Published : 23 Aug 2025, 10:41 AM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে প্রশিক্ষণ দিতে দুই হাজারেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক সিনেমা অবৈধভাবে ডাউনলোড করার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র নির্মাতা দুই মার্কিন কোম্পানি।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দায়ের করা মামলা অনুসারে, প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র নির্মাতা ‘স্ট্রাইক ৩ হোল্ডিংস’ ও ‘কাউন্টারলাইফ মিডিয়া’ দাবি করেছে, ২০১৮ সাল থেকে সচেতন সিদ্ধান্তে কম করে হলেও তাদের দুই হাজার তিনশ ৯৬টি কপিরাইটওয়ালা সিনেমার কপিরাইট লঙ্ঘন করেছে মেটা।
ওই দুই প্রযোজনা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ৩৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার পর্যন্ত দাবি করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
টরেন্টফ্রিক-এর মতে, পুরো যুক্তরাষ্ট্রে কপিরাইট লঙ্ঘন নিয়ে সবচেয়ে বেশি মামলা করা কোম্পানি ‘স্ট্রাইক ৩ হোল্ডিংস’। কোম্পানিটি সাধারণত সেইসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে যারা ‘বিটটরেন্ট’ নামের সফটওয়্যার ব্যবহার করে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক বিভিন্ন সিনেমা বিনা অনুমতিতে ডাউনলোড ও অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করে।
মেটার বিরুদ্ধে এ মামলাটিও মূলত অননুমোদিত বিটটরেন্ট ব্যবহারের বিষয়কে কেন্দ্র করেই, যা ইন্টারনেট থেকে ফাইল ডাউনলোড ও শেয়ারের একটি পদ্ধতি।
মামলার দাবি, মেটা জেনেবুঝেই “চোরাই উৎস থেকে ওইসব প্রাপ্তবয়স্ক সিনেমা ডাউনলোড করেছে, যাতে সেগুলো ব্যবহার করে তারা নিজেদের মেটা মুভি জেন, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ও অন্যান্য ভিডিওনির্ভর এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে পারে”।
চলচ্চিত্র নির্মাতা কোম্পানি দুটির অভিযোগ, মেটা বিটটরেন্টের ‘টিট-ফর-ট্যাট’ অ্যালগরিদমকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। অ্যালগরিদমটি এমনভাবে কাজ করে যে, যারা যত বেশি কনটেন্ট অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করে তাদের ডাউনলোড স্পিড তত বেশি বেড়ে যায়। মেটা এ পদ্ধতি ব্যবহার করে আরও দ্রুত ভিডিও ডাউনলোডের সুবিধা নিয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, “মেটা ইচ্ছাকৃতভাবে চলচ্চিত্র নির্মাতা কোম্পানির বিভিন্ন সিনেমা শেয়ার করেছে, যাতে তাদের ডাউনলোডের গতি বেড়ে যায় এবং আরও দ্রুত অন্যান্য কপিরাইটওয়ালা সিনেমা বা ভিডিও ডাউনলোড করে নিতে পারে।
“এ বিষয়টি সম্পর্কে বিশেষভাবে সচেতন ছিল মেটা এবং তদন্তেও প্রমাণ মিলবে, মেটা সচেতনভাবেই কেবল এসব সিনেমা সাবস্ক্রিপশন বা কিনে নেওয়ার বা বিটটরেন্ট ক্লায়েন্টদের কেবল ডাউনলোডের বদলে নিজেই ওইসব কোম্পানির কনটেন্ট ধারাবাহিকভাবে শেয়ারেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।”
বিটটরেন্ট-এর ব্যবহার নিয়ে অন্য একটি মামলায় মেটার কপিরাইট লঙ্ঘনের বিষয়টি খুঁজে পেয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র নির্মাতা কোম্পানি দুটি।
বিটটরেন্ট-এর বিরুদ্ধে ওই মামলাটি দায়ের করেছিলেন কিছু লেখক, যেখানে তারা অভিযোগ করেছেন, তাদের কপিরাইটওয়ালা কাজ অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করেছে মেটা।
টরেন্টফ্রিক বলছে, ওই মামলায় মেটা চোরাই উৎস থেকে কিছু কনটেন্ট সংগ্রহ করার কথা স্বীকার করেছে।
এ মামলার বিষয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরোধে কোনও সাড়া দেয়নি মেটা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কোম্পানি দুটি।