Published : 03 Dec 2025, 10:49 AM
গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম আপডেটের পর কর্মীদের ফোনে আসা বা পাঠানো টেক্সট মেসেজ দেখতে ও তাতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন নিয়োগকর্তারা। এতে ফোনের মেসেজ আর ব্যক্তিগত থাকবে না, অফিস প্রধানের নজরে আসবে।
মেসেজের জন্য গুগলের ‘রিচ কমিউনিকেশন সার্ভিসেস’ বা আরসিএস নতুন আর্কাইভ ফিচারটি অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ সংস্করণের এসএমএস ফিচার, যা ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পাশাপাশি কর্মীদের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইসে নজরে রাখার সুযোগও দেবে বিভিন্ন কোম্পানিকে।
গুগল বলেছে, এ আপডেটের মাধ্যমে কোনো কোম্পানি সহজেই ‘প্রয়োজনীয় নানা ধরনের ডেটা সংরক্ষণ করতে পারবে’, যাতে কোম্পানির নিয়মাবলী মেনে চলতে পারেন কর্মীরা।
এসব কোম্পানির মধ্যে সরকারি সংস্থা ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান বা বীমার মতো কোম্পানিও থাকতে পারে, বিশেষ করে যাদের মার্কিন ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ বা এসইসি-এর মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম মেনে চলতে হয় তাদের বেলায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।
অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা এইচআর সংক্রান্ত বিরোধের জন্য সব ব্যবসায়িক যোগাযোগ নজরদারি করতে অন্যান্য কোম্পানিও ফিচারটি ব্যবহার করতে পারবে।
গুগলের একজন সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার ইয়ান মার্সানি এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, “বিভিন্ন থার্ড পার্টির আর্কাইভাল অ্যাপকে কাজের ডিভাইসে সরাসরি গুগল মেসেজেস-এর সঙ্গে যোগের সুযোগ দেবে আমাদের নতুন ফিচারটি, অর্থাৎ কোম্পানির কাজের ফোনে মেসেজ সংরক্ষণের জন্য থার্ড পার্টির অ্যাপ সরাসরি ব্যবহার করা যাবে।
“কোনো কোম্পানি যদি তাদের আইটি বিভাগের মাধ্যমে আপনার ফোনটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে তবে নতুন আর্কাইভ অ্যাপটি আপনার মেসেজের সবকিছু মনিটর করবে। কেবল মেসেজ পাঠানো বা পাওয়ার সময় নয়, মেসেজ এডিট বা মুছে ফেলা হলেও তা কোম্পানিকে নোটিফাই করবে।
“আর্কাইভাল অ্যাপটি মেসেজের তথ্য পড়ে ও এটি আপনার আইটি বিভাগের কাছে পৌঁছে দেয়, অর্থাৎ মেসেজের সব কনটেন্ট আপনার কোম্পানির আইটি বিভাগ দেখতে পারবে।”
গুগলের এ সুবিধা কোম্পানিটির পিক্সেল স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের অ্যান্ড্রয়েড এন্টারপ্রাইজ সংস্করণের সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করবে।
মার্কিন সার্চ জায়ান্টটি বলেছে, কেবল ‘নতুন আরসিএস মেসেজ নয়, পুরনো ধরনের টেক্সট ও মাল্টিমিডিয়া মেসেজও’ এই ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন ব্যবহারকারী।
গুগল আরও বলেছে, এ ফিচারটি কাজের স্বচ্ছতার জন্য তৈরি করেছে, যেখানে কর্মীরা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে দেখতে পাবেন কখন তাদের ফোন মনিটর করছে কোম্পানি।
তবে কাজের ডিভাইসে ব্যবহৃত অন্যান্য এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, যেমন হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মেসেজ গোপন থাকবে ও কোম্পানি সেগুলো দেখতে পারবে না।