Published : 10 Dec 2025, 11:50 AM
ভ্রমণের পথে নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকে অথবা ডেটা খরচ বাঁচাতে চান অনেকে। এমন পরিস্থিতিতেও ‘গুগল ম্যাপস’ গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে শুধু আগেভাগে প্রস্তুতি থাকলে।
গুগল ম্যাপস অফলাইনে ব্যবহার করার উপায়, ক্যাশড ম্যাপস কীভাবে কাজ করে এবং ইন্টারনেট ছাড়া ম্যাপ ব্যবহার করতে কেমন লাগে সবই বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
আগেই ম্যাপ ডাউনলোড করুন
গুগল ম্যাপস ইন্টারনেট ছাড়া ব্যবহারের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আগে থেকেই প্রয়োজনীয় এলাকার ম্যাপ ডাউনলোড করে রাখা। এটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন দুই প্ল্যাটফর্মেই ফ্রি এবং চাইলে বিশাল এলাকা ডাউনলোড করতে পারেন। বিশেষত দূরবর্তী বা গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণের সময় যেখানে নেটওয়ার্ক দুর্বল কিংবা বিদেশে গেলে সীমিত ডেটা প্ল্যানের কারণে এই ফিচার খুবই সহায়ক।
ম্যাপ ডাউনলোড করতে অ্যাপের ওপরের ডান পাশে থাকা আপনার অ্যাভাটারে ট্যাপ করে ‘অফলাইন ম্যাপস’ নির্বাচন করতে হবে। এখানে ‘রেকমেন্ডেড ম্যাপস’ সেকশনে নিজের বাসা, অফিস, নিয়মিত যাতায়াতের স্থান বা জিমেইলে থাকা যাত্রার তথ্য দেখে গুগল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোডের জন্য এলাকা সাজেস্ট করে। যে এলাকার পাশে তিনটি ডট মেনু থাকবে সেখান থেকে ‘ডাউনলোড’ চাপলেই হবে অথবা ‘সিলেক্ট ইওর ওউন ম্যাপ’ বেছে নিয়ে নিজের মত এলাকা নির্বাচন করতে পারেন।
কোন এলাকাটি ডাউনলোড হবে তা জুম ইন বা জুম আউটের মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। নিচে দেখাবে কত স্টোরেজ লাগবে। প্রতিটি ডাউনলোড ২জিবি বা ১২০ বর্গকিলোমিটারে সীমাবদ্ধ। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী যত খুশি ভাগ করে ম্যাপ ডাউনলোড করা যায়। প্রয়োজনে কয়েকটি ওভারল্যাপ করে নিলেও সমস্যা নেই। শেষ হলে ‘ডাউনলোড’ চাপলেই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ডাউনলোড শেষ হলে সেই ম্যাপটি ‘ডাউনলোডেড ম্যাপস’ তালিকায় দেখা যাবে। গুগল সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম দেয় তবে প্রয়োজনে তিন ডট মেনু থেকে ‘রিনেম’ করে নিজের মতো নাম দিতে পারেন। প্রয়োজন না হলে এখান থেকেই ম্যাপ ডিলিট করা যাবে।
অফলাইন ম্যাপ প্রতি ৩০ দিনে ওয়াইফাই সংযোগ পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হয় এতে ডেটা হালনাগাদ থাকে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট ‘হাউ টু গিক’।
বিবেচনায় রাখতে পারেন ‘ক্যাশড ম্যাপস’
আগেভাগে ডাউনলোড না করলেও ‘গুগল ম্যাপস’ কিছুটা সাহায্য করতে পারে। অ্যাপটি সাময়িকভাবে বা ক্যাশ আকারে ব্যবহারকারীর দেখা কিছু এলাকার ম্যাপ সংরক্ষণ করে। ফলে হঠাৎ নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেলেও কিছু দূর পর্যন্ত ন্যাভিগেশন চালিয়ে যেতে পারবেন।
তবে এটি কখনোই অফলাইন ম্যাপের বিকল্প নয়। ক্যাশড ম্যাপ অনিয়ন্ত্রিত, সাময়িক এবং কতক্ষণ থাকবে তার নিশ্চয়তা নেই। এখানে সার্চ করা যায় না, রুট পরিবর্তন করা যায় না, নতুন নির্দেশনা পাওয়া যায় না, আর কোনো লাইভ ফিচারই ব্যবহার করা যায় না। জরুরি পরিস্থিতিতে এটি কাজে দিলেও এটি খুব সীমিত সহায়তা দেয়।
ইন্টারনেট ছাড়া গুগল ম্যাপস ব্যবহার কেমন?
অফলাইন গুগল ম্যাপস অনলাইনের মতোই দেখায় কিন্তু অভিজ্ঞতা পুরোটা পাওয়া যায় না। এটি মূলত ড্রাইভিং ন্যাভিগেশনের জন্য ডিজাইন করা। তাই হাঁটা, সাইক্লিং রুট বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সময়সূচি পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া ইন্টারনেটনির্ভর সব সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। যেমন, লাইভ ট্রাফিক আপডেট থাকে না, জ্যাম এড়ানোর জন্য স্বয়ংক্রিয় রিরাউটিং হয় না এবং সময়ের হিসাবও কম নির্ভুল হয়।
কোনো কোম্পানি বা দোকানের তথ্য সার্চ করা যাবে না, স্ট্রিট ভিউ বা স্যাটেলাইট ম্যাপ চালানো যাবে না এমনকি নিজের অবস্থান শেয়ার করাও সম্ভব নয়।
গুগল ম্যাপস পুরোদস্তুর ব্যবহার করতে ইন্টারনেট প্রয়োজন কিন্তু অফলাইন ন্যাভিগেশনের অভিজ্ঞতা এখনো নির্ভরযোগ্য এবং ভ্রমণবান্ধব। বিশেষত যেখানে নেটওয়ার্ক দুর্বল বা বিদেশে সীমিত ডেটা প্লান থাকে। তবে এর জন্য আগেভাগে ম্যাপ ডাউনলোড করে রাখা জরুরি।
সেরা অভ্যাস হলো কোনো অঞ্চলের অফলাইন ম্যাপ ডাউনলোড করে রাখা এবং নেট পাওয়া গেলে অনলাইন ফিচারগুলোর সুবিধা নেওয়া।