সিক্সজি প্রযুক্তিতে ২০০ গিগাবিট গতির নতুন রেকর্ড
প্রযুক্তিটি মূলত অতিমাত্রায় উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে কাজ করে, যার ফ্রিকোয়েন্সির হার প্রায় একশ ৬০ গিগাহার্টজ।
তার ছাড়াই প্রতি সেকেন্ড দুইশো গিগাবিট গতিতে ডেটা পাঠানোর মতো প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষক, যা পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি সিক্সজি তৈরিতে বড় এক পদক্ষেপ বলে দাবি তাদের।
এ উদ্ভাবনটি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি অর্থায়নে চলা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ বা ইটিআরআই। তারা গত বছরের শেষ দিকে তৈরি করা এক পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ মাইলফলক অর্জন করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ।
মোবাইল যোগাযোগ প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে গবেষকরা। সাব-টেরাহার্টজ ব্যান্ডে প্রায় একশ ৬০ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে তারা পরীক্ষামূলকভাবে দেখিয়েছেন, কীভাবে কয়েক সেকেন্ডেই বিপুল পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব।
এই ফ্রিকোয়েন্সি বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত ব্যান্ডের তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলে প্রচুর ডেটা বহন করা গেলেও সিগন্যাল খুব দূরে পৌঁছাতে পারে না। তাই ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হতে পারে সীমিত কভারেজ এলাকায়, যেমন কোনো ভবনের ভেতরে ক্ষুদ্র “পিকোসেল”-এ, অথবা উন্নত সেন্সিং সিস্টেমে যেখানে বড় ব্যান্ডউইডথই মূল সুবিধা।
রেকর্ড গতির এই ডেটা ট্রান্সফারের জন্য গবেষকরা ব্যবহার করেছেন ‘কোঅর্ডিনেটেড মাল্টি পয়েন্ট’ বা কোএমপি নামের একটি পদ্ধতি। এতে একাধিক রেডিও ইউনিট একই ফ্রিকোয়েন্সিতে আলাদা আলাদা ডেটা স্ট্রিম পাঠায়, যা পরে একটি রিসিভিং টার্মিনাল একত্র করে নেয়।
এ পদ্ধতিতে একাধিক রেডিও ইউনিট একই ফ্রিকোয়েন্সিতে আলাদা আলাদা ডেটার স্ট্রিম পাঠায়, যেগুলো পরে কেবল রিসিভার বা গ্রাহক যন্ত্রের মাধ্যমে একসঙ্গে করা হয়।
প্রদর্শনীতে চারটি রেডিও ইউনিট ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ইউনিট সিগন্যালের অনুভূমিক এবং উল্লম্ব পোলারাইজেশন কাজে লাগিয়ে দুই স্তরের ডেটা পাঠাতে সক্ষম হয়। ফলে প্রতিটি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৫০ গিগাবিট পার সেকেন্ড গতিতে ডেটা আদান-প্রদান সম্ভব হয়, আর চারটি ইউনিট একত্রে যুক্ত হলে গতি পৌঁছে যায় দুইশ গিগাবিট পার সেকেন্ডে।
এখানে রিসিভারের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারা ব্যবহার করেছে ‘পোলারাইজেশন-ভিত্তিক বিমফর্মিং’ প্রযুক্তি, যা সিগন্যালের ভিন্ন ভিন্ন পোলারাইজেশন আলাদা করে দেয় এবং হস্তক্ষেপ কমিয়ে আনে। ফলে একই সঙ্গে একাধিক ডেটা স্ট্রিম গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে।
ভবিষ্যতের ৬জি প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে গবেষকরা শুধু নতুন ব্যান্ডউইডথেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। বিপুল পরিমাণ তথ্য ব্যবস্থাপনা করার জন্য তারা তৈরি করেছেন নতুন ধরনের এনকোডিং ও ডিকোডিং পদ্ধতি, যা আগের সিস্টেমের তুলনায় চারগুণ বেশি ডেটা প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম।
প্রদর্শনীতে একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে ৬জি-র জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত কয়েকটি মূল প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে, কোএমপি ট্রান্সমিশন, সাব-টেরাহার্টজ পোলারাইজেশন এমআইএমও এবং উন্নত চ্যানেল কোডিং। এই সমন্বয় দেখিয়েছে, ৬জি একদিন আজকের ৫জি নেটওয়ার্কের চেয়ে কয়েকশ’ গুণ দ্রুত গতিতে ডেটা সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
ইট্রি’র টেরেস্ট্রিয়াল অ্যান্ড নন-টেরেস্ট্রিয়াল ইন্টিগ্রেটেড টেলিকমিউনিকেশনস রিসার্চ ল্যাবরেটরির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ংসুন বেক বলেছেন, এই সাফল্য “৬জি প্রযুক্তিতে কোরিয়ার নেতৃত্ব প্রমাণ করে।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক পর্যায়ে ৬জি স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ও বাণিজ্যিক প্রয়োগের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
ইট্রি ২০২০ সাল থেকেই তাদের ৬জি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং সে বছরই প্রকাশ করে প্রথম হোয়াইট পেপার। এখন ২০০ গিগাবিট পার সেকেন্ডের এই প্রদর্শনী দক্ষিণ কোরিয়াকে আবারও মোবাইল যোগাযোগ গবেষণার অগ্রভাগে নিয়ে এসেছে। গবেষকদের আশা, ৬জি বাস্তবায়িত হলে স্মার্ট সিটির অতিদ্রুত ডেটা শেয়ারিং থেকে শুরু করে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো অভিজ্ঞতা একেবারে নতুন মাত্রা পাবে।
