Published : 26 May 2026, 05:06 PM
সার্চ হিস্ট্রি থেকে শুরু করে চ্যাটজিপিটি’র মতো প্ল্যাটফর্মে মানুষের দেওয়া দৈনন্দিন তথ্যই এখন বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির আয়ের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, যুক্তরাজ্যের প্রতি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর জীবনকালের তথ্য ব্যবহার করে বড় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আয় করে।
‘ওয়েব৩ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী কিছু কোম্পানি ইন্টারনেট সচল রাখতে এবং নিজেদের ব্যবসা বাড়াতে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও তা থেকে অর্থ আয় করছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, এ গবেষণায় খতিয়ে দেখা হয়েছে মানুষ কীভাবে প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটে তাদের ডিজিটাল ছাপ রেখে যাচ্ছে।
যার মধ্যে রয়েছে গুগলে কোনো কিছু খোঁজা, ক্লিক করা, লোকেশন বা অবস্থানের তথ্য দেওয়া থেকে শুরু করে অনলাইনে কেনাকাটা, মেসেজ আদান-প্রদান, ছবি আপলোড ও সামাজিক মাধ্যম পোস্ট।
সাধারণত, এসব তথ্য এত দিন ‘কুকি’-এর মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হত এবং বিভিন্ন কোম্পানি এগুলো ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুসারে বিজ্ঞাপন দেখাত।
তবে গবেষণা বলছে, বর্তমানে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির মাধ্যমে মানুষের ডেটা সংগ্রহের পরিধি আরও বেড়েছে। এখন ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে আয়ের নতুন নতুন উপায় তৈরি করা হচ্ছে, যার অন্যতম বড় উদাহরণ এআই সিস্টেম তৈরি করা এবং এসব মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের প্রতি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তাদের পুরো ডিজিটাল জীবনকালে মুদ্রাস্ফীতি-সমন্বিত বাণিজ্যিক মূল্যে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অবদান রাখেন।
তবে এর উদ্দেশ্য মানুষকে কোনো নির্দিষ্ট অংকের অর্থ দেওয়া বা বোঝানো নয়, বরং মানুষের ডেটা বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইন্টারনেটের বড় পরিধি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে সেটাই তুলে ধরা।
‘ওয়েব৩ ফাউন্ডেশন’-এর টেকনিকাল অপারেশনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিল ল্যাবুন বলেছেন, “মানুষের সচেতন হওয়া উচিত যে তাদের তথ্য অন্য সব ধরনের কোম্পানি ব্যবহার ও তা থেকে অর্থ আয় করছে।
“বিষয়টি প্রাইভেসির জন্য বড় সমস্যা। মানুষ সম্ভবত বুঝতেই পারে না বা খেয়ালই করে না যে তারা যখনই চ্যাটজিপিটি’কে কোনো প্রশ্ন করছে বা লেখার বানান সংশোধনের কোনো অপশন বেছে নিচ্ছে... ঠিক তখনই তাদের সেসব তথ্য ব্যবহৃত হচ্ছে।”
তার ভাষায়, মানুষ সাধারণত বোঝে যে, বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য তাদের তথ্য ব্যবহৃত হয়, যা বেশ পুরানো পদ্ধতি। তবে এসব তথ্য যে এখন এআই মডেলগুলোর প্রশিক্ষণের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে সে বিষয়ে মানুষ হয়ত এখনও সচেতন নয়।
‘ওয়েব৩ ফাউন্ডেশন’ হচ্ছে বর্তমান ইন্টারনেট ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন ও ব্যবহারকারী-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে কাজ করা একটি সংস্থা।
তারা বলেছে, মানুষ নিজেরা যেসব এআই সিস্টেম তৈরি করতে তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে পরবর্তীতে হয়ত তারা নিজেরাই সেসব সিস্টেম ব্যবহার করা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারেন।
প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, অ্যামাজন, গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট, অ্যানথ্রপিক, মাইক্রোসফট ও মেটা’র মতো বড় প্রযুক্তি জায়ান্টরা প্রতি বছর একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর তথ্য থেকেই এক হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আয় করে।
এর মানে, অন্যান্য বিকাশমান বিভিন্ন এআই কোম্পানি যখন মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করছে তখন তারা আরও বেশি কাজ এবং সম্ভবত এর চেয়েও বেশি আয় করছে।
ওপেনএআই ও ওরাকল-এর মতো এআই জায়ান্টদের সঙ্গে চুক্তি করেছে মার্কিন চিপ নির্মাতা কোম্পানি এনভিডিয়া। কোম্পানিটি গেল বছর বিশ্বের প্রথম কোম্পানি হিসেবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাজার মূল্য স্পর্শ করার রেকর্ড গড়েছে।
পাশাপাশি, মাইক্রোসফট ও অ্যাপল’ও সম্প্রতি ৪ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের মাইলফলক ছাড়িয়েছে।
ল্যাবুন বলেছেন, “যেহেতু এআইয়ের গতি দিন দিন বাড়ছে এবং তথ্য আরও বেশি মূল্যবান হয়ে উঠছে ফলে একটি স্বচ্ছ ও ব্যবহারকারী-নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।”