Published : 02 Apr 2026, 12:05 PM
সিলিকন ভ্যালির এক শহর তাদের বাসিন্দাদের বিনামূল্যে ক্যামেরাওয়ালা তারবিহীন ডোরবেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুলিশকে ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহে সহায়তার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নিয়েছে শহরটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান হোসের উত্তরের শহরতলী মিলপিটাসের সিটি কাউন্সিল সম্প্রতি এ কাজের জন্য ৬০ হাজার ডলার অনুমোদন করেছে।
‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভড’ বা ‘আগে আসলে আগে পাবেন’-এর ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারকে একটি করে ক্যামেরা দেওয়া হবে। খবরটি প্রথমে ‘মিলপিটাস বিট’ প্রকাশ করেছে এবং পরে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে গার্ডিয়ান।
সিটি কাউন্সিল সদস্য এভলিন চুয়া বলেছেন, এ ডোরবেল ক্যামেরা উদ্যোগের উদ্দেশ্য অপরাধ ঠেকানো।
তিনি বলেছেন, “জননিরাপত্তা আমার কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। অপরাধ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, অর্থাৎ আমাদের বাড়িতে, এ ডোরবেল ক্যামেরা ঠিক সেখানেই বসবে।
“বাসিন্দাদের হাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তুলে দিয়ে ও মিলপিটাস পুলিশ বিভাগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার মাধ্যমে আমরা আমাদের সম্প্রদায় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে শক্তিশালী এক সম্পর্ক তৈরি করছি, যা অপরাধ দমন ও আমাদের এলাকাকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।”
মিলপিটাসের সহকারী পুলিশ প্রধান টাইলার জ্যামিসন বলেছেন, পুলিশ একটি লিংক শেয়ারের পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় তাদের ডোরবেলের ফুটেজ আপলোড করতে পারবেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে নাগরিকরা এ প্রোগ্রামে অংশ নিতে নাম লেখাতে পারবেন।
তিনি বলেছেন, “বাসিন্দারা যতক্ষণ নিজেরা আমাদের সঙ্গে ফুটেজ শেয়ার না করছেন, ততক্ষণ আমরা তাদের ব্যক্তিগত কোনো ভিডিও দেখতে পাব না।”
সিটি কাউন্সিলের ১৭ মার্চের সভার এক কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, কাউন্সিল গত গ্রীষ্মে ক্যালিফোর্নিয়ারই স্যান লিয়ান্দ্রো শহরের মতো কর্মসূচি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছিল। এখানে শহর কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অ্যামাজন রিং ক্যামেরা সরবরাহ করে থাকে।
এ সভায় মিলপিটাস সিটি কাউন্সিল তিনটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছিল, যার মধ্যে একটি ছিল সরাসরি রিং ক্যামেরা কেনা ও বিতরণ করা। পুলিশ বিভাগের বর্তমান ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে এ কোম্পানির বিভিন্ন ক্যামেরা খুব সহজে যোগ করা যায়, যেটিকে বড় এক সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটি, মাউন্ট ভার্নন, সিরাক্যুস, ফিলাডেলফিয়া, জ্যাকসন ও ক্লিভল্যান্ডসহ বিভিন্ন শহরে বিনামূল্যে রিং ক্যামেরা বিতরণের উদ্যোগ চালু রয়েছে।
মিলপিটাস সিটি কাউন্সিলের সদস্যরা দাবি করেছেন এ কর্মসূচির লক্ষ্য জননিরাপত্তা বাড়ানো। তবে ডোরবেল ক্যামেরা, বিশেষ করে অ্যামাজনের ‘রিং’ নিয়ে দিন দিন বিতর্ক ও সমালোচনা বাড়ছে।
অনেকেরই আশঙ্কা, এসব ক্যামেরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাধারণ মানুষের ওপর নজরদারি চালাতে সাহায্য করবে। মিলপিটাস ঠিক কোন কোম্পানির ক্যামেরা বিতরণ করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে পুলিশ বলেছে, তারা অ্যামাজনের ‘রিং’ ক্যামেরা দেবে না। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন পুলিশ বিভাগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এ ক্যামেরা।
সভার কার্যবিবরণী থেকে ইঙ্গিত মেলে, কর্মকর্তারা শেষ পর্যন্ত এমন কিছু ক্যামেরার সুপারিশ করেছেন ‘যেগুলোর সক্ষমতা রিং ক্যামেরার মতোই’। তবে এ সিদ্ধান্তের কিছু অসুবিধাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যেমন এসব ক্যামেরা ‘সরাসরি পুলিশের বর্তমান ডিজিটাল সিস্টেমের সঙ্গে যোগ থাকবে না’ এবং ভিডিও ফুটেজের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুরোধ পাঠাতে হবে, যার ফলে ‘তদন্তে কিছুটা দেরি হতে পারে’।
জ্যামিসন বলেছেন, রিং ক্যামেরায় ভিডিও ফুটেজ জমা রাখার জন্য সাবস্ক্রিপশন ফি বা মাসিক খরচ দিতে হয়। “আমরা এ খরচের বোঝা বাসিন্দাদের ওপর চাপাতে চাইনি।” এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে পুলিশ যেসব ভিডিও পাবে সেগুলো ‘বাসিন্দারা শতভাগ স্বেচ্ছায় শেয়ার করবেন’।
ডোরবেল ক্যামেরার প্রাইভেসি সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্বেগ ফেব্রুয়ারিতে রিংয়ের ‘সুপার বোল’ বিজ্ঞাপনের পর নতুন করে আলোচনায় আসে।
ওই বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, এক নারী তার হারিয়ে যাওয়া কুকুর খুঁজে পেতে প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন। বিজ্ঞাপনে বলা হয়, রিং অ্যাপের মাধ্যমে কুকুরের ছবি পোস্ট করার সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন ক্যামেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কুকুরটিকে খুঁজতে শুরু করেছে।
তবে ‘সার্চ পার্টি’ নামের এ এআই ফিচারটি বাস্তবের তল্লাশি অভিযানের আদলে তৈরি, যা অনেককে আতঙ্কিত করেছে।
সমালোচকদের মতে, সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক নজরদারির এক জাল বা নেটওয়ার্ক তৈরিরই ইঙ্গিত এ এআই ফিচার।