চীন, রাশিয়া সমর্থিত ১১ হাজার চ্যানেল সরাল ইউটিউব
গোটা বিশ্বে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ও ‘সমন্বিত প্রভাব’ ঠেকানোর লক্ষ্যে গুগলের ‘থ্রেট অ্যানালিসিস গ্রুপ’-এর কাজের অংশ হিসেবে এসব অ্যাকাউন্ট সক্রিয়ভাবে মুছে ফেলছে ইউটিউব।
চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগ রয়েছে এমন হাজার হাজার প্রোপাগান্ডা চ্যানেল মুছে ফেলেছে অনলাইন ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম ইউটিউব।
সোমবার এক ঘোষণায় ইউটিউবের মূল কোম্পানি গুগল বলেছে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীন, রাশিয়া ও আরও কিছু দেশের রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রচার অভিযানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে এমন প্রায় ১১ হাজার ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছে তারা।
এ ঘটনায় চীনের সঙ্গে জড়িত সাত হাজার সাতশরও বেশি ইউটিউব চ্যানেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
যেসব ইউটিউব চ্যানেল মুছে ফেলা হয়েছে সেগুলো মূলত চীনা ও ইংরেজি ভাষায় ভিডিও বা কনটেন্ট শেয়ার করত, যেখানে চীনের পক্ষে কথা বলা, দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে সমর্থন করা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতি নিয়েও মন্তব্য করা হতো বলে প্রতিবেদনে লিখেছে সিএনবিসি।
মুছে ফেলা এসব চ্যানেলের মধ্যে প্রায় ২ হাজারটিরও বেশি চ্যানেল রাশিয়ার পক্ষে কথা বলত। এসব চ্যানেল থেকে বিভিন্ন ভাষায় কনটেন্ট প্রকাশ হত, যেখানে রাশিয়ার পক্ষ নেওয়ার পাশাপাশি ইউক্রেইন, নেটো ও পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা ছিল।
মে মাসে রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম ‘আরটি’-এর সঙ্গে যুক্ত ২০টি ইউটিউব চ্যানেল, চারটি বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্ট ও একটি ব্লগার ব্লগ মুছে ফেলেছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল। আরটি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের আগে কিছু রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সারদের সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির জন্য অর্থ দিয়েছিল তারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক টিম পুল, ডেভ রুবিন ও বেনি জনসনের মতো ইউটিউব ইনফ্লুয়েন্সাররা। ‘টেনেন্ট মিডিয়া’র জন্য কনটেন্ট তৈরি করেছিলেন তারা, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের একটি কোম্পানি।
রাশিয়া ইউক্রেইনে আক্রমণের কিছুদিন পর ২০২২ সালের মার্চে আরটি-এর বিভিন্ন চ্যানেল ব্লক করতে শুরু করে ইউটিউব।
গোটা বিশ্বে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ও ‘সমন্বিত প্রভাব’ ঠেকানোর লক্ষ্যে গুগলের ‘থ্রেট অ্যানালিসিস গ্রুপ’-এর কাজের অংশ হিসেবে এসব অ্যাকাউন্ট সক্রিয়ভাবে মুছে ফেলছে ইউটিউব।
গুগলের দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজারবাইজান, ইরান, তুরস্ক, ইসরায়েল, রোমানিয়া ও ঘানা থেকে এমন কিছু প্রচারণা চিহ্নিত করেছে তারা, যেগুলো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের টার্গেট করে তৈরি হয়েছিল। ওইসব প্রচারণার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ইউটিউব অ্যাকাউন্টও সরিয়ে দিয়েছে সার্চ জায়ান্টটি।
এসব প্রচারণার কিছু অংশ ছিল চলমান বিশ্বরাজনৈতিক সংঘর্ষের ওপর কেন্দ্রীভূত। যার মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধে দুই পক্ষের কথাবার্তা বা দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে দুই দিকেরই ভাবনা তুলে ধরা হত।
এক বিবৃতিতে ইউটিউবের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “সর্বশেষ আপডেটের ফলাফল তাদের জন্য নতুন কিছু নয়। এ ধরনের কাজ নিয়মিত চলছে ও এ ফলাফল তাদের আশানুসারে এসেছে, যা তাদের নিয়মিত ও চলমান কাজের অংশ মাত্র।”
এদিকে, প্রথম প্রান্তিকে ২৩ হাজারটিরও বেশি অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছে গুগল।
গত সপ্তাহে মেটা ঘোষণা করেছিল, ‘স্প্যামি কনটেন্ট’ ঠেকানোয় কোম্পানির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ১ কোটি প্রোফাইল মুছে ফেলেছে তারা, যেগুলো বড় বড় কনটেন্ট প্রযোজকদের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল।
