Published : 31 May 2026, 10:08 AM
গুগলের সার্চ ডেটা জনসাধারণের কাছে প্রকাশের আগেই তা চুরি করে এক প্ল্যাটফর্মে বাজি ধরার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন কোম্পানির একজন শীর্ষ তথ্য-নিরাপত্তা প্রকৌশলী।
ওই কর্মী জালিয়াতির মাধ্যমে প্রেডিকশন বা ভবিষ্যদ্বাণী করার প্ল্যাটফর্ম ‘পলিমার্কেট’ থেকে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কেবল কয়েক মাসেই ১২ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি বলেছেন, গুগলের প্রকৌশলী মিশেল স্প্যাগনুওলোর বিরুদ্ধে ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ বা কোম্পানির ভেতরের গোপন তথ্য ব্যবহার করে ব্যবসা বা সুবিধা নেওয়া আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি বাজি ধরেছিলেন। স্প্যাগনুওলো ইতালির নাগরিক ও সুইজারল্যান্ডে বসবাস করলেও বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কের এক ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়।
স্প্যাগনুওলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গুগলে কাজের সুবাদে কিছু তথ্য সবার আগে জানার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেসব তথ্য ব্যবহার করেই বাজি ধরে তিনি প্রায় ১২ লাখ ডলার জিতে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে গুগলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, কোম্পানিটি ‘তদন্তের বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে’ এবং ওই কর্মীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
যেসব অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তা মূলত মার্কেটিং সংক্রান্ত ছিল এবং এতে ‘সব কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত এক টুলের মাধ্যমেই প্রবেশ হয়েছিল। তবে বাজি ধরার জন্য এমন গোপন তথ্য ব্যবহার করা আমাদের নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন’ বলেও উল্লেখ করেছেন গুগলের মুখপাত্র।
এদিকে, পলিমার্কেটের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এ তদন্তের বিষয়ে তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘কাজ করেছে’।
“ব্লকচেইন ট্রেডিং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সন্ধানযোগ্য এবং এখানে অপরাধীরা নিজেদের অপরাধের ছাপ রেখেই যায়।”
ব্লকচেইন এক ধরনের ডিজিটাল রেকর্ড বা খতিয়ান, যা ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর পলিমার্কেট কেবল ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমেই লেনদেন গ্রহণ করে।
স্প্যাগনুওলোকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে মার্কিন ‘ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন’ বা এফবিআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়।
গ্রেপ্তারের পর ওই গুগল কর্মীকে পরবর্তীতে সাড়ে ২২ লাখ ডলারের মুচলেকায় জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পলিমার্কেটে ‘আলফার্যাকন’ নামের এক অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন করতেন স্প্যাগনুওলো এবং বেশ কয়েকটি আলাদা অ্যাকাউন্ট থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে বাজি ধরতেন।
এফবিআই প্রথমে তার কেবল একটি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছে, যা তিনি নিজের ইতালীয় পরিচয়পত্র দিয়ে খুলেছিলেন। আর এর মাধ্যমেই এফবিআই তার সবগুলো অ্যাকাউন্টকে শনাক্ত করে এগুলোকে অপরের সঙ্গে সংযোগ করতে পেরেছে।
এ বিষয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি স্প্যাগনুওলো।
তার অনলাইন প্রোফাইল অনুসারে, তিনি ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে গুগলে একজন ইনফরমেশন সিকিউরিটি প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয় বলেছে, তিনি ২০২৪ সালে পলিমার্কেট ব্যবহার করা শুরু করেন এবং গেল বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে গুগলসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ২৭ লাখ ডলারের বাজি ধরেন। কোম্পানির ভেতরের গোপন তথ্য ব্যবহার করার কারণে তিনি এসব বাজি থেকে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি মুনাফা করতে পেরেছেন।
আদালতের নথি অনুসারে, পলিমার্কেটে স্প্যাগনুওলোর সবচেয়ে লাভজনক বাজিটি ছিল ২০২৫ সালে গুগলে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা ব্যক্তি কে হবেন আর কে হবেন না তা সঠিকভাবে অনুমান করা।
তিনি বিয়াঙ্কা সেনসোরি ও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মতো নামগুলোর বিপক্ষে বাজি ধরেছিলেন এবং গায়ক ‘ডিফোরভিডি’ প্রথম স্থান অধিকার করবেন বলে বেছে নিয়েছিলেন। অথচ ওই সময়ে বেটিং প্ল্যাটফর্মটিতে এসব ফলাফলের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি ছিল।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, স্প্যাগনুওলো নভেম্বরে এ বাজিটি ধরার সময়ই জানতেন, ‘ডিফোরভিডি’ গুগলের সবচেয়ে বেশি সার্চ করা ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। কারণ এ সার্চ জায়ান্টটি জনসাধারণের জন্য তথ্যটি প্রকাশ করার আগেই কোম্পানির সংগৃহীত সেই গোপন তথ্যে তার প্রবেশাধিকার ছিল।
এদিকে, সংগীতশিল্পী ‘ডিফোরভিডি’ বর্তমানে এক কিশোরীকে হত্যার অভিযোগে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।