Published : 16 Sep 2025, 03:16 PM
যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক সচল রাখার জন্য অবশেষে চীনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ হয়েছে বলে জানান মার্কিন কর্মকর্তারা।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট মাদ্রিদে সাংবাদিকদের বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তার নির্দেশনা ও নেতৃত্ব ছাড়া আমরা আজকের চুক্তি করতে পারতাম না।”
“শুক্রবার ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ফোনে কথা বলবেন এবং পরে দুই নেতার সরাসরি বৈঠকেও এই চুক্তি চূড়ান্ত করা হতে পারে।”
এ নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র অংশ কিনতে যে মার্কিন বিনিয়োগকারী দলকে এগিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের নেতৃত্বে আছেন ওরাকল নির্বাহী চেয়ারম্যান ল্যারি এলিসন। তিনি সম্প্রতি অল্প সময়ের জন্য বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েছিলেন।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা স্পেনের মাদ্রিদে চলতি সপ্তাহে বাণিজ্য আলোচনায় বসেছেন। সেখানে টিকটকও আলোচ্য বিষয়ের একটি ছিল। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “আমরা গুরুত্ব দিয়েছি যেন টিকটক সংক্রান্ত চুক্তি একদিকে যেমন চীনের জন্য ন্যায্য হয়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগকেও পূর্ণ সম্মান করে।”
চীনের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক লি চেংগ্যাং বলেন, উভয়পক্ষ “সৎ ও গভীর আলোচনার” মাধ্যমে টিকটক নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে।
চীনের সাইবারস্পেস প্রশাসনের উপপরিচালক ওয়াং জিংতাও বলেছেন, চুক্তিতে টিকটকের মার্কিন ব্যবহারকারীর ডেটা সুরক্ষার জন্য নতুন ব্যবস্থা এবং অ্যালগরিদম ও মেধাস্বত্ব লাইসেন্সের বিষয়ও থাকতে পারে।
টিকটক ও এর মূল কোম্পানি বাইটড্যান্স এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৭ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে। আইন অনুযায়ী, চীনা মালিকানা ছাড়াই কেবল মার্কিন অংশীদারের হাতে এর কার্যক্রম চালু থাকতে পারবে। কংগ্রেস পাস করা আইনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক কার্যত নিষিদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন। অবশেষে সোমবার এ সমঝোতার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়ালো টিকটক।
ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, বাইটড্যান্স ও নতুন মার্কিন মালিকের মধ্যে ৫০-৫০ যৌথ মালিকানার কাঠামো সমর্থন করবেন তিনি। তবে আইন অনুযায়ী চীনা অংশীদারিত্ব রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে।
সোমবারের ঘোষণায় কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
এতদিন বাইটড্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্র অংশের মালিকানা ছাড়তে দিতে অনিচ্ছুক ছিল বেইজিং। তবে এ বছরের শুরু থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা চরমে ওঠে। এরইমধ্যে সোমবার চীন এনভিডিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিট্রাস্ট আইন ভাঙার অভিযোগ তোলে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থায়ই শেষ পর্যন্ত চীনা কর্তৃপক্ষ সমঝোতায় আসতে রাজি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ওরাকল-এর ল্যারি এলিসনই টিকটকের মার্কিন অংশ কেনার সবচেয়ে সম্ভাব্য ক্রেতা। তার কোম্পানিই ২০২০ সাল থেকে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেটা হোস্ট করছে।
চুক্তিটি কার্যকর হলে আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে এশিয়া সফরে শি জিনপিং ও ট্রাম্পের মধ্যে সরাসরি বৈঠকও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।