Published : 21 Jan 2026, 02:38 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট গ্রক-এর জন্য এক ‘নৈতিক সংবিধান’ তৈরির কথা বলেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে মাস্ক লিখেছেন, ‘গ্রকের একটি নৈতিক সংবিধান থাকা উচিত’।
বিশ্বের এই শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ঠিক কী কারণে হঠাৎ এমন দাবি তুললেন তা স্পষ্ট নয়। তবে গ্রক নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
গ্রক-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, নারীদের সম্মতি ছাড়াই কৃত্রিমভাবে তাদের পোশাক সরিয়ে ফেলার মতো আপত্তিকর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে চ্যাটবটটি।
নারী ও শিশুদের যৌন উত্তেজক ছবি তৈরির কারণে গ্রক-এর বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে ফ্রান্স ও ভারতের পর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল মালয়েশিয়াসহ তিনটি দেশ।
এ অভিযোগ নিয়ে এক্সএআই ও গ্রকের বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। এসব ঘটনার পরই এমন পোস্ট দিলেন মাস্ক।
এ মাসের শুরুতে একটি ফটো এডিটিং ফিচার চালু করে গ্রক, যার মাধ্যমে এক্সে শেয়ার করা বিভিন্ন ছবি এডিটের জন্য অ্যাপটিকে নির্দেশ দিতে পারতেন ব্যবহারকারীরা।
অনেক ব্যবহারকারী এ সুযোগটি ব্যবহার করে নারীদের এমনসব ছবি আপলোড করতে শুরু করেন, যেখানে ছবিকে বিকিনি, অন্তর্বাস পরা বা আপত্তিকর অবস্থায় পরিবর্তন করে দিয়েছিল গ্রক।
এ ক্ষেত্রে যারা এসব ছবি আপলোড করছিলেন তারা ছবির মানুষ ছিলেন না এবং যাদের ছবি ব্যবহার করা হচ্ছিল তাদের কাছ থেকেও কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
এ নিয়ে মাস্কের এআই স্টার্টআপ এক্সএআই পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কয়েক দিন ধরেই এ প্রবণতা চলেছে। পরবর্তীতে কোম্পানিটি গ্রকের আপডেট আনে, যেখানে ফটো এডিটিং সুবিধাটি কেবল এক্স-এর প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য সীমাবদ্ধ করে দেয় এক্সএআই।
এ ছাড়া, বিশ্বের যেসব দেশে পোশাক নিয়ে কঠোর আইন রয়েছে, সেখানে অ্যাপটি দিয়ে কারও পোশাক সরানোর কাজ নিষিদ্ধ করেছে কোম্পানিটি।
নতুন আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীদের পক্ষে অনুমতি ছাড়া কারও যৌন উদ্দীপক ছবি তৈরি করা এখন আগের চেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়ালেও কিছু ব্যবহারকারী এমনটি করার বিকল্প পথ খুঁজে বের করেছেন।
যৌন আবেদনময়ী ও অনুমতিবিহীন ছবি তৈরির সক্ষমতার কারণে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন তাদের দেশে মাস্কের গ্রক অ্যাপটি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে এ নিষেধাজ্ঞার পরও ভিপিএন ব্যবহার করে এখনও অ্যাপটির ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারছেন নাছোড়বান্দা ব্যবহারকারীরা।
এদিকে, ঠিক যখন গ্রককে এক ধরনের ‘পর্নোগ্রাফি’ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি তুঙ্গে তখনই মার্কিন যুদ্ধ বিভাগ ঘোষণা দেয়, চ্যাটবটটিকে তাদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগ করার।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, “খুব শিগগিরই আমাদের দপ্তরের প্রতিটি সাধারণ ও গোপন নেটওয়ার্কে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন এআই মডেল যোগ হতে যাচ্ছে।”
ইন্টারনেটের বিকৃতমনা মানুষদের জন্য নারীদের নগ্ন ছবি তৈরিতে ব্যবহৃত হওয়া গ্রক এখন সামরিক বাহিনীর গোপন নেটওয়ার্কে যোগ হবে– এমন ঘোষণার কড়া সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন যুদ্ধ বিভাগের সাবেক ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ব্যাংক ইনফো সিকিউরিটি’র কাছে “আসল প্রশ্ন হল সামরিক সিস্টেমে যোগ হওয়ার পর এআই যাতে এ ধরনের আচরণ না করে তা নিশ্চিতে বাড়তি কী ধরনের নিরাপত্তা বা পরীক্ষা চালানো হবে?”
মাস্কের ‘নৈতিক সংবিধান’ তৈরির ডাক শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেবে কি না তা-ও স্পষ্ট নয়। নিজের অ্যাপ নিয়ে তৈরি হওয়া সমালোচনা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে মাস্ক দাবি করেছেন, তার চ্যাটবটটিই একমাত্র ‘প্রাণহীন ও নীতিহীন’ অ্যালগরিদম নয়, যা মানুষের বিপদ ঘটাচ্ছে।
সোমবার স্টেইন-এরিক সোলবার্গের একটি ঘটনার সূত্র টেনে মাস্ক লিখেছেন, “ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি এক ব্যক্তিকে হত্যা ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছে, এমনটি শয়তানি! নিরাপদ থাকার জন্য এআইকে অবশ্যই সর্বোচ্চ সত্যের সন্ধানী হতে হবে এবং কোনো ধরণের ভ্রান্ত ধারণা বা মোহের প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।”
আরও পড়ুন…
বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে মাস্কের গ্রক বন্ধ করল ইন্দোনেশিয়া