মেটাকে শিশু যৌন নিপীড়নের বিজ্ঞাপন সরানোর নির্দেশ ভারতের
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে মেটার কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে দেশটি।
ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট ও বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটাকে কঠোর নোটিশ পাঠিয়েছে ভারত সরকার।
বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর এই ধরনের আপত্তিকর বিজ্ঞাপন অবিলম্বে নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার।
ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নিপীড়নকে উসকে দেয় এমন সব ধরনের পেইড বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট অবিলম্বে নিষ্ক্রিয় করার জন্য তারা মেটা’কে নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্প্রতি বিবিসির অনুসন্ধানী দল ‘বিবিসি আই’-এর এক তদন্তে উঠে এসেছে, ভারতে অর্থের বিনিময়ে এমন কিছু বিজ্ঞাপনের প্রচার চালাচ্ছে ইনস্টাগ্রাম, যা সরাসরি শিশু যৌন নিপীড়নমূলক উপাদানের বিস্তার ঘটাচ্ছে। এ তথ্য সামনে আসার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।
এরই প্রেক্ষিতে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটাকে নোটিশ পাঠিয়েছে ভারত সরকার। ওই নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে মেটার কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে দেশটি।
নোটিশে সরকার জানতে চেয়েছে, কীভাবে ও কোন নজরদারির অভাবে ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের স্পর্শকাতর ও আপত্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারের অনুমতি মিলল।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের ওই উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, “ইনস্টাগ্রামে পেইড বিজ্ঞাপনে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট আসার কারণে মেটাকে কঠোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।”
তিনি বলেছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় এরইমধ্যে ‘ইনস্টাগ্রামকে এমন সব বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছে, যা এই ধরনের জঘন্য উপাদানের প্রচার বাড়ায় বা তা সহজে খুঁজে পেতে সাহায্য করে’।
অন্যদিকে, এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে মেটা কর্তৃপক্ষ।
প্ল্যাটফর্মটির মূল কোম্পানি মেটা বলেছে, শিশু যৌন নিপীড়নের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তাদের নীতি কঠোর ও এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি রাখে।
পাশাপাশি তারা আরও দাবি করেছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের আপত্তিকর উপাদান ও কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্তের ব্যবস্থা ও এর প্রতিরোধ সক্ষমতাকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে তারা।
ওই মুখপাত্র বলেছেন, “নিয়ম লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট ও ব্যক্তিদের আগেভাগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে আমরা উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করি। তবে আমাদের সাড়ে তিনশ কোটি ব্যবহারকারীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা ও আমাদের নজরদারি এড়াতে চেষ্টা করা অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে।”
বিবিসির সেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশের কয়েক দিন পরেই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ নোটিশ জারি হল। তবে নোটিশটি সুনির্দিষ্টভাবে বিবিসির প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে কি না তা ভারত সরকার বা মেটা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করেনি।
অনুসন্ধানের খাতিরে বিবিসি ভারতে ইনস্টাগ্রামে ছদ্মনামী নতুন অ্যাকাউন্ট খোলে। কারণ, ব্যবহারকারীরা নিজে থেকে না খুঁজলেও প্ল্যাটফর্মটি নিজে থেকেই যৌন উদ্দীপক কনটেন্ট ব্যবহারকারীদের সামনে নিয়ে আসছিল।
বিবিসির সেই নতুন অ্যাকাউন্টটি এ ধরনের ১০টি প্রোফাইল অনুসরণ বা ফলো করার পর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইনস্টাগ্রাম সেই ছদ্মনামী অ্যাকাউন্টে প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফি সম্বলিত পেইড বিজ্ঞাপন দেখাতে শুরু করে।
এর কয়েক দিন পর সেখানে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক উপাদান প্রচারকারী বিজ্ঞাপনও দেখানো হয়, যার মধ্যে কিছু বিজ্ঞাপনের লিংক ব্যবহারকারীদের সরাসরি টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে যাচ্ছিল এবং সেখানে সেইসব আপত্তিকর উপাদান বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল।
বিবিসির এ অনুসন্ধানের জবাবে মেটা আগেই বলেছিল, ‘শিশুদের ওপর নিপীড়ন ভয়াবহ অপরাধ’ এবং তাদের বিভিন্ন অ্যাপে এর বিরুদ্ধে তারা আগ্রাসীভাবে লড়াই করে যাচ্ছে।
তবে মেটা এমন দাবিকে ‘পুরোপুরি ভুল ও অসত্য’ বলে বর্ণনা করেছে যে, তারা জেনেবুঝে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন সব ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে শিশুদের বিজ্ঞাপন দেখিয়েছে যাদের এ ধরনের উপাদানের প্রতি অনৈতিক আগ্রহ রয়েছে।
পাশাপাশি সুরক্ষার চেয়ে কোম্পানির আয় বা রাজস্বকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগটিও অস্বীকার করেছে মেটা।
