Published : 08 May 2026, 01:49 PM
যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ শুরু করেছে অ্যামাজন। নতুন প্রকল্পের আওতায় গ্রাহকের অর্ডার করার কেবল দুই ঘণ্টার মধ্যে সরাসরি বাড়ির আঙিনায় পৌঁছে দিয়েছে কোম্পানিটি।
‘প্রাইম এয়ার’ প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ‘এমকে-৩০’ নামের ড্রোন ব্যবহার করে শুরু হওয়া এ পরিষেবা পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে নতুন দিকের সূচনা করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল।
মার্কিন ই কমার্স জায়ান্টটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের কাউন্টি ডারহামের ডার্লিংটন এলাকায় এ অতি-দ্রুত ডেলিভারি পরিষেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে।
তবে ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। যেমন, পার্সেলটির ওজন অবশ্যই ২.২ কেজি বা ৫ পাউন্ডের কম হতে হবে এবং এর আকার হবে জুতার বাক্সের সমান।
পণ্যটি নিরাপদে নামিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রাহকের বাড়িতে একটি নিজস্ব বাগান বা আঙিনা থাকতে হবে। গ্রাহকের অবস্থান অ্যামাজনের পণ্য সরবরাহ কেন্দ্র বা ফুলফিলমেন্ট সেন্টার থেকে সাড়ে সাত মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে হওয়াও জরুরি।
আপাতত এ ড্রোন ডেলিভারি সেবাটি কেবল ডার্লিংটনের বাসিন্দাদের জন্য থাকলেও অ্যামাজন বলেছে, পর্যায়ক্রমে তারা পুরো যুক্তরাজ্যজুড়ে এই পরিষেবাটি ছড়িয়ে দেবে।
আধুনিক ও দ্রুতগতির ডেলিভারি নিশ্চিত করতে নিজেদের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন মডেল এমকে-৩০ ব্যবহার করছে কোম্পানিটি।
এসব ড্রোনে উন্নতমানের সেন্সর বসানো হয়েছে, যা ড্রোনের চলার পথে আসা যে কোনো বাধা যেমন, শিশুদের খেলার ট্রামপোলিন, কাপড় শুকানোর দড়ি বা অন্যান্য ড্রোন শনাক্ত করতে ও সেগুলোকে এড়িয়ে চলতে পারে।
ড্রোনটি গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছালে জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা নিখুঁতভাবে বুঝতে পারে যে ঠিক কোন জায়গায় পার্সেলটি নামাতে হবে।
এ সেবাটির মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধক পণ্য বা ব্যাটারির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ছোট ছোট জিনিস সরবরাহ করা হয়, যা গ্রাহকের বাগান বা আঙিনায় প্রায় ১২ ফুট উচ্চতা থেকে নিচে নামিয়ে দেয় ড্রোনটি।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে দুই ঘণ্টারও কম সময়ে ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে অ্যামাজন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে এ চিত্রটি আরও চমকপ্রদ, যেখানে এরইমধ্যে পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে এ পরিষেবা চালু রয়েছে এবং গড়ে কেবল ৩৬ মিনিটের মধ্যেই গ্রাহকরা তাদের পার্সেল হাতে পেয়ে যাচ্ছেন।
অ্যামাজন প্রতি ঘণ্টায় ১০টি পর্যন্ত ড্রোন ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে। সেই হিসেবে সোম থেকে শুক্রবার এসব কর্মদিবসে প্রতিদিন তারা প্রায় একশটির মতো পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা রাখে।
‘প্রাইম এয়ার’-এর ডেভিড কার্বন বলেছেন, “ডার্লিংটনে এ কার্যক্রম শুরু করা যুক্তরাজ্যের আকাশে ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমাদের কাছে নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে আমরা ডার্লিংটন কাউন্সিল ও সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সঙ্গে কাজ করেছি।
“আমাদের এমকে-৩০ ড্রোনগুলো এমনভাবে তৈরি, যেন এগুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। কীভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় রেখে এ উদ্ভাবনী প্রযুক্তি মানুষের সেবায় নিয়োজিত হতে পারে, তা আমরা ডার্লিংটনের বাসিন্দাদের দেখাতে উন্মুখ হয়ে আছি।”
অ্যামাজনকে তাদের ড্রোনের প্রাথমিক পরীক্ষামূলক কাজ চালানোর জন্য রব শিল্ড নামের এক ব্যক্তি তার খামারের একটি প্রাঙ্গণ ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেছেন, “শুরুতে বিষয়টি আমাদের কাছে একদম নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। ফলে আমরা হাতের কাছে যা পাচ্ছিলাম তার সবই অর্ডার করছিলাম। কলম, কাগজ, চকলেট সবকিছুই অর্ডার করতাম কেবল দেখার জন্য যে, ড্রোনটা বারবার কীভাবে আসছে।
“প্রথম দিকে শখের বশে অর্ডার করলেও পরে আমরা বুঝতে পারলাম, প্রতিদিনের দরকারী ছোটখাটো জিনিস, যেমন ফিতা মাপার টেপ যা আমরা মাঝেমধ্যেই হারিয়ে ফেলি সেগুলোর জন্য এমনটি কতটা কার্যকর। এখন আমরা অর্ডার করি আর চোখের পলকেই তা আমাদের কাছে পৌঁছে যায়।”
এদিকে, যুক্তরাজ্যে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার কেবল পণ্য সরবরাহেই সীমিত নেই। লন্ডনে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত পৌঁছে দেওয়ার কাজে এরইমধ্যে ‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস’ বা এনএইচএস ড্রোনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করেছে।
অন্যদিকে, রয়াল মেইল অর্কনির দূরবর্তী এলাকাগুলোতে পার্সেল পাঠানোর জন্য এ আকাশযানের ব্যবহার শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যে ‘প্রাইম এয়ার’ পরীক্ষার জন্য অ্যামাজন ডার্লিংটন এলাকাটিকেই বেছে নিয়েছে, কারণ এখানে আবাসিক এলাকা, বড় রাস্তা ও বিমানবন্দরের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় রয়েছে।
এ বছরের শেষদিকে এ এলাকায় তাদের পরীক্ষামূলক সেবা চালিয়ে যাবে অ্যামাজন। আপাতত জুন মাস পর্যন্ত তারা এই এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর জন্য সাময়িকভাবে সংরক্ষিত আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে, যা পরবর্তীতে আরও বাড়ানো হবে।
এর আগে, ২০১৬ সালে কেমব্রিজশায়ারে ‘প্রাইম এয়ার’ ড্রোন ডেলিভারি সিস্টেমের প্রাথমিক সংস্করণের সংক্ষিপ্ত পরীক্ষা চালিয়েছিল অ্যামাজন।
‘সিভিল এভিয়েশন অথরিটি’ বা সিএএ-এর উদ্ভাবন উপদেষ্টা পরিষেবার প্রধান ফ্রেডেরিক লজিয়ে এ প্রকল্প সম্পর্কে আগে বলেছিলেন, “যুক্তরাজ্যের আকাশসীমায় কীভাবে আরও বেশি করে ড্রোনকে নিরাপদে এবং সফলভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় সেসব পথ খুঁজে বের করা খুবই জরুরি।”