Published : 01 Apr 2026, 02:21 PM
গত ৫০ বছরে অ্যাপল কেবল নতুন প্রযুক্তির সঙ্গেই মানুষের পরিচয় ঘটায়নি, বরং মানুষের হাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাসেও আমূল পরিবর্তন এনেছে। ব্যক্তিগত কম্পিউটার থেকে স্মার্টফোন বা পরা যায় এমন গ্যাজেট প্রতিটি ক্ষেত্রেই অ্যাপল কখনও পুরানো ফিচার বিসর্জন দিয়ে, আবার কখনও সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরো প্রযুক্তি শিল্পকে পথ দেখিয়েছে।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, আইফোনকে বড় আকার দিয়ে ‘আইপ্যাড’ নাম দিয়ে বাজারে আনা এবং অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডসের মাধ্যমে পরিধানযোগ্য প্রযুক্তিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে অ্যাপল।
এ ছাড়া অ্যাপ স্টোর, ফেইসটাইম, আইক্লাউড ও আইমেসেজের মতো সফটওয়্যার ও সেবাগুলোকেও জনপ্রিয় করে তুলেছে কোম্পানিটি। অনেকেরই কোনো ছবিতে প্রথমবার ‘পিঞ্চ টু জুম’ বা আঙুল দিয়ে টেনে বড় করার অভিজ্ঞতা সম্ভবত আইফোনেই হয়েছিল।
তবে অ্যাপল যেমন অনেক কিছু দিয়েছে তেমনই অনেক কিছু কেড়েও নিয়েছে। প্রযুক্তির প্রয়োজনে অনেক কিছু পরিবর্তন করেছে অ্যাপল, যেমন পুরানো ফিচার সরিয়ে দেওয়া ও গ্রাহকদের নতুন সব প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে গ্রাহকদের।
ভালো হোক বা মন্দ, অ্যাপলের প্রভাব এতই বেশি যে তারা কোনো পদক্ষেপ নিলে পুরো প্রযুক্তি জগৎ সাধারণত সেটিই অনুসরণ করে। সচরাচর শুরুতে এর বিরোধিতা হয়। ব্যবহারকারী অভিযোগও করেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত... সবাই অ্যাপলের পথেই হাঁটেন।
অতীত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অ্যাপল বুঝতে পারত প্রযুক্তি কোন দিকে যাচ্ছে এবং তারা সময়ের আগেই সেই পরিবর্তনটি নিয়ে আসত। অনেক ক্ষেত্রে এসব পরিবর্তন শুরুতে ব্যবহারকারীদের জন্য কিছুটা কষ্টের কারণ হলেও সময় প্রমাণ করেছে, পুরানো প্রযুক্তি বাদ দেওয়ার বিষয়ে অ্যাপলের সিদ্ধান্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিক ছিল।
স্যার আর্থার কুইলার কাউচ একবার বলেছিলেন, “নিজের প্রিয় জিনিসকে বিসর্জন দাও”। অ্যাপলের ক্ষেত্রে এমন কথা যথার্থই বলা যায়।
অ্যাপলের এ অর্ধশতকের যাত্রায় উদ্ভাবন আর বিবর্তনের সেই রোমাঞ্চকর গল্পেই একবার নজর বুলানো যাক–

ডিস্ক ড্রাইভের বিদায়, প্রথম পর্ব
এটি দুই পর্বের ঘটনা। ‘আইম্যাক জি৩’ ছিল স্টিভ জবসের প্রত্যাবর্তনের এক বিশেষ চিহ্ন। রঙিন ও ‘অল ইন ওয়ান’ এই ম্যাক কম্পিউটারটি অনেক দিক থেকেই ছিল এক নতুন শুরু।
১৯৯৮ সালে অ্যাপল ব্যক্তিগত কম্পিউটারের প্রচলিত সব পোর্ট ও অসংখ্য কেবল ব্যবহারের প্রথা ভেঙে দিয়ে ইউএসবি এবং সে সময়ের স্বল্পপরিচিত ‘ইন্টারনেট’-এর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আইম্যাকের নামের শুরুর ‘আই’ অক্ষরটি ইন্টারনেটেরই প্রতীক।
এমনটি করতে গিয়ে ৩.৫ ইঞ্চির ফ্লপি ডিস্ক ড্রাইভ বাদ দেয় অ্যাপল। তবে এতে একটি ‘রিড অনলি’ অপটিক্যাল ডিস্ক ড্রাইভ ছিল। সে সময় ইন্টারনেটের গতি ও ইউএসবি’র ডেটা ট্রান্সফার স্পিড ধীরগতির হওয়ার পরও এর সুবিধা ছিল স্পষ্ট, যা পরবর্তী এক দশকে ক্রমাগত স্টোরেজ সক্ষমতার ‘থাম্ব ড্রাইভ’ বা পেনড্রাইভের পথ প্রশস্ত করেছে।
ফ্লপি ডিস্কের বিকল্প হিসেবে ‘জিপ ডিস্ক’ বা মিনিডিস্কের মতো উচ্চ সক্ষমতাওয়ালা প্রযুক্তি বাজারে আসার চেষ্টা করলেও সেগুলো মূল ডিস্ক ড্রাইভের মতো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়নি।
পরবর্তীতে ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ও ইন্টারনেটভিত্তিক ফাইল স্টোরেজ সবকিছুকেই সেকেলে বানিয়ে দেয়। অ্যাপল কেবল সময়ের একটু আগেই সেগুলোকে বিদায় জানিয়েছিল।
পোর্টেবল মিউজিক প্লেয়ারের বিদায়
সে সময় অ্যাপলের আইপড ছিল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মিউজিক প্লেয়ার। তবে শেষ পর্যন্ত অ্যাপলেরই নিজস্ব সবচেয়ে বড় হিট পণ্য আইফোনের কাছে হার মানে এই ডিভাইস। আইপড যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিল তখনই অ্যাপল বর্তমানের মতো আধুনিক প্রযুক্তির শীর্ষে থাকা কোম্পানিতে পরিণত হয়।
‘এমপিথ্রি’ প্লেয়ারের বাজার পুরোপুরি দখল করে নিয়েছিল এবং ২০০৬ সাল নাগাদ কোম্পানির মোট আয়ের ৪০ শতাংশই আসত আইপড থেকে। বিষয়টি ছিল প্রত্যেক আইটিউনস অ্যাকাউন্টে ‘ইউ২’ ব্যান্ডের অ্যালবাম ফ্রিতে দেওয়ারও আগের কথা।
২০০৭ সালের জুনে আইফোন বাজারে আসার ঠিক পরেই সেপ্টেম্বরে আইপড টাচ বাজারে আসে। এ ছিল ফোন করার সুবিধা ছাড়া একটি আইফোন, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, গান শোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোম্পানিটি কী ভাবছে।
পকেটে আইফোন থাকলে আলাদা করে আইপডের আর প্রয়োজন ছিল না, যা এক দশকের সেরা পণ্যকে এর চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় ও সফল কোনো পণ্য দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার অ্যাপলের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
অবশ্য আইপডের বিদায় ছিল বেশ ধীরগতির। অসংখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী এমপিথ্রি প্লেয়ারের কথা বাদ দিলেও অ্যাপল নিজে ২০১৪ সালে তাদের ‘আইপড ক্লাসিক’ বন্ধ করে দেয়।
এরপর ২০১৭ সালে অতি ক্ষুদ্র ‘আইপড ন্যানো’ ও ‘আইপড সাফল’ তৈরি করাও বন্ধ করে দেয় অ্যাপল। সবশেষে, ২০২২ সালের মে মাসে কোম্পানিটি তাদের শেষ মডেল ‘আইপড টাচ’ চিরতরে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
স্মার্টফোনের ফিজিকাল কিবোর্ড
আইফোনের ক্যাপাসিটিভ স্ক্রিন ও টাচ কিবোর্ড বাজারে আসার সময় তা ব্যবহারকারীদের জন্য একদম নতুন এক অভিজ্ঞতা ছিল। ফিজিকাল বা বাটন, সেটি সাধারণ ফোনের ৯-কি কিপ্যাড হোক বা ব্ল্যাকবেরি ফোনের কোয়ার্টি কিবোর্ড হোক না কেন তা ছেড়ে টাচ স্ক্রিনে অভ্যস্ত হওয়া মোটেও সহজ নয়, বিশেষ করে প্রথম আইফোনের কেবল ৩.৫ ইঞ্চির ছোট্ট স্ক্রিনে।
তবে এমনই ছিল ভবিষ্যৎ। স্মার্টফোনের স্ক্রিন যখন ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করল তখন ফিজিকাল কিবোর্ড ফোনের অনেকটা জায়গা দখল করে নিচ্ছিল। পরবর্তীতে অ্যান্ড্রয়েডে সোয়াইপ বা ‘সুইফট-কি’-এর মতো থার্ড পাটি কিবোর্ড অ্যাপগুলো আসার ফলে টাচ কিবোর্ডের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে যায়।
এগুলো টাইপিংয়ের নতুন সব পদ্ধতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাওয়ালা টেক্সট প্রেডিকশন ও টাইপিং অ্যালগরিদম নিয়ে আসে। বিভিন্ন সফটওয়্যার কিবোর্ড অনেক বেশি বহুমুখী ছিল। এগুলো অনেক ভাষা সমর্থন করত, বাটনের বিন্যাস ইচ্ছামতো সাজানো যেত এবং এক সময় এতে যোগ হল ইমোজির বিশাল ভাণ্ডার।
ফলে আগেকার সেই কোলন আর ব্র্যাকেট দিয়ে বানানো হাসির চিহ্নের আবেদনও এক সময় ফুরিয়ে গেল।
ডিস্ক ড্রাইভের বিদায়, দ্বিতীয় পর্ব
২০০৮ সালে স্টিভ জবস ম্যাকবুক এয়ার উন্মোচনের সময় তিনি একটি খাম থেকে ল্যাপটপটি বের করে এর অতি পাতলা বা আল্ট্রাপোর্টেবল ডিজাইন দেখিয়েছিলেন, যা বেশ আলোচিত হয়েছিল।
ল্যাপটপটিকে এতটা পাতলা করতে গিয়ে অ্যাপলকে এর ভেতরের অপটিক্যাল ড্রাইভটি বা সিডি/ডিভিডি ড্রাইভ পুরোপুরি বাদ দিতে হয়। এর মাধ্যমেই প্রথম কোনো ম্যাকবুক ডিস্ক ড্রাইভ ছাড়া বাজারে আসে, যা অতি পাতলা ল্যাপটপের এক নতুন যুগের সূচনা করে।
বিষয়টি ছিল ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের চিরাচরিত অভ্যাসের বাইরে বড় এক পরিবর্তন। ফলে অ্যাপল গ্রাহকদের জন্য কিছু বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছিল। তারা ‘রিমোট ডিস্ক’ নামে একটি ফিচার নিয়ে আসে, যার মাধ্যমে ম্যাকবুক এয়ার এর আশপাশে থাকা অন্য কোনো ম্যাক বা পিসি’র ডিস্ক ড্রাইভ তারহীনভাবে ব্যবহার করতে পারত।
এ ছাড়া আলাদাভাবে কেনার জন্য তারা একটি এক্সটার্নাল ‘ইউএসবি সুপার ড্রাইভ’ বাজারে আনে। উইন্ডোজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় শুরুতে বিষয়টি কিছুটা অপ্রচলিত মনে হলেও, প্রথম ম্যাকবুক এয়ার পুরো হার্ডওয়্যার শিল্পে ডিজাইনের নতুন মানদণ্ড তৈরি করে দিয়েছে।
অ্যাপলের বিভিন্ন ম্যাক কম্পিউটারকে অ্যাপ স্টোর থেকে সফটওয়্যার ইনস্টল করা, দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার এবং স্ট্রিমিং মিডিয়া ও ক্লাউড স্টোরেজের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তুরেছিল। পরবর্তীতে অ্যাপলের ম্যাকবুক প্রো ও অন্যান্য ম্যাকবুকও ২০১২ সাল নাগাদ অপটিক্যাল ডিস্ক ড্রাইভ পুরোপুরি বাদ দিয়েছে।
অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ (২০১০)
আইফোনের শুরুর দিনগুলোতে অ্যাপল বেশ আলোচিতভাবেই অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ সমর্থন করতে রাজি হয়নি। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে ইন্টারনেটের বড় অংশ অ্যানিমেশন ও ভিডিওর জন্য ফ্ল্যাশের ওপর নির্ভরশীল ছিল। আইফোন ও আইপ্যাডে এটি না থাকায় দীর্ঘ কয়েক বছর ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিংয়ের অভিজ্ঞতা বেশ বাধার মুখে পড়ে।
২০১০ সালের এপ্রিলে প্রথম আইপ্যাড বাজারে আসার ঠিক পরেই স্টিভ জবস ‘থটস অন ফ্ল্যাশ’ শিরোনামে একটি খোলা চিঠি লেখেন, সেখানে তিনি ফ্ল্যাশের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টাচ ফ্রেন্ডলি না হওয়ার কড়া সমালোচনা করেন।
ফ্ল্যাশের অনেক গেইম ও ইন্টারফেইস মাউস কার্সরের সুনির্দিষ্ট অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে কাজ করত, যা টাচস্ক্রিন আইফোনে সম্ভব ছিল না। তবে এটি একটি হিসেবি চালও ছিল। দ্রুত বেড়ে চলা আইওএস ব্যবহারকারীদের কাছে অ্যাডোবিকে প্রবেশাধিকার না দিয়ে অ্যাপল ডেভেলপারদের বাধ্য করে হয় পুরানো ফ্ল্যাশ আঁকড়ে না থাকতে ও এইচটিএমএল-৫-এর মতো ওপেন স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করতে।
এ ছাড়া ফ্ল্যাশভিত্তিক বিভিন্ন গেইম ও টুল আইফোনে অচল করে দেওয়ার মাধ্যমে অ্যাপল ডেভেলপার ও ব্যবহারকারীদের সরাসরি অ্যাপ স্টোরের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে অ্যাপল সেসব নির্মাণ থেকে আয় ও সেগুলো নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পায়। অবশেষে ২০২০ সালে অ্যাডোবি চিরতরে ফ্ল্যাশ বন্ধ করে দিয়েছে।
হেডফোন জ্যাক
অ্যাপলের মার্কেটিং গুরু ফিল শিলার হেডফোন জ্যাক বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ‘সাহসী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ২০১৬ সালে আইফোন ৭ বাজারে আসার সময় এটিই ছিল সবচেয়ে আলোচিত খবর। এরপর থেকে প্রতিটি ফ্ল্যাগশিপ আইফোন থেকে এ জ্যাকটি বাদ দেওয়া হয়েছে। আইফোন এসই-এর প্রথম মডেলটি ছিল হেডফোন জ্যাক থাকা শেষ আইফোন।
এ পরিবর্তনটিকে ব্যবহারকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে অ্যাপল আইফোন ৭, ৮ ও এক্স-এর সঙ্গে একটি ‘লাইটিং টু ৩.৫ মিমি’ অ্যাডাপ্টার বা ডংগল দেওয়া শুরু করে।
বক্সের ভেতরের হেডফোনগুলোও সাধারণ জ্যাকের বদলে লাইটনিং কানেক্টরে বদলে দেওয়া হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চার্জ দেওয়া ও গান শোনা একইসঙ্গে আর সম্ভব ছিল না, যদি না কারো কাছে তারহীন হেডফোন থাকত।
তবে দিনশেষে এ পদক্ষেপটিই ‘ট্রু ওয়্যারলেস ইয়ারবাডস’কে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। অ্যাপল প্রথম তারবিহীন ইয়ারবাডস নির্মাতা কোম্পানি ছিল না। তবে হেডফোন জ্যাক সরিয়ে দেওয়াটা নিঃসন্দেহে এর ব্যবহারকারীদের তারহীন প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হতে বাধ্য করেছে। ফলে ব্রাগি ড্যাশ, জাবরা বা জেবার্ড-এর মতো ব্র্যান্ডগুলোর পথও প্রশস্ত হয়েছিল।
বিশেষ পোর্টগুলোর বিদায়
২০১৬ সালটি ছিল ‘ডংগলগেট’-এর বছর। সে বছর ম্যাকবুক প্রো’র নতুন ডিজাইন ল্যাপটপের ইতিহাসে আরেকটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। ল্যাপটপকে আরও পাতলা ও পোর্টের ঝামেলা কমানোর উদ্দেশ্যে অ্যাপল পেশাদার ব্যবহারকারীদের নির্ভরশীল প্রায় সব পুরানো কানেক্টর বা পোর্ট সরিয়ে ফেলে।
এমনটি বিশেষভাবে দৃষ্টিকটু ছিল, কারণ এর আগের অর্থাৎ ২০১৫ সালের ম্যাকবুক প্রো মডেলটিকে এর কার্যকারিতার জন্য সেরা ধরা হত, যাতে ম্যাগসেইফ চার্জিং পোর্ট, দুটি থান্ডারবোল্ট ২ পোর্ট, দুটি ইউএসবি-এ পোর্ট ছাড়াও ফুল-সাইজ এইচডিএমআই পোর্ট ও একটি এসডি কার্ড স্লট ছিল।
এসবের পরিবর্তে আসে চারটি থান্ডারবোল্ট ৩ ইউএসবি-সি পোর্ট ও একটি হেডফোন জ্যাক। পাওয়ার ইউজারদের জন্য তাদের ইউএসবি-এ পেনড্রাইভ, তারওয়ালা ইন্টারনেট, এসডি কার্ড বা এক্সটার্নাল মনিটর সংযোগ দিতে ডংগল (কখনও কখনও একাধিক) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।
অনেকে বিশেষ করে ম্যাগসেইফ চার্জিং কানেক্টরটি সরিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ফলে ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার জন্য একটি ইউএসবি-সি পোর্ট দখল হয়ে থাকত। এ পদক্ষেপটি ইউএসবি-সি পেরিফেরাল ও অ্যাকসেসরিজের প্রাপ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
হয়ত সবাই এত ডংগল আর হাব সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে বিরক্ত হয়েই দ্রুত নতুন প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হয়েছিলেন। তবে ইউএসবি-এ ডিভাইসগুলো এখনও রয়ে গেছে। এইচডিএমআই এখনও সবখানে ব্যবহৃত হয় এবং এসডি কার্ড এখনও হারিয়ে যায়নি।
অবশেষে অ্যাপল তাদের ভুল সংশোধন করে। ২০২১ সালের ম্যাকবুক প্রো’র নতুন ডিজাইনে তারা আবারও এসডি কার্ড রিডার ও এইচডিএমআই পোর্ট ফিরিয়ে আনে। ম্যাগসেইফ’ও ফিরে আসে, যার ফলে একটি ইউএসবি-সি পোর্ট চার্জিংয়ের ঝামেলা থেকে ‘আপাতত’ মুক্তি পেয়েছে।