Published : 27 Nov 2025, 01:45 PM
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক মামলার মুখে পড়েছেন বাইন্যান্স ও এর প্রতিষ্ঠাতারা। তাদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী’দের সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বিলিয়নেয়ার চ্যাংপেং ঝাও রয়েছেন।
নতুন এ মামলার অভিযোগ অনুসারে, ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানি ও এর প্রতিষ্ঠাতা ঝাও এমন কিছু লেনদেনে জড়িত ছিলেন, যার মাধ্যমে তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো বিভিন্ন সংগঠন অর্থ পেয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের চোখে সন্ত্রাসী ও নিষিদ্ধ।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সের বিরুদ্ধে এ মামলা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার শিকার মার্কিন নাগরিক বা তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এসেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
এ নতুন মামলায় বাইন্যান্সের কাজকর্ম আবারও তদন্তের মুখে পড়তে পারে। কারণ, কয়েক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঝাওকে ক্ষমা করেছেন। এরপরই নতুন মামলার মুখে পড়লেন তিনি ও তার কোম্পানি।
২০২৩ সালে মানি লন্ডারিং বা অবৈধ অর্থ লেনদেন সম্পর্কিত অপরাধে নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছিলেন ঝাও। তবে ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করায় সেই শাস্তি থেকে মুক্তি মেলে তার।
এ নতুন মামলা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বাইন্যান্স। কোম্পানিটি কেবল বলেছে, ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিষেধাজ্ঞার বিভিন্ন আইন পুরোপুরি মেনে’ চলে তারা।
নতুন মামলায় বলা হয়েছে, বাইন্যান্স ইচ্ছাকৃতভাবে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ লেনদেন করতে সাহায্য করেছে। আর এসব অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত। এদেরকেই ৭ অক্টোবরের ওই হামলার জন্য দায়ী করা হয়।
এ লেনদেনের মধ্যে ৭ অক্টোবরের হামলার পর পাঠানো ৫০ লাখ ডলারও রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো হয়েছে অন্তত দুটি অর্থের চালান। মামলাটি দায়ের হয়েছে নর্থ ডেকোটার ফেডারেল কোর্টে।
এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বর বাইন্যান্স দোষ স্বীকার করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনা মানি লন্ডারিং ও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ মিমাংসার জন্য ৪০০ কোটি ডলারের বেশি জরিমানা দিতেও সম্মত হয়েছিল।
ওই মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসাবে বাইন্যান্স বলেছিল, মানি লন্ডারিং ঠেকানো ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার বিভিন্ন প্রোগ্রাম উন্নত করবে তারা।
তবে নতুন মামলা অনুসারে, সেই নিষ্পত্তির পরও কোম্পানিটি কেবল গ্রাহকের অর্থ তখনই পরীক্ষা করত যখন সেই অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি তাদের কাছে সন্দেহজনক বা অবৈধ মনে হত। অর্থ প্ল্যাটফর্মের ভেতরে থাকাকালীন ঠিকমতো নজর রাখত না তারা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, “যেসব অর্থ তাদের প্ল্যাটফর্মে আসছিল তা ইচ্ছাকৃতভাবে নজরে রাখেনি বাইন্যান্স। ফলে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা বিনা বাধায় মোটা অংকের অর্থ জমা দিতে ও তা স্থানান্তর করতে পেরেছে”।
কোম্পানিটি ‘সচেতনভাবে নিজেকে অবৈধ কর্মকাণ্ডের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচালিত করেছে’ বলেও অভিযোগ উঠেছে মামলায়।
“এখনও পর্যন্ত এমন কোনও ইঙ্গিত মেলেনি, যেখানে বাইন্যান্স নিজেদের মূল ব্যবসায়িক মডেলকে গুরুত্বপূর্ণভাবে পরিবর্তন করেছে।”
৭ অক্টোবরের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারেরা বাইন্যান্সের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তবে ক্ষতিপূরণের মূল্য কত হবে তা জুরির মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।
আরও পড়ুন…
অর্থ পাচারের দায় নিয়ে সরে দাঁড়ালেন বাইন্যান্স প্রধান চ্যাংপেং ঝাও
বাইন্যান্স প্রতিষ্ঠাতাকে 'ক্ষমা' করে ট্রাম্প বললেন, 'কোনো অপরাধ