বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে মাস্কের গ্রক বন্ধ করল ইন্দোনেশিয়া
এ পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এ ধরনের এআই টুলে প্রবেশাধিকার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করল ইন্দোনেশিয়া।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বা এআই-জেনারেটেড পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরির ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রক সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ইন্দোনেশিয়া।
শনিবার এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়াই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এ এআই টুলে সেবা চালানোর সুযোগ প্রত্যাহার করল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
ইউরোপ থেকে এশিয়ার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ অ্যাপে থাকা যৌনতাপূর্ণ কনটেন্টের কড়া সমালোচনার পর ইন্দোনেশিয়া এমন পদক্ষেপ নিল। এরইমধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্বের অনেক দেশ।
বৃহস্পতিবার মাস্কের এআই স্টার্টআপ ও গ্রক-এর নির্মাতা ‘এক্সএআই’ বলেছে, আপাতত ছবি তৈরি ও এডিটের এই সুবিধাটি কেবল অর্থের বিনিময়ে ব্যবহারকারীদের জন্য পাওয়া যাচ্ছে।
কোম্পানিটির সুরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটি সারানোর জন্যই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্লাটফর্মটি। এসব ত্রুটির কারণে শিশুদের ‘আপত্তিকর’ ছবিসহ বিভিন্ন ‘যৌনতাপূর্ণ’ কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল।
ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল মন্ত্রী মেউতিয়া হাফিদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “কারো সম্মতি ছাড়া তাদের নগ্ন ছবি তৈরি করাকে মানবাধিকার, মর্যাদা ও ডিজিটাল দুনিয়ায় নাগরিকদের নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে সরকার।”
বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য এক্স কর্মকর্তাদেরও তলব করেছে ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রণালয়।
এদিকে, নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে মাস্ক বলেছেন, এআই দিয়ে অবৈধ কনটেন্ট তৈরি করলেই ছাড় পাওয়া যাবে না। কোনো ব্যবহারকারী যদি গ্রক ব্যবহার করে বেআইনি কিছু তৈরি করেন তবে প্রচলিত আইনে একজন অপরাধী যে শাস্তি পান তাকেও একই শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে এক ইমেইল বার্তায় এক্সএআই বলেছে, “মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো মিথ্যা কথা বলে”।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি এক্স।
বিশ্বের অন্যতম বড় মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অত্যন্ত কঠোর আইন রয়েছে, যার মাধ্যমে অনলাইনে যে কোনো ধরনের ‘অশ্লীল কনটেন্টে’র শেয়ার নিষিদ্ধ করেছে দেশটি।
আরও পড়ুন…
