Published : 05 Jun 2026, 03:32 PM
হাই-এন্ড ল্যাপটপের বাজারে অ্যাপলকে টপকে যেতে এবার সম্পূর্ণ নতুন রূপে হাজির হয়েছে মাইক্রোসফট। কোনো অদ্ভুত ডিজাইন বা জটিলতা ছাড়াই কেবল পারফরম্যান্স মাথায় রেখে এনভিডিয়ার চিপ দিয়ে তৈরি নতুন ল্যাপটপ এনেছে কোম্পানিটি।
মাইক্রোসফটের ভারী ও শক্তিশালী সারফেস নোটবুকগুলোর ভাগ্য খুব একটা ভালো নয়। কারণ, একদম শুরুর ‘সারফেস বুক’ দেখতে দারুণ হলেও বেশ ভারী এবং পুরনো হার্ডওয়্যারের কারণে এর পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল না।
এরপর ‘সারফেস ল্যাপটপ স্টুডিও’ তার আসল কার্যসক্ষমতা প্রমাণ করতে করতে দুটি প্রজন্ম পার করে দিয়েছে, আর ততদিনে এর দামও আকাশচুম্বী হয়ে গিয়েছিল।
তবে এবার পেশাদার ব্যবহারকারীদের মন জয় করতে মাইক্রোসফট বাজারে নিয়ে আসছে তাদের নতুন ‘সারফেস ল্যাপটপ আল্ট্রা’। ১৫ ইঞ্চির এ ল্যাপটপটিতে শক্তিশালী গ্রাফিক্স ও এআই পারফরম্যান্সের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে এনভিডিয়ার নতুন ‘আরটিএক্স স্পার্ক’ চিপ।
আগের হাই-এন্ড সারফেস নোটবুকগুলোর মতো এতে কোনো অদ্ভুত ফিচার, যেমন, খুলে ফেলা যায় এমন স্ক্রিন নেই, বরং ‘সারফেস ল্যাপটপ আল্ট্রা’ অ্যাপলের ম্যাকবুক প্রো-এর সঙ্গে সরাসরি টেক্কা দেওয়ার মতো চমৎকার ও সোজা-সাপ্টা ল্যাপটপ।
মাইক্রোসফটের সারফেস বিভাগের কর্পোরেট ভিপি অ্যান্ড্রু হিল বলেছেন, “ল্যাপটপটি আমাদের তৈরি এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ডিভাইস।”
এএমডি ও কোয়ালকমের একদম নতুন চিপগুলোর সঙ্গে টেক্কা দিতে এনভিডিয়ার ‘আরটিএক্স স্পার্ক’ চিপটিকে বড় বাজি হিসাবে দেখা হচ্ছে। এ চিপের বিশেষত্ব হচ্ছে, এতে রয়েছে ছয় হাজারের বেশি ব্ল্যাকওয়েল জিপিইউ কোর ও ২০টি এআরএম সিপিইউ কোর।
এনভিডিয়ার দাবি, তাদের এ চিপটি জিপিইউ, সিপিইউ ও এনপিইউ মিলিয়ে পেটাফ্লপ সমমানের এআই পারফরম্যান্স দিতে পারে। একইসঙ্গে এর গ্রাফিক্স পারফরম্যান্স অনেকটাই ‘আরটিএক্স ৫০৭০’ চিপ দিয়ে তৈরি ল্যাপটপ জিপিইউ-এর কাছাকাছি। অথচ চিপটি সিঙ্গেল ডিজিট থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮০ ওয়াট পর্যন্ত শক্তি সাশ্রয় করে কাজ করতে পারে।
প্রথম দেখায় অবশ্য সারফেস ল্যাপটপ আল্ট্রা’কে কাজ করার সাধারণ একটা শক্তিশালী ল্যাপটপ বলেই মনে হবে।
তবে এ ল্যাপটপে রয়েছে ২ হাজার নিটস পর্যন্ত সর্বোচ্চ এইচডিআর ব্রাইটনেসওয়ালা নতুন ১৫ ইঞ্চির এক ‘মিনি-এলইডি আল্ট্রা’ স্ক্রিন এবং মাইক্রোসফটের এযাবৎকালের তৈরি সবচেয়ে বড় ট্র্যাকপ্যাড ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজন হতে পারে এমন সব ধরনের পোর্ট। যার মধ্যে রয়েছে ইউএসবি টাইপ-এ ও টাইপ-সি, এইচডিএমআই এবং একটি ফুল-সাইজ কার্ড রিডার।
ঠিক ম্যাকবুক প্রো’র মতোই সারফেস ল্যাপটপ আল্ট্রার ওজনও প্রায় দুই কেজির নিচে রাখা হয়েছে। ল্যাপটপটি যে পেশাদার কাজের জন্য উপযোগী তা প্রমাণ করতেই যেন ম্যাকবুক প্রো’র মতো একেও বাজারে আনা হচ্ছে কালো ও গাঢ় রুপালি রঙে।
ল্যাপটপটি উন্মোচনের এক পোস্টে এর গুণগানে মাইক্রোসফটের সিভিপি ব্রেট অস্ট্রম লিখেছেন, “এ ধরনের একটি মেশিন চুপচাপ বসে থাকার জন্য নয়, বরং এটাকে খাটাতে হবে। সর্বোচ্চ সীমানায় নিয়ে যেতে হবে, যা অন্য সবার কাছে অসম্ভব। বিষয়টিকে বাস্তবে রূপ দিতে ল্যাপটপটি ব্যবহার করতে হবে। পৃথিবী গড়ার কারিগরদের হাতেই শোভা পায় এমন ল্যাপটপ।”
তবে সারফেস ল্যাপটপ আল্ট্রা হাতে পেতে ব্যবহারকারীদেরকে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
মাইক্রোসফট বলেছে, এ বছরের শরতে বাজারে আসবে ল্যাপটপটি। আর স্বভাবসুলভভাবেই এর দাম কত হতে পারে সে বিষয়ে তারা এখনও একটি শব্দও খরচ করেনি।