Published : 01 Nov 2025, 11:50 AM
সভ্যতার শুরু থেকে নানা কারণে যাযাবর হয়েছে মানুষ। অনেক সময়ই সেটা ছিল খাদ্যের অন্বেষণ, যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বিশ শতকের শুরু থেকে মানুষের দেশান্তরী হওয়ায় প্রভাব রেখেছে শ্রমের বাজার। এবার দেশান্তরী হওয়ার কারণ হিসাবে উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম!
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এক অস্ট্রেলিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার পরিবারের যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর খবর মিলেছে।
ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের নিচে থাকা শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়। অনলাইনে লাখো ভক্ত রয়েছে এ অস্ট্রেলিয়ান পরিবারের। ফলে এ নিষেধাজ্ঞা এড়াতেই পরিবারটি দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিভেছে বিবিসি।
‘এম্পায়ার ফ্যামিলি’ নামে পরিচিত এই চার সদস্যের পরিবারে রয়েছেন এক মা ও তার সঙ্গিনী বেক লি, ১৭ বছর বয়সী ছেলে প্রেজলি ও ১৪ বছর বয়সী মেয়ে শার্লট। তারা সবাই তাদের দৈনন্দিন জীবনের ভিডিও অনলাইনে শেয়ার করেন।
সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে পরিবারটি বলেছে, ইন্টারনেট ‘ভাল কাজে’ ব্যবহার করেন তারা। তাদের জন্য যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার মানে হচ্ছে, মেয়ে শার্লট যেন নিজের কনটেন্ট তৈরি করে তা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা চালিয়ে যেতে পারে।
বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে এমন পদক্ষেপ নিল অস্ট্রেলিয়া, যেখানে ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, এক্স ও ইউটিউবকে অবশ্যই ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ নিতে হবে যেন ১৬ বছরের নিচের কেউ নতুন অ্যাকাউন্ট না খুলতে পারে।
ডিসেম্বর থেকে দেশটিতে ১৬ বছরের নিচে থাকা ব্যবহারকারীদের জন্য সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে।
অস্ট্রেলিয়ার এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য টিনএজারদের ‘সামাজিক মাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব’ থেকে রক্ষা করা। যে প্রযুক্তি কোম্পানি এই নিয়ম মানবে না তাদের ৫ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা প্রায় সোয়া ৩ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
তবে কীভাবে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়িত হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিছু সম্ভাব্য পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে, দেশটির সরকারি পরিচয়পত্রের ব্যবহার, অভিভাবকের অনুমোদন নেওয়া ও ফেইশল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো বিষয়। এসব পদ্ধতি ডেটা প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং বয়স যাচাই সফটওয়্যারের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
শুরুতে ইউটিউবকে এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হলেও এ বছরের শুরুতে নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে সরকার। এবার থেকে ১৬ বছরের নিচের টিনএজাররা ইউটিউবে ভিডিও দেখতে পারবে তবে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। অ্যাকাউন্ট ছাড়া কনটেন্ট আপলোড করতে বা প্ল্যাটফর্মে ইন্টারঅ্যাকশন করতে পারবে না তারা।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে লন্ডন যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এক ভিডিওতে বেক বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিরুদ্ধে নন তারা।
“আমরা বুঝতে পারছি, এই নিষেধাজ্ঞা টিনএজাদের ইন্টারনেটে ক্ষতি থেকে রক্ষা করছে। তবে আমরা ইন্টারনেট ভাল কাজে ব্যবহার করি। আমরা এও বুঝতে পারছি, সামাজিক মাধ্যম কিছু টিনএজারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, আমরা এ বিষয়ে অসচেতন নই।”
তবে সরকার এখনও এ ‘নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ’ করেনি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বেকের সঙ্গী বেক বলেছেন, “সামাজিক মাধ্যম শুরু হওয়ার পর থেকে অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং অনেক টিনএজার এসব প্ল্যাটফর্মে ভাল কাজে প্রভাব ফেলছে।”
পরিবারটি যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আরেকটি কারণ হল তাদের সবারই দ্বৈত ব্রিটিশ-অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকত্ব রয়েছে। এ ছাড়া, তাদের মেয়ে শার্লট সম্প্রতি অনলাইনে লেখাপড়া শুরু করেছে, যার মানে পরিবারটি যে কোনো জায়গায় বসবাস করতে পারবে।
অনলাইনে ‘চার্লি’ নামে পরিচিত শার্লটের ইউটিউব চ্যানেলে প্রায় পাঁচ লাখ সাবস্ক্রাইবার, টিকটকে প্রায় তিন লাখ ফ্যান ও ইনস্টাগ্রামে প্রায় দুই লাখ ফলোয়ার রয়েছে। এসব অ্যাকাউন্ট তার মায়েদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
পরিবারটির প্রধান উপস্থিতি ইউটিউবে। তাদের ছেলে প্রেজলির চ্যানেলে প্রায় ২৮ লাখ সাবস্ক্রাইবার রয়েছে, আর পরিবারের মূল চ্যানেলটি ফলো করছে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ।
তাদের এসব ভিডিওতে রয়েছে মেইকআপ টিউটোরিয়াল, গেইমিং সেশন ও পরিবারিক ছুটির বিভিন্ন মুহূর্ত।