Published : 19 Sep 2025, 03:33 PM
জিমি কিমেলকে ঘিরে চলমান বিতর্কে নিজেদের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে হ্যাকিং দল অ্যানোনিমাস।
রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির প্রচারক চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিমেলের মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর ডিজনি মালিকানাধীন এবিসি নিউজ বুধবার সন্ধ্যায় এই টক শো ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেয়। কিমেলকে বরখাস্তের পরই হ্যাকিং দলটি একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ইউনিল্যাড টেক।
এরইমধ্যে কমেডিয়ান কমেডিয়ান কিমেলকে নিজের অনুষ্ঠান ‘জিমি কিমেল লাইভ!’ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা দাবানলের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিতর্ক শুরু হয় ১০ সেপ্টেম্বর ‘ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটি’তে জনতার সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় কার্ক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার পর।
এ হত্যাকাণ্ডের দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ২২ বছর বয়সী টাইলার রবিনসন। পাশাপাশি তার সঙ্গে জড়িত এক ‘ডিসকর্ড’ গ্রুপ চ্যাটিং নিয়ে এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন’ বা এফবিআই।
এসব ঘটনার মধ্যেই সোমবার নিজের অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেন ও কার্কের মৃত্যুতে ট্রাম্প যেভাবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তা নিয়েও ঠাট্টা করেছেন কিমেল।
ওই অনুষ্ঠানে ৫৭ বছর বয়সী কিমেল বলেছিলেন, “কার্কের সন্দেহভাজন খুনিকে ‘নিজেদের গোষ্ঠীর বাইরের কেউ’ বানাতে ও এই হত্যাকাণ্ড থেকে ‘রাজনৈতিক ফায়দা’ নিতে ‘মাগা গ্যাং’ প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছে।”
৩১ বছর বয়সী রাজনৈতিক মিত্রের মৃত্যুতে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াকে ‘গোল্ডফিশের জন্য চার বছর বয়সী বাচ্চার শোক’ বলেও ব্যঙ্গ করেছেন কিমেল। তবে কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর কিমেল ইনস্টাগ্রামে ওই ঘটনার নিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা ব্যক্ত করেছিলেন।
এদিকে, কিমেলকে ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য নিজেদের নেটওয়ার্ক থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে ‘আমেরিকার জন্য ভালো খবর’ বলে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প।
এরপরই এ পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অ্যানোনিমাস। এ হ্যাকার দলটি সামাজিক বা রাজনৈতিকভাবে কোনো অন্যায়-অবিচার দেখলে অনলাইনে প্রতিবাদ ও সাইবার আক্রমণ চালানোর জন্য পরিচিত বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ইউনিল্যাড টেক।
হ্যাকার দলটি লিখেছে, “কিমেলকে টিভি শো থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কেবল এজন্য যে, তিনি এমন এক ভিডিও দেখিয়েছিলেন যেখানে, কার্কের ব্যাপারে একদম ভাবেন না ট্রাম্প। আর সেই সত্যিটা কিমেল ঠিকমতো সবাইকে দেখিয়েছেন। বুঝতে পেরেছি।”
এ পোস্টের সঙ্গে কিমেল যে ভিডিওটির কারণে সমস্যায় পড়েছেন সেই ভিডিওটিও শেয়ার করেছে হ্যাকিং দলটি। ভিডিওটি দ্রুতই অনেক ব্যবহারকারীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং অনেকে এতে সাড়াও দিয়েছেন।
এদিকে, কিমেলের অনুষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য লেখক, অভিনেতা এমনকী সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এ ঘটনা ‘মতের অমিলে কাউকে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতিকে’ নতুন ও বিপজ্জনক জায়গায় নিয়ে গিয়েছে।
অনেকেই একে মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া বাকস্বাধীনতার অধিকার খর্ব হিসেবে দেখছেন এবং বিভিন্ন টিভি নেটওয়ার্কের হোস্টরাও কিমেলের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।