Published : 14 Jun 2026, 10:20 AM
সে বহু আগের ঘটনা। শহুরে জীবনবিচ্ছিন্ন কোনো গ্রাম থেকে এক বৃদ্ধ এসেছেন রাজধানী শহরে। এসে সুউচ্চ ভবন দেখে তিনি আপন মনেই বলছেন, এই বিল্ডিং বানাতে নিশ্চয়ই ১০ কুড়ি টাকা লেগেছে!
বৃদ্ধ গুনতেই জানেন ১০ কুড়ি পর্যন্ত। ফলে এর বাইরে কল্পনা করাও তার জন্য কঠিন। ঠিক একই পরিস্থিতি হবে সাধারণ কেউ যদি এক ট্রিলিয়ন ডলার মানে কত, সেটি হিসাব করতে যান।
আর এ পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারে এগিয়ে এসেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ওয়্যার্ড। বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হিসেবে ইলন মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর এক বিশ্লেষণে ট্রিলিয়ন ডলার আসলে কত বড় অঙ্ক, তা নানা উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে এ প্রকাশনা।
প্রতিবেদনের শুরুতেই বলা আছে, এক ব্যক্তির হাতে এমন বিপুল সম্পদ এবং তার সঙ্গে জড়িত ক্ষমতার পরিমাণ কল্পনা করাও অনেকের জন্য কঠিন। কারণ, এক ট্রিলিয়ন ডলার এক বিলিয়নের হাজার গুণ, আর বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের জন্য এই পরিমাণ সম্পদ প্রায় অকল্পনীয়।
সবচেয়ে পরিচিত তুলনাগুলোর একটি হলো সময়। যদি কেউ এক মিলিয়ন সেকেন্ড গুনতে শুরু করেন, তাহলে শেষ করতে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ১১ দিন। এক বিলিয়ন সেকেন্ড গুনতে লাগবে প্রায় ৩১ বছর ৮ মাস ১২ দিন। কিন্তু এক ট্রিলিয়ন সেকেন্ড গুনতে সময় লাগবে প্রায় ৩১ হাজার ৭০০ বছর। অর্থাৎ আজ সেই গণনা শেষ করতে চাইলে সেটা শুরু করতে হতো প্রস্তর যুগে, যখন নিয়ান্ডারথালরা পৃথিবী থেকে ক্রমশ বিলুপ্ত হচ্ছিল।
দূরত্বের দিক থেকেও অঙ্কটি বিশাল। ধরা যাক, প্রতি মিটার হাঁটার জন্য কেউ ১ কোটি ডলার করে পাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে মিউজিয়াম অফ মডার্ন আর্ট পর্যন্ত (ঢাকায় মোটামুটিভাবে বলা চলে মাণিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত) হেঁটেই এক বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। কিন্তু এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে হলে হাঁটতে হবে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার, যা টানা ২৩টি ম্যারাথনের সমান।
ওজনের হিসাবেও ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। একটি মার্কিন এক ডলারের নোটের ওজন প্রায় এক গ্রাম। সে হিসাবে ১০ লাখ এক ডলারের নোটের ওজন হবে প্রায় এক মেট্রিক টন, যা একটি ছোট গাড়ির সমান। অন্যদিকে এক ট্রিলিয়ন এক ডলারের নোটের ওজন হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৫ হাজার নীল তিমির সম্মিলিত ওজনের সমান।
প্রতিবেদনটি আরও বলছে, যদি এক ট্রিলিয়ন পেনি মুদ্রা স্তূপ করা হয়, তাহলে সেই স্তূপ চাঁদে গিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবে, তাও দুইবার।
এত বিপুল অর্থ দিয়ে কী করা সম্ভব, তারও কিছু উদাহরণ দিয়েছে ওয়্যার্ড। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ক্ষুধা সমস্যার সমাধানে বছরে প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। সে হিসাবে এক ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে কয়েক বছর ধরে সেই ব্যয় মেটানো সম্ভব।
আর যদি যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষের মধ্যে সমানভাবে এক ট্রিলিয়ন ডলার ভাগ করে দেওয়া হয়, তাহলে প্রত্যেকে পাবেন প্রায় ২ হাজার ৮৬৫ ডলার।
প্রতিবেদন বলছে, যদি এক ট্রিলিয়ন ডলার চার শতাংশ বার্ষিক সুদে ব্যাংকে রাখা হয়, তাহলে প্রতিদিন সুদ বাবদ আয় হবে প্রায় ১১ কোটি ডলার।
শেষে কিছুটা রসিকতার সুরেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেউ যদি আপনাকে পয়সা গুনে হিসাব রাখতে বলেন, তাহলে মনে রাখতে পারেন, ইলন মাস্কও তার সব পেনি এক জীবনে গুনে শেষ করতে পারবেন না, এমনকি তার সন্তানদের সহায়তা নিয়েও।
মনে রাখা দরকার মাস্কের সন্তান সংখ্যা ১৪ জন।