Published : 24 Sep 2025, 02:17 PM
চাঁদে বরফ খোঁজার রোভার মিশনটি আবার চালুর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
সংস্থাটি ঘোষণা করেছে, ‘ভলাটাইলস ইনভেস্টিগেটিং পোলার এক্সপ্লোরেশন রোভার’ বা ভাইপার নামের প্রকল্পটি গত বছর বারবার বিলম্ব ও অতিরিক্ত খরচের কারণে বাতিল হয়েছিল। তবে মিশনটিকে আবার নাসার ‘কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেস’ বা সিএনপিএস প্রোগ্রামের অধীনে ২০২৭ সালে জেফ বেজোসের মহাকাশ কোম্পানি ‘ব্লু অরিজিন’-এর মাধ্যম চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
তবে এর আগে, ‘ব্লু অরিজিন’কে পরিকল্পনা করতে হবে ও দেখাতে হবে কীভাবে নিরাপদে চাঁদের পৃষ্ঠে রোভারটি পৌঁছে দেবে তারা। এতে যদি নাসা সন্তুষ্ট হয় তবে ভাইপার রোভারটি কোম্পানিটির ‘ব্লু মুন মার্ক ১’ ল্যান্ডারের মাধ্যমে চাঁদে পাঠানো হবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট।
এখনও পর্যন্ত চাঁদের মাটিতে নামেনি বা নামার চেষ্টা করেনি ব্লু অরিজিন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আরেকটি ‘কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেস’ বা সিএনপিএস মিশনের অংশ হিসেবে এ বছরের শেষ দিকে হতে পারে কোম্পানিটির ‘ব্লু মুন মার্ক ১’ ল্যান্ডারের প্রথম উৎক্ষেপণ।
‘ব্লু অরিজিন’-এর এই মিশন নাসাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে ভাইপার রোভারকে তারা একই ধরনের দ্বিতীয় ‘ব্লু মুন মার্ক ১’ ল্যান্ডারে পাঠাবে কি না, যেটির নির্মাণ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসা।
ভাইপারকে চাঁদে পাঠানো সম্ভব হলে এটিকে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহের দক্ষিণ মেরুর চরম পরিবেশে নামানো হবে, যেখানে জলীয় বরফ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ খুঁজে দেখবে রোভারটি, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য চন্দ্র মিশনে কাজে লাগতে পারে।
এক বিবৃতিতে নাসার বিজ্ঞান মিশন পরিচালনা বিভাগের এক্সপ্লোরেশন শাখার উপ-সহকারী প্রশাসক জোয়েল কার্নস বলেছেন, “এই রোভার মিশনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারবো, চাঁদের কোথায় বরফ থাকার সম্ভাবনা বেশি এবং কোথা থেকে সেটি সবচেয়ে সহজে সংগ্রহ করা সম্ভব। আর এ তথ্য ভবিষ্যতে মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে।
“এ ছাড়া, চাঁদে থাকা বিভিন্ন পানির উৎস নিয়ে গবেষণা করে সৌরজগত জুড়ে ছড়িয়ে থাকা পানি ও অন্যান্য উপাদানের বিস্তার ও উৎপত্তি সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য জানতে পারি আমরা। মহাকাশের পরিবেশ গঠনের পেছনে থাকা বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও সৌরজগতের অভ্যন্তরীণ অংশ কীভাবে বিকশিত হয়েছে তা আমাদের আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে এসব তথ্য।”