Published : 18 Apr 2026, 03:20 PM
দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরের সোনালী অধ্যায়ের ইতি টেনে নিজের গড়া কোম্পানি নেটফ্লিক্স ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্ট্রিমিং প্লাটফর্মটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রিড হেস্টিংস।
‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি’র সঙ্গে ৭ হাজার ২০০ কোটি ডলারের চুক্তি হাতছাড়া হওয়ার পর কোম্পানিটি যখন আবার গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে ঠিক তখনই তার এ প্রস্থানের খবর এল।
‘ডিভিডি রেন্টাল’ কোম্পানি থেকে নেটফ্লিক্সকে বিশ্বসেরা স্ট্রিমিং জায়ান্টে রূপান্তর করা হেস্টিংস এখন জনহিতকর কাজে সময় দিতে চান বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
বৃহস্পতিবার বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠানো ১৪ পৃষ্ঠার এক চিঠিতে নেটফ্লিক্স বলেছে, হেস্টিংস আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় বার্ষিক সভায় পুনর্নির্বাচনের জন্য দাঁড়াবেন না। তিনি এখন জনহিতকর কাজ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
হেস্টিংসের প্রস্থানের খবরে কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় আট শতাংশ কমেছে।
‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’কে দেওয়া এক নথিতে নেটফ্লিক্স বলেছে, “হেস্টিংসের পুনর্নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পেছনে কোম্পানির সঙ্গে কোনো ধরনের মতবিরোধ নেই।”
তবে কোম্পানিটির বোর্ডে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন তা এখনও জানায়নি নেটফ্লিক্স।
বিনিয়োগকারীদের কাছে লেখা চিঠিতে ৬৫ বছর বয়সী হেস্টিংস বলেছেন, নেটফ্লিক্স তার জীবন বদলে দিয়েছে।
“আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্মৃতি ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস। এ সময় আমরা প্রায় পুরো পৃথিবীর মানুষের জন্য আমাদের পরিষেবা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম।”
কোম্পানিটির দুই কো-সিইও টেড সারানডোস ও গ্রেগ পিটার্সকে ‘বিশেষ ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন তিনি। হেস্টিংসের মতে, নেটফ্লিক্সের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা এতটাই দৃঢ় যে তিনি এখন নিশ্চিন্তে নতুন কাজে মনোযোগ দিতে পারেন।
প্রায় ৩০ বছর আগে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় রিড হেস্টিংস ও উদ্যোক্তা মার্ক র্যান্ডলফ মিলে নেটফ্লিক্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সাধারণ মেইল-অর্ডার ডিভিডি কোম্পানি থেকে নেটফ্লিক্সকে ‘স্ট্রিমিং টিভির যুগের আইকন’ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনের মূল কারিগর ছিলেন হেস্টিংস।
শুরুতে ‘ব্লকবাস্টার’-এর মতো ডিভিডি রেন্টাল চেইনগুলো তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও ২০০৭ সালে স্ট্রিমিং পরিষেবা চালুর মাধ্যমে নেটফ্লিক্স পুরো সংবাদ ও বিনোদন জগৎ বদলে দেয়।
তাদের এ পদক্ষেপটিই প্রথাগত মিডিয়া ও প্রযুক্তি জায়ান্টদের মধ্যে দর্শক ধরে রাখার এক তীব্র প্রতিযোগিতার সূচনা করে।
এর আগে, ২০২৩ সালে নেটফ্লিক্সের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান হেস্টিংস।
তার বিদায়বেলায় পিটার্স বলেছেন, “রিড সবসময়ই নেটফ্লিক্সের প্রতিষ্ঠাতা এবং এর সবচেয়ে বড় সমর্থক হয়ে থাকবেন। তিনি আমাদের ডিএনএর অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
বিনিয়োগকারীদের কাছে লেখা চিঠিতে নেটফ্লিক্স বলেছে, তাদের লক্ষ্য ‘উচ্চাভিলাষী ও অপরিবর্তিত’, যা বিশ্বের মানুষকে বিনোদন দেওয়া এবং বিভিন্ন রুচি, সংস্কৃতি ও ভাষার চলচ্চিত্র ও সিরিজ সরবরাহ করা।
কোম্পানিটির পুরো বছরের আর্থিক পূর্বাভাসও অপরিবর্তিত রয়েছে।
‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স মুভি স্টুডিও’ এবং ‘এইচবিও’ কেনার লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর নেটফ্লিক্স ২৮০ কোটি ডলারের এক ‘টার্মিনেশন ফি’ পেয়েছে। তবে এ মোটা অংকের অর্থ তারা কীভাবে ব্যয় করবে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি কোম্পানিটি।
গেল ডিসেম্বরে ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ কেনার চেষ্টা করেছিল নেটফ্লিক্স। তবে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এতে ‘প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স’-এর জন্য স্টুডিওটি অধিগ্রহণের পথ খুলে যায়।
১১ হাজার কোটি ডলারের এ চুক্তিটি দুটি মিডিয়া জায়ান্টের মধ্যে চলা দীর্ঘ কয়েক মাসের লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়েছে। এ সময়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও চাপ বাড়ছিল। কারণ হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই প্যারামাউন্টের প্রস্তাবটিকে বেশি পছন্দ করছিলেন।
প্যারামাউন্ট পরিচালনা করছেন ডেভিড এলিসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক ল্যারি এলিসনের ছেলে তিনি।