আপিল দায়ের করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি তারা। সোমবার আপিলটি বিচারকদের সামনে উঠলেও অন্য তারিখের জন্য তা স্থগিত করেছে আদালত, যা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের জন্য ইমেইল বার্তায় সাড়া দেয়নি উইকিমিডিয়া ও এএনআই।

সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের ২৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক রয়টার্স এর আগে বলেছিল, এএনআইয়ের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা চর্চার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয় তারা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার আদেশ নিয়ে ভারতীয় আদালতের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া পক্ষ হিসাবে ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর পরে দ্বিতীয় প্রধান প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন।

২০২১ সালে ভারতীয় কৃষকদের বিক্ষোভ সম্পর্কে কিছু পোস্ট ব্লক করার জন্য ভারতের সরকারি আদেশের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে আপত্তি জানিয়েছে এক্স।