Published : 22 Feb 2026, 05:12 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্রমাগত ব্যবহারে কতটুকু পানি বা বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা বিতর্ক। সম্প্রতি ভারতে এক অনুষ্ঠানে এসব বিষয় নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান।
প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চ লিখেছে, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এআই পরিবেশের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে সেই উদ্বেগ নিয়ে কথা বলেছেন চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই প্রধান।
এআই তৈরিতে অনেক পানি খরচ হয় এমন দাবিকে ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অল্টম্যান। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, আগে বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে পানি বাষ্পীভূত করে যেভাবে ঠান্ডা করা হত তা আসলেই সমস্যার ছিল। বর্তমানে সেই পদ্ধতি আর ব্যবহৃত হয় না।
অল্টম্যান বলেছেন, “ইন্টারনেটে মাঝেমধ্যে দেখা যায় যে মানুষ বলছেন, চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করবেন না তারা। কারণ প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে ১৭ গ্যালন পানি খরচ হয়। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি ও বাস্তবের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।”
তবে ওপেনএআই প্রধান স্বীকার করেছেন, প্রতিটি আলাদা প্রশ্নের জন্য না হলেও সার্বিকভাবে এআইয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ে চিন্তিত হওয়াটা ‘যৌক্তিক’।
বর্তমান বিশ্বে এআইয়ের ব্যবহার বিস্ময়করভাবে বেড়েছে। অল্টম্যানের মতে, এ বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পৃথিবীকে খুব দ্রুত পারমাণবিক শক্তি বা বায়ু ও সৌরশক্তির মতো পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে এগোতে হবে।
বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি ঠিক কতটা বিদ্যুৎ বা পানি ব্যবহার করছে তা প্রকাশ করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বর্তমানে নেই। এ কারণে বিজ্ঞানীরা স্বাধীনভাবে এ বিষয়ে গবেষণার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন ডেটা সেন্টারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টির সঙ্গেও এর সংযোগ মিলেছে।
এ অনুষ্ঠানে বিল গেটসের সঙ্গে হওয়া আগের এক আলোচনার সূত্র ধরে প্রশ্ন করেন উপস্থাপক। তিনি অল্টম্যানের কাছে জানতে চান, চ্যাটজিপিটিতে কেবল একটি প্রশ্ন করলে তা আইফোন দেড়বার চার্জ দেওয়ার সমান বিদ্যুৎ খরচ করে কি না।
এর উত্তরে অল্টম্যান বলেছেন, “এ বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণের বিষয়টি কোনোভাবেই বাস্তব তথ্যের ধারেকাছেও নয়, এতে অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ হয়।”
অল্টম্যান অভিযোগ করে বলেছেন, চ্যাটজিপিটির শক্তি খরচ নিয়ে অনেক আলোচনায় ‘অযৌক্তিক’, বিশেষ করে “যখন মানুষ তুলনা করে, একটি এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে কত শক্তি লাগে আর একজন মানুষের একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে কতটুকু শক্তি খরচ হয়।
“একজন মানুষকে প্রশিক্ষিত বা বুদ্ধিমান করে তুলতেও অনেক শক্তির প্রয়োজন। মানুষ বুদ্ধিমান হওয়ার আগে তার জীবনের ২০টি বছর এবং সেই সময়ে সে যা যা খাবার খায় তার পেছনেও অনেক শক্তি ব্যয় হয়।
“কেবল একজীবন নয়, আজ আপনি যেভাবে চিন্তা করতে পারছেন তার পেছনে রয়েছে কয়েক হাজার বছরের বিবর্তন। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত জন্মানো ১০ হাজার কোটি মানুষের অভিজ্ঞতা, হিংস্র প্রাণীর হাত থেকে বাঁচার লড়াই ও বিজ্ঞান শেখার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফসল হলেন আপনি।”
অল্টম্যানের মতে, সঠিক তুলনাটি হওয়া উচিত এভাবে “একটি এআই মডেল তৈরি হয়ে যাওয়ার পর তা একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে যে পরিমাণ শক্তি খরচ করে, একজন মানুষ সেই একই উত্তর দিতে কতটুকু শক্তি খরচ করে? এভাবে মাপলে এরইমধ্যে মানুষের সমান সক্ষমতা পেয়েছে এআই।