Published : 12 Jul 2026, 09:09 PM
রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জাতীয় সংসদকে বলেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে টেলিটককে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান বাড়াতে বিদেশি উৎস থেকেও অর্থায়ন আনার চেষ্টা চলছে।
রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক—এই চারটি মোবাইল অপারেটর কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
টেলিটকের সেবা উন্নত করতে আরও টাওয়ার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “এজন্য অর্থ দরকার। বিদেশি উৎস থেকে সেই অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে সরকার।”
টেলিটক বাজারে না থাকলে বেসরকারি অপারেটরগুলো ইচ্ছামতো সেবার মূল্য বাড়াতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “টেলিটককে আমাদের বাজারে রাখতেই হবে। সরকারের কাছে রাখতেই হবে।”
অব্যবহৃত ডেটা
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপনের প্রশ্নের জবাবে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, সাত বা ১৫ দিনের প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হলে অব্যবহৃত ডেটা নিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সরকারও উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে।
এ নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অপারেটররা তাদের ব্যবসায়িক নীতির কথা তুলে ধরে বিভিন্ন যুক্তি দিচ্ছে।
‘কলড্রপ’ নিয়েও অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে।”
৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ
যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে ফকির মাহবুব বলেন, ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ১ লাখ ৯ হাজার ৪টি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস ও জেলা আদালতসহ ৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীদের সহায়তা এবং রেমিট্যান্স পাওয়া সহজ করতে ডিজিটাল সেন্টারে প্রবাসী ‘হেল্প ডেস্ক’ চালুর পরিকল্পনার কথাও বলেছেন মন্ত্রী।
দুর্বল নেটওয়ার্ক কোথায়? জানাতে বললেন মন্ত্রী
শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না, সেগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে টেলিটকসহ সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসান বলেন, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের সীমান্ত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত দুর্বল। বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক না পাওয়ায় অনেকে প্রতিবেশী দেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় টাওয়ার স্থাপনের চেষ্টা করা হবে।
৩ দশমিক ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে তরঙ্গ
নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী ফাইভ-জি সম্প্রসারণে অপারেটরদের প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
ফাইভ-জি সেবা সম্প্রসারণের জন্য ২ দশমিক ৩ ও ২ দশমিক ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে নতুন তরঙ্গ অবমুক্ত করা হবে।
পাঁচ বছরে ১০ লাখ ফ্রিল্যান্সার
চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নানের প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারাদেশে ১০ লাখ মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ফ্রিল্যান্সার তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে।
এ ছাড়া দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিটিআরসিতে সম্মানীর অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার অভিযোগ করেন, জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা প্রণয়ন বিটিআরসির নিয়মিত কাজ হলেও সেটিকে ‘গবেষণা’ হিসেবে দেখিয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের আলাদা সম্মানী দেওয়া হয়েছে।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যের বলা অর্থের অঙ্ক তার জানা নেই। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
নয় হাজারের বেশি ডাকঘরের অধিকাংশ জরাজীর্ণ
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, তার এলাকার অনেক ডাকঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কয়েকটি ডাকঘর বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
সংস্কার করা সম্ভব না হলে এসব ডাকঘর বিলুপ্ত করার দাবি জানান তিনি।
জবাবে ডাকমন্ত্রী ফকির মাহবুব বলেন, সারাদেশে নয় হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে এবং অধিকাংশই জরাজীর্ণ। এতগুলো ডাকঘর একসঙ্গে সংস্কার করা সম্ভব না হওয়ায় পর্যায়ক্রমে কাজ চলছে।