Published : 12 Dec 2025, 05:13 PM
জিমেইলে ‘স্টোরেজ ফুল’ এই মেসেজ দেখা অনেকের জন্যই পরিচিত অভিজ্ঞতা। স্টোরেজ খালি করতে চাইলে ইমেইল, অ্যাটাচমেন্ট বা গুগল ড্রাইভের ফাইলগুলো বাছাই করে মুছে ফেলতে হয়।
অনেক ব্যবহারকারীরই সময় বা ইচ্ছা থাকে না এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল হারানোর ঝুঁকি নিতে চান না। তাই এই সমস্যার সাময়িক সমাধান হিসেবে বর্তমান ইমেইলগুলো নতুন একটি জিমেইল অ্যাকাউন্টে ইমপোর্ট করা যায়। পদ্ধতি হলো-
প্রথমে নতুন একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুলুন। উপরের ডান দিকে সেটিংস আইকনে ক্লিক করে ‘সি অল সেটিংস’-এ যান। ‘অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট’ ট্যাব নির্বাচন করুন। ‘চেক মেইল ফ্রম আদার অ্যাকাউন্টস’-এর পাশে ‘অ্যাড এ মেইল অ্যাকাউন্ট’ বেছে নিন। পপ-আপ উইন্ডোতে পুরোনো ইমেইল অ্যাড্রেস লিখে ‘নেক্সট’ চাপুন।
পরের ধাপে ‘ইমপোর্ট ইমেইলস ফ্রম মাই আদার অ্যাকাউন্ট’ নির্বাচন করে আবার ‘নেক্সট’ চাপুন। ইমেইল ঠিকানা, ইউজারনেম, পাসওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিন। ‘পিওপি সার্ভার পোর্ট’ হিসেবে ৯৯৫ নির্বাচন করুন। ‘অলওয়েজ ইউজ এ সিকিওর কানেকশন হোয়েন রিট্রিভিং মেইল’ বক্সে টিক দিন।
এবার ‘আর্কাইভ ইনকামিং মেসেজ (স্কিপ দ্য ইনবক্স)’ বক্সে টিক দিন। ইচ্ছে করলে ‘লেবেল ইনকামিং মেসেজেস’ বক্সে টিক দিতে পারেন। সবশেষে নিচের ডান দিকে ‘অ্যাড অ্যাকাউন্ট’ চাপুন।
যদি ইমেইল পরিবর্তন করতে আপত্তি না থাকে সম্পূর্ণ নতুন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ সমাধান বলে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার। এ ছাড়া, মনে রাখতে হবে গুগল স্টোরেজ ফুল হওয়ার কারণ যদি ইমেইল না হয়ে অন্য ফাইল হয় তাহলে এ পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধান হবে না।
স্টোরেজ বারবার ফুরিয়ে যাওয়া ঠেকাতে কী করবেন
ইনবক্স বার বার খালি করতে যদি না চাইলে ইমেইল সাবস্ক্রিপশন বাতিল করুন। ইনবক্স দ্রুত ভরে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো অপ্রয়োজনীয় নিউজলেটার ও প্রচারমূলক ইমেইল।
যাদের ইমেইল আর পেতে চান না তাদের পাঠানো মেইল খুলুন। অনেক ক্ষেত্রে নামের পাশে ‘আনসাবস্ক্রাইব’ বোতাম থাকে। অন্য ক্ষেত্রে ইমেইলের ভেতরে থাকা ‘আনসাবস্ক্রাইব’ ক্লিক করতে হয়। তবে সতর্ক থাকতে হবে অনেকে স্ক্যাম লিংককে ‘আনসাবস্ক্রাইব’ বোতাম হিসেবে ছদ্মবেশে ব্যবহার করে। ভুল লিংক ক্লিক করলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি থাকে।
চাইলে ‘লিভ মি আলোন’, ‘ক্লিন ইমেইল’ বা ‘ইনবক্স জিরো’-র মতো টুল দিয়ে একসঙ্গে বড় পরিমাণে সাবস্ক্রিপশন বাতিল করতে পারবেন।
অনেক কোম্পানি ভিন্ন ভিন্ন ইমেইলিং সিস্টেম ব্যবহার করে তাই একবার আনসাবস্ক্রাইব করলেও আবার মেইল আসতে পারে। তখন একাধিকবার আনসাবস্ক্রাইব করতে হবে।
যদি স্প্যাম কোম্পানির ইমেইল সমস্যা তৈরি করে তবে গুগলে রিপোর্ট করতে হবে। রিপোর্ট করতে চাইলে ইমেইলের ডান কোণে তিন ডটে ক্লিক করে ‘ব্লক’, ‘রিপোর্ট স্প্যাম’, ‘রিপোর্ট ফিশিং’ বা ‘রিপোর্ট ইলিগ্যাল কনটেন্ট’ নির্বাচন করুন।
অতিরিক্ত স্টোরেজের বিকল্প সমাধান
১৫জিবি ফ্রি স্টোরেজের বড় অংশ যদি ছবিতে ভরা থাকে তাহলে দুইটি পথ রয়েছে। হয় ক্লাউড স্টোরেজ কিনুন অথবা একটি ফিজিক্যাল এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভ ব্যবহার করুন।
গুরুত্বপূর্ণ ফাইল হলে বিভিন্ন ধরনের স্টোরেজে একাধিক কপি রাখা সবসময়ই সবচেয়ে নিরাপদ।
গুগল ওয়ান ৩০ জিবি থেকে দুই টেরাবাইট পর্যন্ত মাসিক বা বাৎসরিক সাবস্ক্রিপশনসহ বিভিন্ন প্ল্যান অফার করে। স্টোরেজ কমে এলে গুগল সাধারণত স্ক্রিনের ওপর নোটিফিকেশন দিয়ে অফার দেয়। অনেক সময় ফ্রি ট্রায়াল বা সীমিত সময়ের ছাড়ও পাওয়া যায়।
অন্যান্য জনপ্রিয় ক্লাউড স্টোরেজ অপশন হলো অ্যাপল আইক্লাউড, মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভ এবং বক্স।
ট্র্যাশ ফোল্ডার খালি করাও জরুরি। ইমেইল ডিলিট করলেই তা সঙ্গে সঙ্গে মুছে যায় না, ট্র্যাশ ফোল্ডারে জমা থাকে আরও ৩০ দিন। বড় পরিমাণে ইমেইল ডিলিট করার পর অবশ্যই ট্র্যাশ ফোল্ডার খালি করুন নইলে এটি স্টোরেজ দখল করে রাখবে।