Published : 09 Jan 2026, 04:15 PM
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মিশন সংক্ষিপ্ত করে চারজন নভোচারীকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
আইএসএসে থাকা একজন নভোচারীর ‘গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার’ কারণে নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই মিশন শেষ করছে সংস্থাটি।
‘প্রাইভেসি’ রক্ষার খাতিরে ওই নভোচারীর নাম বা অসুস্থতার ধরন নাসা প্রকাশ করেনি। তবে সংস্থাটি বলেছে, ওই নভোচারীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
নাসার একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “জরুরি ভিত্তিতে আইএসএস খালি করে ফেলার মত কোনো ঘটনা এটা নয়। নভোচারীর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আমরা সবসময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করি।”
বিবিসি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, বৃহস্পতিবারের মহাকাশ স্টেশনের বাইরে গিয়ে মহাকাশে হাঁটার (স্পেসওয়াক) কথা ছিল দুজন নভোচারীর। কিন্তু বুধবার হঠাৎ করেই তা বাতিল করে নাসা। এক্ষেত্রেও নাসা স্বাস্থ্যগত কারণের কথা বলেছে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চার নভোচারীকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন নাসা প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান।
তবে খুব বেশি তথ্য নাসা প্রকাশ করেনি। কর্মকর্তারা বলছেন, শারীরিক সমস্যাটি মহাকাশ অভিযানের কোনো কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বা আঘাতজনিত নয়। নভোচারীদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা হবে, সে বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন তথ্য দেবেন তারা।
২০০০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মহাকাশ স্টেশনের নভোচারী পাঠিয়ে আসছে নাসা। সংস্থার ইতিহাসে এই প্রথম নির্ধারিত সময়ের আগেই কোনো মিশনের নভোচারীদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
চার সদস্যের এ দলটির নাম ‘ক্রু-১১। এ দলে রয়েছেন নাসার নভোচারী জেনা কার্ডম্যান ও মাইক ফিঙ্কে, জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘জাক্সা’র কিমিয়া ইউই ও রাশিয়ার নভোচারী ওলেগ প্লাতোনভ।

নাসার কর্মকর্তারা বলেছেন, একজন আমেরিকান নভোচারী আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থেকে যাবেন এবং তার সঙ্গে থাকবেন দুজন রাশিয়ান নভোচারী।
নাসার প্রধান স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা কর্মকর্তা ড. জেমস পোল্ক বলেছেন, নাসার ৬৫ বছরের বেশি সময়ের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো মিশন চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে ফিরে আসছে।
‘ক্রু-১১’ গত বছরের অগাস্টে স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন নভোযানে চড়ে মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিল। তাদের প্রায় ছয় মাস সেখানে থাকার কথা ছিল এবং আগামী মাসে চার সদস্যের আরেকটি দল পৌঁছানোর পর তাদের পৃথিবীতে ফেরার কথা ছিল।
মহাকাশ স্টেশনে প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে যার মাধ্যমে পৃথিবীতে থাকা চিকিৎসকরা নভোচারীদের সঙ্গে কথা বলে সেবা দিতে পারেন। এর মাধ্যমে শারীরিক অবস্থা যাচাই করে চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারেন নভোচারীরা, যা অনেকটা ভিডিও কলের মাধ্যমে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার মতোই।
‘ওপেন ইউনিভার্সিটি’র মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. সিমিওন বারবার বলেছেন, এই চার সদস্যের দলকে আগেভাগে ফিরিয়ে আনার ফলে কিছু বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ দেরি হতে পারে, যা আগামী মাসে নতুন দল যাওয়ার পর পুনরায় শুরু হবে।
“মহাকাশ স্টেশনটি প্রকৌশলবিদ্যার এক বিশাল ও জটিল কীর্তি। স্টেশনটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে, যেন সেটি পরিচালনার জন্য সেখানে অন্তত নির্দিষ্ট সংখ্যক নভোচারী থাকেন।
“নতুন ক্রুরা যতক্ষণ না স্টেশনে পৌঁছাচ্ছেন, ততক্ষণ স্টেশনে থেকে যাওয়া বাকি নভোচারীরা জটিল গবেষণামূলক কাজগুলো কমিয়ে আনতে বাধ্য হবেন এবং স্টেশনের দৈনন্দিন তদারকি ও একে সচল রাখার দিকেই বেশি নজর দেবেন।”