Published : 23 Sep 2025, 04:06 PM
এআই অস্ত্র ব্যবহার করলে বিশ্বে ‘টার্মিনেটর-স্টাইলের সর্বনাশ’ ঘটবে বলে সতর্ক করেছেন হলিউডে একের পর এক ‘ব্লকবাস্টার হিট’ সিনেমা উপহার দেওয়া নির্মাতা জেমস ক্যামেরন।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, গোটা বিশ্বে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার যদি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকে তবে তা এমন এক বিপর্যয়কর ভবিষ্যতের দিকে আমাদের নিয়ে যেতে পারে যেমনটি তিনি তার ‘টার্মিনেটর’ সিরিজে কল্পনা করেছিলেন।
রোলিং স্টোনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিখ্যাত লেখক চার্লস পেলেগ্রিনোর লেখা ‘ঘোস্টস অফ হিরোশিমা’ বইটি নিয়ে কথা বলার সময় এআই নিয়েও কথা বলেছেন পরিচালক ক্যামেরন।
এ বইটি হিরোশিমায় প্রথম পারমাণবিক বোমা হামলার কাহিনি নিয়ে লেখা এবং ক্যামেরন বড় পর্দায় এটি নিয়ে কাজ করতে চান বলে প্রতিবেদনে লিখেছে গার্ডিয়ান।
‘টাইটানিক’ ও ‘অ্যাভাটার’সহ সর্বকালের সবোর্চ্চ আয় করা চারটি চলচ্চিত্রের মধ্যে তিনটির পরিচালক ক্যামেরন বলেছেন, পেশাগতভাবে এআইয়ের ওপর নির্ভর করলেও ধ্বংসাত্মক বা নেতিবাচক উদ্দেশ্যে এর ব্যবহারের সম্ভাব্য ফল নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
“আমি এখনো মনে করি, ‘টার্মিনেটর’-এর মতো এক ধ্বংসাত্মক ভবিষ্যতের আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় এআই, এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা পাল্টা হামলার ব্যবস্থার সঙ্গেও। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে সব ঘটনা এত দ্রুত ঘটে যে, সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় খুবই কম থাকে। এত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হলে অত্যন্ত উচ্চস্তরের বুদ্ধিমত্তা দরকার। হয়ত আমরা বুদ্ধিমানের মতো কাজ করে এই প্রক্রিয়ায় একজন মানুষকে যুক্ত রাখব।
“কিন্তু মানুষের ভুল হয় এবং অতীতেও অনেক ভুল হয়েছে, যা আমাদের প্রায় পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। ফলে আমি নিশ্চিত নই।
“আমরা এখন মানবজাতির এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রকৃতির ধ্বংস, পারমাণবিক অস্ত্র এবং সুপার-ইন্টেলিজেন্স বা অতি উন্নত এআই– এই তিনটি বড় অস্তিত্বগত হুমকি আমাদের সামনে এসেছে। এ তিনটি হুমকিই এখন একসঙ্গে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে এবং রীতিমতো চূড়ায় পৌঁছেছে। আবার হয়ত এই সুপার-ইন্টেলিজেন্সই আমাদের সমস্যার সমাধান হতে পারে।”
আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার অভিনীত ক্যামেরনের ১৯৮৪ সালের প্রথম ‘টার্মিনেটর’ চলচ্চিত্রটি এমন এক বিশ্বের পটভূমিকায় তৈরি, যেখানে মানবজাতিকে শাসন করছে ‘স্কাইনেট’ নামের এক এআইনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
ক্যামেরনের বিভিন্ন চলচ্চিত্র, বিশেষ করে ‘অ্যাভাটার’ তৈরির সময় এআই ব্যবহার করেছেন তিনি। ক্যামেরনের ধারণা, প্রযোজনার খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে এ প্রযুক্তি এবং এ নিয়ে ইতিবাচক মতও রয়েছে তার।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ‘স্ট্যাবিলিটি এআই’ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিয়েছেন ক্যামেরন। এ বছরের শুরুতে তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতের বড় বাজেটের সিনেমা তৈরি অনেকটাই নির্ভর করবে ‘ভিএফএক্স-এর খরচ অর্ধেকে নামিয়ে’ আনার ওপর।
তবে ক্যামেরন স্পষ্ট করে বলেছেন, খরচ কমানোর এই প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই মানুষের চাকরি ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে না হয়, বরং কাজের গতি বাড়িয়ে যেন তা করা সম্ভব হোক।
এআই কখনো স্ক্রিপ্ট লেখক বা চিত্রনাট্যকারদের জায়গা নিতে পারবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ক্যামেরন। ২০২৩ সালে তিনি বলেছিলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না যে, এমন কোনো বুদ্ধিমত্তা যার শরীর-মন নেই তা মানুষের অভিজ্ঞতা, ভালোবাসা, মিথ্যা, ভয় ও মৃত্যু ইত্যাদি নিয়ে বলা কথা কেবল কপি-পেস্ট করে বা গুছিয়ে লিখে দেবে বা এমন কিছু তৈরি করতে পারবে, যা দর্শকের মনে গভীরভাবে নাড়া দেবে। কারণ এমন লেখা লেখার জন্য মানুষের মতো হৃদয় থাকতে হবে।”