Published : 17 Nov 2025, 11:36 AM
২০০৮ সাল থেকে এনভিডিয়ার ফ্ল্যাগশিপ গ্রাফিক্স কার্ড ছিল জিটিএক্স সিরিজ। গেইমারদের কাছে জিটিএক্স মানে একসময় ছিল শক্তি আর দামের দিক থেকে সেরা পছন্দ। কিন্তু এই সফল কার্ডের উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হল কেন?
২০০৮ সালে এই ব্র্যান্ড চালু হওয়ার পর জিটিএক্স ৯৭০, ১০৬০ বা কিংবদন্তি ১০৮০ টাইটানের মতো কার্ড এনভিডিয়াকে গেইমিং জিপিইউ বাজারের শীর্ষে তুলে দেয়। কিন্তু এই সফল যাত্রায় ছেদ পড়ে ২০১৮ সালে, যখন এনভিডিয়া প্রথম আরটিএক্স ২০-সিরিজ বাজারে আনে। এখানেই কোম্পানির দিকবদল শুরু।
আরটিএক্স কার্ডগুলো জিটিএক্স থেকে আলাদা কারণ এগুলোতে বিশেষ হার্ডওয়্যার থাকে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
আরটি কোর থাকে রিয়েল-টাইম রে ট্রেসিংয়ের জন্য, আর টেনসর কোর কাজ করে ডিএলএসএসের মতো এআই-আপস্কেলিং প্রযুক্তির জন্য। জিটিএক্স ১৬-সিরিজ টুরিং আর্কিটেকচারে তৈরি হলেও এই দুটো প্রযুক্তিই সেখানে ছিল না। তাই জিটিএক্স ব্র্যান্ডকে নতুনভাবে এগিয়ে না নিয়ে এনভিডিয়া এগুলোকে শুধু বাজেট অপশনের জায়গায় রেখে দেয়। ভবিষ্যৎ হিসেবে তারা বেছে নেয় আরটিএক্স।
২০২৪ সালের মধ্যে জিটিএক্স ১৬-সিরিজের উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়। পুরোনো মডেলগুলো ধীরে ধীরে সফটওয়্যার সাপোর্ট হারাতে শুরু করে। জিটিএক্স ৭০০-সিরিজ ২০২১ সালে গেইমরেডি ড্রাইভার আপডেট থেকে বাদ পড়ে, আর ৯০০ ও ১০০০-সিরিজের শেষ আপডেট আসে ২০২৫ সালে।
রে ট্রেসিং যুগে জিটিএক্স টিকতে পারেনি
জিটিএক্স কার্ড ছিল শক্তিশালী, কিন্তু এগুলো তৈরি হয়েছিল পুরোনো ধাঁচের র্যাস্টারাইজেশন ভিত্তিক রেন্ডারিংয়ের জন্য। নতুন প্রজন্মের গেইম রে ট্রেসিং আর এআই ফিচারে গুরুত্ব দেওয়া শুরু করতেই জিটিএক্স পিছিয়ে পড়ে।
আরটি বা টেনসর কোর না থাকায় ডিএলএসএসের সুবিধা তো ছিলই না, সফটওয়্যার ভিত্তিক রে ট্রেসিং চালালেও ফল ছিল সীমিত। এই ফারাক যত বেড়েছে, ততই পরিষ্কার হয়েছে যে জিটিএক্স দিয়ে আধুনিক গেইম সামলানো সম্ভব হবে না।
আরটিএক্স যুগে ডিএলএসএস, রিফ্লেক্স আর ফ্রেম জেনারেশন হয়ে ওঠে মূল আকর্ষণ। ‘অ্যালান ওয়েক টু’ বা ‘সাইবারপাঙ্ক ২০৭৭’ এর মতো গেইমগুলো এসব ফিচারের ওপর এতটাই নির্ভর করে যে জিটিএক্স দিয়ে এগুলো উপভোগ করা প্রায় অসম্ভব।
২০২২ সালে আরটিএক্স ৪০-সিরিজ বাজারে এলে এমনকি বাজেট মডেল আরটিএক্স ৪০৬০-ও রে ট্রেসিংয়ে খেলার মতো পারফরম্যান্স দিতে পারে। কোন জিটিএক্সই তা করতে পারত না।
জিটিএক্সের বিদায়ের সঙ্গে শেষ হয় এনভিডিয়ার মাল্টি-জিপিইউ বা এসএলআই যুগও। জিটিএক্স ১০৮০ ছিল ফোর-ওয়ে এসএলআই সাপোর্ট দেওয়া শেষ দিকের কার্ড, কিন্তু ডেভেলপারদের অনাগ্রহ, বাড়তি বিদ্যুৎচাহিদা আর স্কেলিং সমস্যার কারণে প্রযুক্তিটি সময়ের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।
জিটিএক্স হয়তো এখনো পুরোনো কম্পিউটার আর ব্যবহৃত বাজারে বেঁচে আছে, কিন্তু অফিসিয়ালি এর অধ্যায় শেষ। কারণ গেইমিং গ্রাফিক্সের দুনিয়াই বদলে গেছে। এনভিডিয়া এখন যে দিকটায় এগোচ্ছে, সেখানে জিটিএক্সের জায়গা আর নেই।