অর্থ পাচারের দায় নিয়ে সরে দাঁড়ালেন বাইন্যান্স প্রধান চ্যাংপেং ঝাও

“ইরানী ব্যবহারকারীদের সঙ্গে প্রায় ৯০ কোটি ডলার লেনদেনের পাশাপাশি সিরিয়ার ব্যবহারকারী, রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় এলাকা- ক্রাইমিয়া, ডনেস্ক ও লুহানস্কে লাখ লাখ ডলার লেনদেনের সুযোগ করে দিয়েছে বাইন্যান্স।”

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2023, 08:02 AM
Updated : 22 Nov 2023, 08:02 AM

অর্থপাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বাইন্যান্সের প্রধান নির্বাহী চ্যাংপেং ঝাও। এর পরপরই নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

“আমি ভুল করেছি। আমাকে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে। এটাই আমার নিজের, আমাদের কমিউনিটি ও বাইন্যান্সের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।” --সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে বলেন ঝাও।

মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কোম্পানি বাইন্যান্সকে জরিমানা ও বাজেয়াপ্ত করা অর্থ বাবদ ৪৩০ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হবে।

বিশ্বজুড়ে বাইন্যান্স তার ব্যবহারকারীদেরকে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে বাইন্যান্সের বিরুদ্ধে।

“মার্কিন ও ইরানী ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় ৯০ কোটি ডলার লেনদেনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার ব্যবহারকারীদের মধ্যে, রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় এলাকা- ক্রাইমিয়া, ডনেস্ক ও লুহানস্কে লাখ লাখ ডলার লেনদেনের সুযোগ করে দিয়েছে বাইন্যান্স।” --বলেন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র।

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোমুদ্রা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বাইন্যান্স নিবন্ধিত হয়েছে ব্রিটিশ অধ্যুষিত এলাকা কেম্যান আইল্যান্ড থেকে।

বিচার বিভাগের তথ্য অনুসারে, বিভিন্ন অপরাধী ও জঙ্গির অর্থ পাচারের উপায় সহজ করে দিয়েছে এক্সচেঞ্জ কোম্পানিটি।

“২০১৭ সালের অগাস্ট থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত হাইড্রা থেকে বাইন্যান্সের ডিজিটাল ওয়ালেটে প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বিটকয়েন পাচার হয়েছে। হাইড্রা রাশিয়াভিত্তিক এমন এক জনপ্রিয় ডার্কনেট মার্কেটপ্লেস ছিল, যেটির মাধ্যমে অপরাধীরা বিভিন্ন অবৈধ পণ্য ও সেবা বিক্রি করত।” --বলেছে বিচার বিভাগ।

বিবিসি বলছে, বাইন্যান্সকে অবশ্যই মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে এমন সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দিতে হবে।

“এর মাধ্যমে আমরা সাইবার অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক তহবিল সংগ্রহের তদন্তকে আরও এগিয়ে নিতে পারব। এর মধ্যে রয়েছে হামাসের মতো বিভিন্ন সশস্ত্র দলকে সমর্থনের উদ্দেশ্যে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করার বিষয়টিও।”

বাইন্যান্সের নতুন সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কোম্পানির আঞ্চলিক বাজার বিভাগের প্রধান রিচার্ড টেং’কে।

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে ঝাও বলেন, এ দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া ‘মানসিকভাবে মোটেও সহজ ছিল না’।

ক্রিপ্টোর জগতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন ঝাও।

গেল মার্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাইন্যান্সকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায়। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ উপায়ে কাজ করছে কোম্পানিটি।

মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘কমডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন’ এক মামলায় বলেছে, কোম্পানি নিয়ন্ত্রকদের কাছে নিজেদের মার্কিন ব্যবসা সঠিকভাবে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

পাশাপাশি, বাইন্যান্সের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার’সহ অসংখ্য মার্কিন আর্থিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে সংস্থাটি।

সে সময় বাইন্যান্স অবশ্য নিজেদের কার্যক্রমের পক্ষে সাফাই গেয়েছে।

কোম্পানি বলেছে, মার্কিন ব্যবহারকারীরা যেন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে তারা ‘বড় পদক্ষেপ’ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন নাগরিক বা যুক্তরাষ্ট্রের মোবাইল নাম্বার থাকা ব্যবহারকারীদের ব্লক করে দেওয়ার মতো ঘটনাও।

জুনে বাইন্যান্সের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়।

ওই মামলায় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ‘বিভ্রান্তির জাল ছড়ানোর’ অভিযোগ তোলে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)’। 

সংস্থাটি বলেছে, বাইন্যান্স ও এর প্রতিষ্ঠাতা ঝাও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার নীতিমালা এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

সে সময় বাইন্যান্স বলেছিল, তারা ‘কঠোরভাবে’ আত্মপক্ষ সমর্থন করবে।

বিবিসি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে ক্রিপ্টো শিল্পের জালিয়াতি ও অন্যান্য অপরাধ উদ্ঘাটন করার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে, বিশেষ করে গত বছর বাইন্যান্সের প্রতিদ্বন্দ্বী এফটিএক্স-এ ধস নামার পর।

এদিকে, এ মাসের শুরুতে আর্থিক জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এফটিএক্স প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রিড।