স্মার্ট রিং নিয়ে কাজ করছে অ্যাপল, স্যামসাং: প্রতিবেদন

স্মার্ট রিং খাতের বর্তমান বাজারের শীর্ষ কোম্পানি হল ফিনল্যান্ডভিত্তিক স্বাস্থ্য প্রযুক্তি স্টার্টআপ ‘অরা’। বাজারের ৫০ শতাংশ শেয়ার এ স্টার্টআপটির দখলে রয়েছে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Feb 2024, 09:59 AM
Updated : 24 Feb 2024, 09:59 AM

নিজেদের ‘গ্যালাক্সি আনপ্যাকড’ আয়োজনেই স্মার্ট রিংয়ের ভিডিও দেখিয়েছিল স্যামসাং। এবারে, খবর চাউর হয়েছে অ্যাপেলও গোপনে স্মার্ট রিং নিয়ে কাজ করছে।

উভয় টেক জায়ান্টই বেশ কয়েক বছর ধরে পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির জন্য নীরবে পেটেন্ট সংগ্রহ করে আসছে। আর, 'অ্যাপল রিং' বা 'গ্যালাক্সি রিং' দ্রুতই চালু হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। আর এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত উঠে এসেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইনডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে।

এ ছাড়া, ‘অ্যাপল রিং’-এর সম্ভাব্য বাণিজ্যিকীকরণ আসন্ন বলে এ খাতের অভ্যন্তরীণ এক ব্যক্তিকে উদ্ধৃত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কোরিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইটিনিউজ।

একজন ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের হিসাব রাখার জন্য নকশা করা বায়োমেট্রিক সেন্সরগুলোর পাশাপাশি অ্যাপলের সম্প্রতি চালু হওয়া মিক্সড রিয়ালিটি হেডসেট ভিশন প্রো’র সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের রিংয়ে ‘ওয়্যারলেস মোশন কন্ট্রোল’ বা তারবিহীন গতি নিয়ন্ত্রণ ফিচার থাকতে পারে।

এদিকে, জুলাইয়ের প্রথম দিকে স্যামসাংয়ের স্মার্ট রিং উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। স্বাস্থ্য ট্র্যাকিং ছাড়াও স্মার্ট রিংটিতে ‘ওয়্যারলেস পেমেন্ট’ বা ডিজিটালভাবে অর্থপ্রদানের ফিচারও থাকতে পারে।

স্যামসাং গত মাসে ‘গ্যালাক্সি আনপ্যাকড’ আয়োজনে প্রথম একটি স্মার্ট রিংয়ের ভিডিও দেখিয়ে বলেছিল এটি ‘স্যামসাং হেলথে’র মতো কোম্পানির স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে কাজ করতে পারে।

"ভবিষ্যত স্বাস্থ্যের ডিজিটাল রূপ পাল্টে দেওয়ার জন্য আমরা একটি শক্তিশালী ও সহজলভ্য স্বাস্থ্য ডিভাইস তৈরি করেছি, যেটি কেবল স্যামসাংয়ের পক্ষেই করা সম্ভব।” – সে সময়ে বলেছিল কোম্পানিটি।

অ্যাপল ও স্যামসাং উভয়ই পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি খাতে সাফল্য পেয়েছে। স্মার্ট রিংগুলোর বিষয়ে উদ্যোগী না হয়ে এরইমধ্যে অ্যাপল ও গ্যালাক্সি ওয়াচের ব্যবসায় শত কোটি ডলার আয় করে নিয়েছে কোম্পানি দুটি।

২০৩২ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী স্মার্ট রিংয়ের বাজারের মূল্য ১৪০ কোটি ডলার হবে বলে অনুমান করা হয়েছে পরামর্শ কোম্পানি ডেটাহরাইজনের ২০২৩ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে। এ খাতের বাজার মূল্য ২০২২ সালে ছিল ১৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

স্মার্ট রিং খাতের বর্তমান বাজারের শীর্ষ কোম্পানি হল ফিনল্যান্ডভিত্তিক স্বাস্থ্য প্রযুক্তি স্টার্টআপ ‘অরা’। বাজারের ৫০ শতাংশ শেয়ার এ স্টার্টআপটির দখলে রয়েছে বলে উঠে এসেছে বাজার বিশ্লেষণ কোম্পানি ৩৬০ ইন্ডাস্ট্রি ইনসাইটসের তথ্যে।

অরা’র ২৯০ ইউরো (বর্তমান ডলার মূল্যে ৩১৩ ডলার) মূল্যের স্মার্ট রিংটি বিভিন্ন কাজ, হৃদস্পন্দন, তাপমাত্রা, ঘুম ও রক্তচাপের মাত্রা পরিমাপ করতে পারে। এমনকি অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতেও এটি ব্যবহার করা যায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ইনডিপেন্ডেন্ট।

২০২০ সালে, ‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া স্যান ফ্রান্সিসকো’ ও সান দিয়েগোর গবেষকরা জানিয়েছেন কোনো লক্ষণ দেখানোর আগেই একজন পরিধানকারীর যে কোভিড-১৯ হয়েছে তা শনাক্ত করতে পেরেছিল একটি অরা স্মার্ট রিং।

“রোগের উপসর্গ শুরু হওয়ার তিন দিন আগে থেকেই আমরা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি।” – ইনডিপেন্ডেন্টের অংশগ্রহণ করা এক আয়োজনে বলেছেন অরার সিএফও মিকো কার্কাইনেন।

“তারা যদি আগে থেকেই মেসেজ পায়, তবে কোয়ারেন্টাইনে গিয়ে রোগের বিস্তার থামাতে পারবেন।”